বন্ধ হয়ে গেল চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল

ছাত্র ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের। ছাত্রলীগের ব্যানারে ছাত্র সংসদের (ঢামেকসু) সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে পাড়ি জমান সুইডেনে। সেখানেও যুক্ত ছিলেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে। সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। মানবিক এ মানুষটির নাম বিদ্যুৎ বড়ুয়া। করোনাকালে চট্টগ্রামে গড়ে তুলেছিলেন ‘চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল’। রোগী ও অর্থের অভাবে সোমবার থেকে হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে গেছে।

৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হলো। এরপর এর সংক্রমণ বেড়েই চলছিল। সংক্রমণরোধে সরকার ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলো। তবু সংক্রমণ ঠেকানো গেল না। দিন দিন কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা তখন বাড়ছে। ঢাকার সাথে পাল্লা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে রোগী বাড়তে লাগলো।

রোগীর সংখ্যা যখন বাড়ছে, অনেক হাসপাতালেই তখন করোনার উপসর্গ নিয়ে যাওয়া রোগীদের চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়। এমনকি অন্য রোগে আক্রান্তরাও চিকিৎসা পাচ্ছিলেন না।

ডাক্তার বিদ্যুৎ বড়ুয়া মহামারী শুরুর আগেই দেশে এসেছিলেন। তিনি করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসার কথা ভাবলেন। তিনি ফিল্ড হাসপাতাল গড়ে তোলার আহ্বান জানালেন। গড়ে তুললেন ফেসবুক গ্রুপ। তার মাধ্যমে সংগঠিত করলেন ডাক্তার, নার্স ও স্বেচ্ছাসেবীদের। বললেন, এক লাখ মানুষ মাত্র ১০০ টাকা করে দিলেই এক কোটি টাকার ফান্ড তৈরি হতে পারে। যা দিয়ে হাসপাতাল গড়ে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়া সম্ভব।

এই অসম্ভব কাজটি সম্ভব হলো ডাক্তার বিদ্যুৎ বড়ুয়ার অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতায়। সমাজের বিত্তবান, মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে রিকশাচালক, দিনমজুররাও যার যার সামর্থ্য নিয়ে এগিয়ে এলেন। গড়ে উঠলো চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল।

খুব অল্প সময়ের প্রস্তুতিতেই চিকিৎসা সেবা শুরু হয় চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালে। হাসপাতালের কার্যক্রম সন্তোষজনক হওয়ায় নাভানা গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় চিকিৎসক নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার ফিল্ড হাসপাতালেও ৪ জনকে নিয়োগ দেয়। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানও এগিয়ে আসে ফিল্ড হাসপাতালের পাশে।

করোনা আক্রান্ত রোগী ও করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল ভায়োডিন যুক্ত নাকের ড্রপ তৈরী করেছে। যা খুবই কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত।

জনগণের সরাসরি অর্থ সহায়তা নিয়ে হাসপাতালটি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা রোগীদের সেবা দেয়া শুরু করেছিল ২১ এপ্রিল থেকে। ৪ মাস ১০ দিনে হাসপাতালের আউটডোর ও ভর্তি হওয়া করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত এক হাজার ৬১২ জনের চিকিৎসা দিয়েছে। হাসপাতালটিতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন ৩৫ জন।

হাসপাতালটির উদ্যোক্তা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বিদ্যুৎ বড়ুয়া জানান, রোগী না থাকা এবং দৈনন্দিন চিকিৎসা সেবা পরিচালনার জন্য অনুদান না থাকায় হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

রোববার এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এর কার্যক্রম আপাতত বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। সোমবার থেকে কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

ফিল্ড হাসপাতালের পক্ষ থেকে বিষয়টি চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালককে জানানো হয়েছে।

তবে প্রয়োজনে ফিল্ড হাসপাতাল আবার কাজ শুরু করতে পারে বলে জানিয়েছেন ডাক্তার বিদ্যুৎ বড়ুয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *