আন্তর্জাতিক ডেস্ক (যুক্তরাষ্ট্র): দুজনেরই বাবা-মা বাংলাদেশি। কিন্তু তারা জন্মেছে ভিন্ন দুটি দেশে। অর্চিতা শ্বেতার জন্ম সিঙ্গাপুরে। অর্চিতার বাবা চন্দ্রনাথ। আর রিফাইয়ার বাবা আবু নাসের ফয়সাল। দুজনই এখন পরিবার নিয়ে বাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে। অর্চিতা আর রিফাইয়া… দুই কিশোরী জয় করেছে স্বর্ণপদক। কারমেল হাই স্কুলের এই দুই শিক্ষার্থী স্বর্ণপদক জয় করেছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভাস্কর্য নির্মাণ করে। প্রতিযোগিতার আয়োজক ছিল ইন্ডিয়ানা হিস্ট্রিক্যাল সোসাইটি।
ভাস্কর্যটির শিরোনাম ছিল ‘দ্য ফরগটেন জেনোসাইড, ফ্রিডম বারিড আন্ডার ব্লাড: দ্য বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার’। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণসহ মুক্তিযুদ্ধের নানান দিক তুলে ধরা হয়। প্রকল্পটি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে যাওয়ার বিষয়ে তারা আশাবাদী।
অর্চিতার বাবা চন্দ্রনাথ জানান, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক পেয়েছে তার মেয়ে ও রিফাইয়া। এরপর অঙ্গরাজ্যসহ বিভিন্ন ধাপে স্বর্ণপদক পেলে তারা জাতীয় পর্যায়ে অংশ নিতে পারবে।
অর্চিতা ও রিফাইয়া জানিয়েছে, ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি প্রজেক্টে অংশ নেয়ার আগে শ্রেণিশিক্ষক তাদের পরামর্শ দিয়েছিলেন ‘টার্নিং পয়েন্ট ইন হিস্ট্রি’ অর্থাৎ বিশেষ কারণে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে বিশ্বের ইতিহাস নতুন মোড় নিয়েছে এমন কিছু নিয়ে প্রকল্প উপস্থাপন করতে। সেই অনুযায়ী তারা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ও মুক্তিযুদ্ধকে বিষয় হিসেবে বেছে নেয়। পরে তারা প্রকল্পটি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হিস্ট্রি ডে-র প্রতিযোগিতায় উপস্থাপন করে। সেখানে কমপক্ষে ৩০০টি প্রকল্প উপস্থাপিত হয়। বিচারকদের ৮টি ভিন্ন দৃষ্টিকোণের প্রতিটিতেই ‘উদাহরণযোগ্য’ প্রকল্প হিসেবে এটি স্বীকৃতি পায়।
প্রকল্পটি সম্পর্কে অর্চিতা ও রিফাইয়া জানায়, কারমেল স্কুলের লাইব্রেরিসহ শহরের পাবলিক লাইব্রেরিতে থাকা বই, সংবাদপত্রে প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ, প্রয়াত রশিদ তালুকদারের তোলা বিভিন্ন ছবিসহ অন্তত ২০টি রেফারেন্স থেকে তারা প্রয়োজনীয় তথ্য ও ছবি নিয়েছে।
তারা জানায়, টানা ৪ মাস কাজ করে তারা প্রকল্পটি তৈরি করেছে। একাজের অংশ হিসেবে পাশের শহর ফিশার্সে বাসকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেইন এম আনোয়ার ও নিউ ইয়র্কে বাস করা বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমামের সাক্ষাতকার নিয়েছে।
জানা গেছে, অর্চিতার বাবা ২০১১ সালে সিঙ্গাপুর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তখন অর্চিতার বয়স দেড় বছর। অন্যদিকে, রিফাইয়ার বাবা আবু নাসের ফয়সাল গত শতকের নব্বুইয়ের দশকে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যান। এই দুই কিশোরীই বাসায় বাংলায় কথা বলে। মা-বাবার কাছে শুনেছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।
পদক জয়/এএমটি/কিউটি
















Leave a Reply