বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কযুক্ত সংবাদ পরিবেশনে যত্নবান থাকুন

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের সম্পর্কযুক্ত সংবাদ পরিবেশনে যত্নবান থাকার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডক্টর হাছান মাহমুদ।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ-ইমক্যাব আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের সম্পর্কযুক্ত সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে যত্নবান থাকতে হবে। যাতে ভুল, অসত্য কিংবা তথ্যনির্ভর নয় এমন কিছু দুই দেশের সম্পর্কে অহেতুক বিরূপ প্রভাব না ফেলে।

মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখেছি করোনা টিকা নিয়েও কিছু ভুল, অসত্য সংবাদ আমাদের দেশে এবং ভারতেরও কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে পরিবেশিত হয়েছে। যা দুই দেশের মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির উপক্রম করেছে। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সংবাদ সম্মেলনে তা নিরসন হয়েছে।

ইমক্যাব সভাপতি বাসুদেব ধরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার শ্রী বিক্রম দোরাইস্বামী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মুক্তিযোদ্ধা ও সিনিয়র সাংবাদিক হারুন হাবীব এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সবুজ।

তথ্যমন্ত্রী ডক্টর হাছান তার বক্তৃতায় গভীর কৃতজ্ঞতাভরে মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত শুধু আমাদের সহায়তাই করেনি, আমাদের মুক্তিকামী মানুষের সাথে ভারতের সেনাবাহিনী যুদ্ধ করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের সাথে ভারতের সেনাবাহিনীর সদস্যদের রক্তও মিশে আছে। বাংলাদেশের এক কোটি মানুষকে ভারত আশ্রয় দিয়েছিল। পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতে অনেক পরিবার তাদের ঘরের একটি বা দুইটি কক্ষ শরণার্থীদের জন্য ছেড়ে দিয়েছিল। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ভারতের মানুষের এই অবদান, ভারতের অবদান, ভারতের সেনাবাহিনীর আত্মদান বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

বঙ্গবন্ধু এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধু কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন। তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী শুধুমাত্র বাংলাদেশকে মুক্ত করার জন্য নয়, বঙ্গবন্ধুর ফাঁসির আদেশ হবার পর বঙ্গবন্ধুকে যাতে ফাঁসি দেয়া না হয়, সেজন্য এক দেশ থেকে আরেক দেশে এমন করে ৩০টি দেশ সফর করেছেন। বঙ্গবন্ধুর মুক্তির মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা পূর্ণতা লাভ করেছিল। এ অবদান কখনও ভোলার নয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর দূরদৃষ্টি ছিল বিধায় তিনি ১৯৭৪ মৈত্রী চুক্তি করেছিলেন। সেকারণেই কিন্তু আমরা ছিটমহলগুলো আমাদের অধিকারে আনতে পেরেছি। যদিও অনেকদিন এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। আজকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে আরও গভীরে প্রোথিত হয়েছে। আমাদের দুই দেশের মধ্যে যে আন্তঃসংযোগ সেটি ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমি মনে করি এটি এখনও যথেষ্ট নয়। আমাদের দুঃদেশের মানুষের মধ্যে যে আন্তঃসংযোগ, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এটিকে ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আগে যে পর্যায়ে ছিল আমাদেরকে আস্তে আস্তে ধীরে ধীরে সেই পর্যায়ে যাওয়া প্রয়োজন বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। তাহলে দুই দেশের মানুষ উপকৃত হবে। দুই দেশের অর্থনীতি উপকৃত হবে। আমরা সেই জায়গায় নিয়ে যেতে পারবো।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বিশ্বে প্রতিবেশি সর্ম্পকের দিক দিয়ে একটা উদাহরণ হবে বলে আশা প্রকাশ করে ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সময় থেকেই দুই দেশের সর্ম্পর্কের ভিত্তি গড়ে উঠেছে। দুই দেশের ক্ষেত্রে যা করতে হবে তা বঙ্গবন্ধু আগেই দেখিয়ে গেছেন। আমাদের নতুন করে কোন গাইডলাইনের দরকার নেই। দুই দেশের আশা আকাঙ্খা এক, কোন পার্থক্য নেই। জনগণ পর্যায়ে সম্পর্ক বাড়ে আমাদের সেদিকে নজর দিতে হবে। তাহলে সম্পর্ক টেকসই হবে।

যা আমাদের জন্য ভাল তা আপনাদের জন্য ভাল, আবার যা আপনাদের জন্য ভাল তা আমাদের জন্য ভাল, এই নীতিতে এগিয়ে যেতে হবে, সন্দেহের কোন জায়গা নেই। আমাদের অনেক পথ যেতে হবে উল্লেখ করে এক্ষেত্রে মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা ব্যক্ত করেন দোরাইস্বামী। খবর: বাসস।

তথ্যমন্ত্রী/এসকেএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *