জাতীয় পার্টি পরগাছা নয়

১৩ মার্চ ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, জাতীয় পার্টি কখনই পরগাছা হয়ে রাজনীতি করবে না। জাতীয় পার্টির নিজস্ব রাজনীতি আছে। নিজস্ব স্বকীয়তা নিয়েই রাজনীতির মাঠে এগিয়ে যাবে।

শনিবার দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান-এর বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি কোন জোটে নেই। বর্তমানে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে চায় না, জাতীয় পার্টিও আওয়ামী লীগকে চায় না। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সাথেও আমাদের কোন যোগাযোগ নেই।

জিএম কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশকে জুলুমখানায় পরিণত করেছে। আমরা দেশের মানুষকে সব জুলুম নির্যাতন থেকে মুক্তি দিব। আমরা বিরোধী দলে আছি। সব পরিস্থিতি মোকাবেলা করে আমরা দেশের মানুষের পক্ষে কথা বলবো।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ১৯৯১ সালের পর থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। দুটি দলই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, দুর্নীতি ও দলীয়করণের মাধ্যমে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। দেশের মানুষের অধিকার হরণ করে দেশের মানুষকে জিম্মি করেছে।

তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের পর থেকে দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সুশাসন নির্বাসনে দিয়েছে। দুর্নীতি ও দলীয়করণের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ-বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কবর দিয়েছে। সব স্তরে দলীয়করণের মাধ্যমে লুটপাটের মাধ্যমে টাকার পাহাড় গড়েছে দুই দলের নেতা-কর্মীরা। তারা হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে বিদেশে বিলাসী জীবন যাপন করে। ছোটখাটো নির্বাচনে তারা কোটি কোটি টাকা নিয়ে মাঠে নামে।

জিএম কাদের বলেন, দেশের মানুষ আর আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে চায় না। কারণ, তারা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। দেশের মানুষ দিশেহারা, তারা এই দুটি দলের হাত থেকে মুক্তি চায়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশে দুঃশাসন সৃষ্টি করেছে। আমরা দেশের মানুষের জন্য প্রকৃত গণতন্ত্র উপহার দেবো।

বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেন, ১৯৯১ সালের পর সংবিধান সংশোধন করে সাংবিধানিকভাবেই একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি স্তম্ভের মধ্যে সরকার প্রধানের হাতে নির্বাহী বিভাগ ও আইন সভা আর রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে বিচার বিভাগের নিরানব্বই ভাগই সরকার প্রধানের হাতে। তাই সরকার প্রধান যা চান, তাই হচ্ছে। এটাকে গণতন্ত্র বলা চলে না। দুর্নীতি ও দলীয়করণের মাধ্যমে একনায়কতন্ত্র এখন স্বৈরতন্ত্রের পর্যায়ে। সরকারী দল না করলে এখন আর কেউ চাকরি পায় না। ব্যবসা করতে পারে না। সরকার দলীয়দের জন্য এক ধরনের আইন আর অন্যদের জন্য আলাদা আইন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি স্পষ্ট বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। অথচ এই বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতেই আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল। স্বাধীনতার আগে পশ্চিম পাকিস্তানিরা বৈষম্য সৃষ্টি করেছিল। এখন বৈষম্য সৃষ্টি করেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। আমরা মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। দেশের মানুষ ভোট দিতে পারলে কখনোই ভুল করে না।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিটি নির্বাচনে যাবে। চ্যালেঞ্জ ছাড়া কোন নির্বাচনেই কাউকে ছেড়ে দেয়া হবে না। তবে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিষয়ে দলের সর্বোচ্চ ফোরাম প্রেসিডিয়াম সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

অনুষ্ঠানে দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, দেশে আইনের শাসন নেই। নির্যাতনের শিকার লেখক মুশতাক জেলখানায় মারা গেছেন। নির্যাতিত কর্টিুনিস্ট কিশোর জামিন পেয়েছে মুশতাকের মৃত্যুর পরে। দেশের মা-বোনরা ধর্ষিত হচ্ছে। বিচার পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, শুধু ভৌগলিক স্বাধীনতার জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়নি। বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতার জন্যই আমাদের একাত্তরের মুক্তি সংগ্রাম। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মানুষের বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করেছে।

বাবলু বলেন, দেশের প্রশাসন দুর্নীতিতে নিমজ্জিত, নির্বাচন কমিশন বর্তমানে ঠুঁটো জগন্নাথ। আওয়ামী লীগ এখন সরকারে আছে, আওয়ামী লীগ এখন আর কোন রাজনৈতিক দল নয়। আওয়ামী লীগ দেশে ফ্যাসিবাদ চালু করেছে। বসুরহাটের মত ভাগাভাগি নিয়ে সারাদেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে আওয়ামী লীগ। ফরিদপুরের উপজেলা পর্যায়ের নেতারাও বিদেশে হাজার কোটি টাকা পাচার করে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য জাতীয় পার্টি নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে আহ্বান জানান জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু।

সভায় আরও বক্তৃতা করেন কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চেয়ারম্যানের বিশেষ সহকারি মীর আব্দুস সবুর আসুদ, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, মোহাম্মদ নোমান মিয়া, আমির উদ্দিন আহমেদ ঢালু, মোহাম্মদ শামসুল হক, অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ভাসানীসহ অন্যরা।

জাপা/এসকেএম/আরএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *