কবি নজরুল সরকারি কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

১৬ মার্চ ২০২১ (কবি নজরুল কলেজ প্রতিনিধি): ১৮৭৪ সালে হাজী মোহাম্মদ মহসীন ফান্ডের আর্থিক সহায়তায় ঢাকায় কলকাতা মাদ্রাসার আদলে মহসিনিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ঢাকা মাদ্রাসা নামে প্রসিদ্ধ ছিল। চারবার নাম পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে ১৯৭২ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামানুসারে নতুন নামকরণ হয় ‘কবি নজরুল সরকারি কলেজ’। কবি নজরুল সরকারি কলেজ সংক্ষিপ্ত আকারে পরিচিত কেএনজিসি নামে।

কলেজের প্রথম ভবন

১৯১৫ সালের ১৬ নভেম্বর সরকারি আদেশে মাদ্রাসার ব্যয় ভার বহন করার দায়িত্ব বাংলার সরকারের ওপর ন্যস্ত করা হয়। ১৮৮০ সালে প্রথম অধ্যক্ষ মওলানা ওবায়দুল্লাহ আল ওবায়দীর তত্বাবধানে মুসলিম স্হাপত্যরীতি অনুযায়ী মাদ্রাসা ভবন তৈরি করা হয়।

মাদ্রাসায় সাতটি শ্রেণি ছিল। আরবি বিভাগে শুধু আরবি শিক্ষার্থীরা পড়তেন। ইংরেজি বিভাগে (পরবর্তীতে অ্যাংলো পারসিয়ান বিভাগ) ইংরেজি শিক্ষার্থীরা পড়তেন। ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মাদ্রাসার ৩৩৮ জন ছাত্রের মধ্যে ২০২ জন ছাত্রই ছিল অ্যাংলো পারসিয়ান বিভাগের। ১৯১৫ সালে সরকার মাদ্রাসায় নিউ স্কিম পদ্ধতির শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করে। ফলে ঢাকা মাদ্রাসা হাই মাদ্রাসায় পরিণত হয়। ১৯১৬ সালে অ্যাংলো পারসিয়ান বিভাগ আলাদা হয়ে ঢাকা গভর্নমেন্ট মুসলিম হাই স্কুল হয়।

তখন ঢাকা মাদ্রাসা এতোটাই জনপ্রিয় ছিল যে, দূর-দূরান্তের মুসলিম শিক্ষার্থীদের একমাত্র লক্ষ্যই ছিল ঢাকা মাদ্রাসা। ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ছাত্র ভর্তি না হওয়ায় ১৯২৩ সালে ঢাকা মাদ্রাসাকে ইসলামিক ইন্টারমেডিয়েট কলেজে রূপান্তরিত করা হয়।

১৯৫৮ সালের জাতীয় শিক্ষা কমিশনের সুপারিশে ১৯৬২ সালে মাদ্রাসা তুলে দিয়ে মাদ্রাসার ক্লাসগুলোকে মাধ্যমিক ক্লাসে পরিণত করা হয়। পরে ঢাকা মাদ্রাসা পরিচিতি লাভ করে ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজের স্কুল বিভাগ হিসাবে। এরপর ১৯৬৮ সালে কলেজ থেকে স্কুল আলাদা হয়ে গিয়ে নাম হয় ‘ইসলামিয়া সরকারি হাই স্কুল, ঢাকা’। কলেজের প্রধান ভবনের নিচতলায় উত্তর-পূব পাশে এই স্কুলের কার্যক্রম এখনও চলছে। ১৯৬৮ সালে স্কুল আলাদা হয়ে যাওয়ার পর কলেজের নামও পাল্টিয়ে রাখা হয় ‘সরকারি ইসলামিয়া কলেজ, ঢাকা’। ১৯৭২ সালে আবারও নাম পরিবর্তন করা হয়। রাখা হয় ‘কবি নজরুল সরকারি কলেজ’। বর্তমানে এ নামেই পরিচিত হয়ে আসছে কলেজটি।

১৯৭৪ সালে ১৬৯ জন ছাত্র নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ৩৩ হাজারের বেশি। বর্তমানে কলেজটি ১৮ একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত। ১৯৯২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত কলেজটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত থাকলেও ২০১৭ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়। কলেজে শিক্ষক কর্মকর্তা ১০৯ জন এবং প্রাশাসনিক কর্মী ১৪৮ জন। ছাত্রদের জন্য একটি আবাসিক ছাত্রাবাস রয়েছে।

এখানে উচ্চ মাধ্যমিক পাঠক্রমের সাথে সাথে স্নাতক (বিএ, বিবিএ, বিএসসি) ও স্নাতকোত্তর (এমএ, এমবিএ, এমএসসি) পর্যায়ে মোট ১৯টি বিষয় শিক্ষাদান চলছে।

এছাড়াও রয়েছে বিতর্ক ক্লাব, সাংবাদিক সমিতি, সাহিত্য সংসদ, নাট্য সংসদ, ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট ও রোভার স্কাউটস। এছাড়া ২০১৯ সালে কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা গড়ে তুলেছেন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। গঠন করা হয়েছে ৭১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি।

বর্তমানে এই কলেজের ৫০তম অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক আমেনা বেগম। করোনা পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কোন বিশেষ আয়োজন না থাকায় শিক্ষাঙ্গণটি মেতে উঠছে না আনন্দ উল্লাসে। তবুও শিক্ষার্থীদের একটাই চাওয়া প্রাণ ফিরে পাক প্রাণের কবি নজরুল সরকারি কলেজ।

কবি নজরুল কলেজ/এসকেএম/আরএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *