১ সেপ্টেম্বর ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): চিত্রনায়িকা পরীমনির মামলার ক্ষেত্রে রিমান্ডের অপব্যবহার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মোস্তফা জামান ও বিচারপতি কেএম জাহিদ সারওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল বেঞ্চ। আদালত বলেছেন, পরীমনির মামলায় তৃতীয় দফা রিমান্ডের প্রয়োজন ছিল না। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবেদন করলেন আর বিচারক (মেজিস্ট্র্যাট) রিমান্ড মঞ্জুর করলেন, এটাতো সভ্য সমাজে চলতে পারে না।
বুধবার পরীমনির মামলায় মহানগর দায়রা জজ আদালতের দেয়া জামিন আবেদন তারিখ ইস্যুতে হাইকোর্টে করা আবেদন বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ডিভিশন বেঞ্চ এমন মন্তব্য করে।
উল্লেখ্য, পরীমনির জামিন আবেদন শুনানী ১৩ সেপ্টেম্বর ধার্য্য হয়েছিল মহানগর দায়রা জজ আদালতে। পরীমনি এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ‘নিম্ন আদালতের ওই আদেশ কেন বাতিল করা হবে না’ জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করে। একইসাথে পরীমনির জামিন আবেদনের শুনানি দুই দিনের মধ্যে করার নির্দেশ কেন যো হবে না… রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়।

পরীমনির ইনস্টাগ্রাম থেকে নেয়া ছবি
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর নির্বাহী সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না শুনানীতে বলেন, রিমান্ডে নেয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা আছে। সেই নির্দেশনা অনুসরণ না করে পরীমনিকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। রিমান্ডের ক্ষেত্রে যেন সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা নিম্ন আদালত অনুসরণ করেন, টটিই প্রার্থনা।
আদালত বলেন, এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন আছে। এরপরও তা শুনছেন না।
পরীমনির আইনজীবীর উদ্দেশে আদালত বলেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেয়ার বিষয়ে কিছু বলতে চান?
আইনজীবী মজিবুর রহমান বলেন, তৃতীয় দফায় রিমান্ডের ক্ষেত্রে পৌজদারি দণ্ডবিধির ১৬৭ ধারা ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মানা হয়নি।
এ সময় আদালতের প্রশ্নের জবাবে মজিবুর রহমান জানান, প্রথম দফায় চারদিন, দ্বিতীয় দফায় দুই দিন ও তৃতীয় দফায় একদিন রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য শুনতে চান আদালত। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবু ইয়াহিয়া দুলাল বলেন, পরীমনিকে তিনবার রিমান্ডে নেয়ার যৌক্তিকতা দেখি না।
আরও পড়ুন: মুক্তি পেলেন পরীমনি
পরে, সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান বলেন, আবেদনে জামিন সংক্রান্ত অংশটুকু অকার্যকর হয়ে গেছে। তাকে রিমান্ডে নেয়া নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযুক্ত আবেদনকারীকে (পরীমনি) তিনবার রিমান্ডে নেয়া হয়। ইতোমধ্যেই রিমান্ড শেষ হয়ে গেছে।
এক পর্যায়ে আদালত বলেন, রিমান্ডে নাই। তবে রিমান্ডে নেয়ার কি উপাদান ছিল, এর জবাব দেখতে চাই। আপনি ক্ষমতার অপব্যবহার করলেন, কেন করলেন?
পরীমনি/আরএম/রমু
আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে:
















Leave a Reply