শাল্লার ঘটনা ষড়যন্ত্রের অংশ

১৯ মার্চ ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): সুনামগঞ্জের শাল্লায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ডক্টর হাছান মাহমুদ।

শুক্রবার আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের ৮ম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।

ডক্টর হাছান বলেন, দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, সমগ্র বিশ্ব যখন বাংলাদেশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান যখন সফরে আসছেন, মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশের এগিয়ে যাওয়া নিয়ে বক্তব্য রাখছেন, তখন নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে তারা ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। তারা সুনামগঞ্জের শাল্লায় সংখঘুদের ওপর যে হামলা করেছে। এটি ষড়যন্ত্রেরই অংশ’।

তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিব এবিষয়ে তড়িঘড়ি বিবৃতিতে নানা কথা বলেছেন। আমি মির্জা ফখরুলকে পেছনে তাকাতে এবং আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখতে বলব। ২০০১ সালে নির্বাচনের পর কোটালীপাড়া, আগৈলঝড়া, সিরাজগঞ্জ, ভোলাসহ সারাদেশের নানা জায়গায় পুরও গ্রাম ঘেরাও করে সংখ্যালঘুদের ওপর এতো নির্যাতন হয়েছিল যে আমাদের ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কার্যালয়ে লঙ্গরখানা খুলতে হয়েছিল।

মন্ত্রী বলেন, তাদের ক্ষোভ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ আওয়ামী লীগ সমর্থন করে। তা করে আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার জন্য।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি আমাদের প্রথম পরিচয় বাঙালি, তারপর হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা ধর্মীয় পরিচয়। আর তারা মনে করে প্রথমে ধর্মীয় পরিচয় আর তারপর বাঙালি না বাংলাদেশী তাও তারা বলতে পারে না।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্র বলেন, বিএনপির উচিত অপরাজনীতি পথ থেকে সরে আসা। ষড়যন্ত্র-অপরাজনীতির পথ থেকে সরে না আসলে বিএনপিকে আগেও জনগণ ক্ষমা করে নাই, এখনও করবে না।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান বলেন, ভদ্রতা আর সুআচরণের প্রতীক জিল্লুর রহমান রাজনীতিকে ব্রত হিসেবেই নিয়েছিলেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রথম কাউন্সিলে তিনি কাউন্সিলর ছিলেন। সেই থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে বুকে ধারণ করে নেতার প্রতি অবিচল আস্থায় তিনি কাজ করেছেন। অত্যন্ত আস্থাভাজন হওয়ায় বঙ্গবন্ধু তাকে দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছিলেন এমনকি বাকশাল গঠনের পর জিল্লুর রহমানকে এক নম্বর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেন।

ডক্টর হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সাথেও সেই অবিচল আস্থার সাথে কাজ করেছেন। বারবার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। দলের দুঃসময়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলকে সুসংহত রাখতে তার ভূমিকা ছিল অনন্য।

আওয়ামী লীগ নেতা এম এ করিমের সভাপতিত্বে ও ‘জিল্লুর রহমান পরিষদ’ এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান খোকার পরিচালনায় দলীয় নেতা অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, স্বাধীনতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন টয়েল, যুবলীগ নেতা মানিক লাল ঘোষ এবং মোহাম্মদ সেলিম রেজাও সভায় বক্তব্য রাখেন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী/এসকেএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *