
শিল্পী নাজিব তারেক
নাজিব তারেক: এই কোভিডে চিত্রকরেরা বা শিল্পীরা কতটা বিপদে আছেন? আর সব মানুষের মতই তারাও বিপদে আছেন। এখন প্রশ্নটি হলো কে কেমন বিপদে আছেন? সে প্রশ্নের সঠিক জবাব খুঁজতে গেলে একটু চোখ কান খুলে জবাব খুঁজতে হবে।
শিল্পীরাও তিন শ্রেণীর:
১) এলিট বা অভিজাত: এলিটেরা আবার দুই প্রকার;
ক) সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক: বিভিন্ন গ্যালারীতে যে সব প্রদর্শনী হয় তা মূলত এলিট চিত্রকরদের। এদের এই সব প্রদর্শনী লব্ধ অর্থ আসলে সৎপথে অতিরিক্ত আয়। তাই কোভিড তাদের তেমন বিপদাপন্ন করেনি। কিছু বিলাসিতা হয়তো তারা করতে পারছেন না।
খ) ক্ষমতাশালীদের (সরকারি ও বেসরকারি তথা চিরবিরোধী দলের) পছন্দের জনেরা: বিভিন্ন গ্যালারীতে যে সব প্রদর্শনী হয় তাতেও এইসব এলিটেরা থাকেন।
তো বিভিন্ন অনলাইন প্রদর্শনী চলছে। তাতে আয়োজক গ্যালারী যেমন নিজেদের বাঁচিয়ে রাখছে, তেমনি এলিটেরাও আছেন মন্দ নয়।
২) মধ্যবিত্ত (মধ্যবৃত্ত):
ক) সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসের কন্ট্রিবিউটিং ডিজাইনার, প্রকাশনার বইয়ের প্রচ্ছদকারী, বিভিন্ন অ্যাড এজেন্সিতে ক্ষ্যাপ মারনেওয়ালা… ইত্যাদি। এদেরই আর এক অংশ বিভিন্ন ছবি আঁকার স্কুল চালিয়ে জীবন যাপন করেন। আর এক অংশ কেবল জন্ম নিচ্ছিল; নিজস্ব স্টুডিও নির্ভর চিত্রকর। এরা সংখ্যায় খুব কম। কোভিডে এনারা ছিন্ন ভিন্ন। কেউ কেউ কোন রকম টিকে আছেন। কেউ ফতুর হওয়ার পথে। আরও ক’দিন কোভিড পরিস্থিতি চললে এনাদের বিশাল অংশ এতোটাই নিশ্চিহ্ন হবেন যে, নিম্নবিত্ত হওয়ারও সুযোগ এদের থাকবে না। নিঃস্ব শ্রেণির প্রত্যাবর্তন ঘটবে। এনাদের টিকে থাকার এখন একটাই উপায়, নিম্নবিত্ত হয়ে যাওয়া। কিন্তু এরা সংখ্যায় এতো বেশি যে এরা যদি নিম্নবিত্তে ঢুকে পড়েন তাহলে আর এক বিপর্যয় দেখা দেবে।
খ) বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্কুল, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিভিন্ন অ্যাড এজেন্সি ও গণমাধ্যমে চাকুরীরত জন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত, সৌখিন ও গৃহবধুরা। আয় ব্যয়ের হিসেবে এরা প্রত্যেকেই আলাদা। যারা ছবি আঁকেন তারা অনলাইন প্রদর্শনীর সুবাদে কেউ কেউ গণপরিচিতি পাচ্ছেন।
৩) নিম্নবিত্ত (নিম্নবৃত্ত):
গুলশান, বনানী, নিউ মার্কেট ও অনলাইন মার্কেট প্লেসে ছবি বিক্রির দোকানে ছবি উৎপাদন ও সরবরাহকারী এবং বিভিন্ন দোকানে জামাকাপড় ও বিভিন্ন কারু সামগ্রী উৎপাদন ও সরবরাহকারী। এনাদের অবস্থা মধ্যবিত্তের মত ভয়াবহ নয়, তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো আছেন তারা।
আরও পড়ুন: শিশুশিল্পী মুগলির কৃতিত্ব
বিশেষ দ্রষ্টব্য: স্বাধীন ছবি আঁকা বা শিল্প বা আর্ট বিষয়টি দারিদ্র কিংবা ধন নির্ভর নয়। শিল্পীর শৈল্পিক সংগ্রাম বা যাতনা নির্ভর। এলিট শিল্পীও মহৎ শিল্প রচনা করতে পারেন, নিম্নবিত্ত শিল্পীও মহৎ শিল্প রচনা করতে পারেন। তবে সবসময় সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী মধ্যবিত্তের। কার্ল মার্কস তাই বুর্জোয়া বা মধ্যবিত্তের বিপ্লবের উপর ভরসা করেন।
লেখক পরিচিতি: নাজিব তারেক; চিত্রশিল্পী।
















Leave a Reply