৪ ডিসেম্বর ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৯ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তাদের বহিষ্কার করা হয়।
শনিবার সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয় বলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞাপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কুয়েট প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সভায় উত্থাপন করা হয়। ২ ও ৩ ডিসেম্বর ৭৬তম এ জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে আরও বলা হয়, সিসিটিভির ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যাদি পর্যালোচনা করে বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির আলোকে অসদাচরণের আওতায় সিন্ডিকেট ৯ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে, কুয়েটের শিক্ষক অধ্যাপক সেলিম হোসেনের মৃত্যুর জেরে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকিট্রক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সেলিম হোসেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছে মারা যান। অভিযোগ উঠেছে, সেদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের লাঞ্ছনা ও অপদস্থের শিকার হওয়ার পর তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন।
এ সংক্রান্ত কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী ক্যাম্পাসের রাস্তায় ডক্টর সেলিম হোসেনের সাথে খারাপ আচরণ করছেন।
এরপর বাসায় ফেরেন ডক্টর সেলিম। বাসায় ফেরার পর বাথরুমে যান তিনি। বেলা আড়াইটার দিকে তার স্ত্রী লক্ষ্য করেন, দীর্ঘ সময় হলেও সেলিম হোসেন বের হচ্ছেন না। পরে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে বুধবার (১ ডিসেম্বর) উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করেন শিক্ষার্থীরা। তারা ৫ দফা দাবি জানান। পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবিতে কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন শিক্ষকরা।
কুয়েট/এসকেএম
আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে:
















Leave a Reply