ফলের নাম ত্বীন

ফিচার: ত্বীন ডুমুর জাতীয় ফল। ত্বীনকে আঞ্জির নামেও ডাকা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Ficus carica। ফাইকাস দলভুক্ত ৮০০ প্রজাতির মধ্যে এই ত্বীন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে যে ডুমুর হয়, সেগুলো সাধারণত কাকডুমুর। আকারে ছোট এবং পাখির খাবার হিসেবেই সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে। কোন কোন গ্রাম এলাকায় এই কাকডুমুর কাচা অবস্থায় সংগ্রহ করে সিদ্ধ করে বেটে চিংড়ি মাছ দিয়ে তেলে ভুনা করে খাওয়া হয়।

ত্বীন দেশীয় কাকডুমুর থেকে আকারে বড় হয়। এর ঘ্রাণ ও স্বাদ অনেকটা পাকা আবরদেশীয় খেজুরের মত। স্বাদে সুমিষ্ট, খুবই সুস্বাদু এবং রসালো। এক কথায় ঘ্রাণে, স্বাদে আর পুষ্টিগুণে সেরা ফল ত্বীন। ত্বীন গাছ তিন থেকে দশ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। গাছটি ঘন এবং খসখসে পাতায় ভরপুর থাকে।

কুরআন শরীফে ত্বীন নামে একটি সুরা আছে। আল্লাহ্ ত্বীন ফলের নামে কসম খেয়েছেন। হযরত আদম (আ.) ও বিবি হাওয়া (আ.) জান্নাতে থাকাকালে আল্লাহর নিষেধ অমান্য করে গন্ধম খাওয়ার পর যখন বস্ত্রহীন হয়ে পরেছিলেন তখন এই ত্বীন ফলের পাতা দিয়েই তারা লজ্জা নিবারন করেন। তাই বলা যায় ত্বীন একটি জান্নাতী ফল। রাসুল (সা.) ত্বীন ফল অনুসারীদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়ার সময় বলতেন, ‘এটি খাও, কারণ এতে অনেক রোগের ঔষধ রয়েছে।’

বিস্ময়কর হলেও সত্যি, ত্বীন ফলের উপকারিতা সম্পর্কে মেডিক্যাল সায়েন্সে প্রমানিত অনেক রিপোর্ট আছে। ভিটামনি-এ, বি, সি, কে ছাড়াও এই ফলের মধ্যে আছে কার্বোহাইড্রেট, সুগার, ফ্যাট, প্রোটিন, থায়ামিন, রিবোফ্লাবিন, ক্যালসিয়াম এবং আয়রন-সহ নানাবিধ পুষ্টিগুণ। পুষ্টিগুণের পাশাপাশি এটির বহুবিধ ওষুধি গুণও রয়েছে। ত্বীন ফল দিয়ে জ্যাম, জ্যালি, চাটনি ইত্যাদি তৈরি করে খাওয়া যায়।

ত্বীন পৃথিবীর অনেক দেশে চাষ হয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য এবং পশ্চিম এশিয়ায় এটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হয় এবং এটি হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। আফগানিস্তান থেকে পর্তুগাল পর্যন্ত এই ফলের বাণিজ্যিক চাষ হয়ে থাকে। এর আদি নিবাস মধ্যপ্রাচ্য। সবচেয়ে বেশি চাষ হয় তুরস্কে। বৎসরে তিন লাখ টনের বেশি উৎপাদন হয় সেখানে। এরপরেই আছে মিশর, মরক্কো, আলজেরিয়া, ইরান এবং সিরিয়া।

ত্বীন/এএমএম/টিটি

আরও খবর জানতে: http://artnewsbd.com

আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল : ARTNews BD