রহমান মুস্তাফিজের মন্তব্য প্রতিবেদন: মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ বছর বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো উল্টো ছবি দিয়ে তোরণ ও বিলবোর্ড বানানো। সেসব দিয়েই উদযাপিত হলো এবারের মুজিবনগর দিবস।

ছবি: আর্ট নিউজ
মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সচিবালয়ের প্রধান ফটক এবং মন্ত্রণালয়ের সামনে (পরিবহন পুল ভবন) তোরণ বসিয়েছে। এর একটিতে বড়ো করে ছাপা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি। আরেকটিতে রয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। এছাড়াও দুই বোর্ডে রয়েছে মুজিবনগর সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি ছবি।
দুঃখজনক হলেও সত্যি, এই ছবিগুলো মুদ্রণে ন্যূনতম যত্ন নেয়া হয়নি। অথচ, এই তোরণগুলো তৈরি করেছে যে প্রতিষ্ঠান তারা নিশ্চয়ই ডিজাইন তৈরি করে তা অনুমোদন করিয়ে নিয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ ব্যক্তিরা ডিজাইন অনুমোদন দেন। অনুমোদন দেয়ার সময় কারও চোখেই কি পড়েনি ভুলভাবে ছবি উপস্থাপন করা হচ্ছে?

সচিবালয়ের গেইটে উল্টো ছবি দিয়ে তৈরি তোরণ। ছবি: আর্ট নিউজ
যদি আগে উল্টো ছবির বিষয়টি নজরে নাও এসে থাকে নির্মাণের পর বড় আকৃতির ছবিগুলো দেখার পর কেন বোধদয় হয়নি? কেন তাৎক্ষণিকভাবে তা পরিবর্তন হয়নি? নাকি যদি বিশেষ পছন্দের মানুষ দিয়ে এগুলো তৈরি করা হয়ে থাকে তাহলে তার আর্থিক ক্ষতি হোক এটি চাননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
তোরণের জন্য ডিজিটালি কি মুদ্রিত হয়েছে এবার সে সম্পর্কে জানা যাক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ছাড়াও ছাপা হয়েছে মুজিবনগর দিবস সংশ্লিষ্ট ছবি। এরমধ্যে একটি ছবি রয়েছে “মুজিবনগর ফিল্ড পোস্ট অফিসের। এই ছবিটি উল্টো ছাপা হয়েছে। এছাড়াও উল্টো ছাপা হয়েছে আরও কয়েকটি ছবি। এ ছবিগুলো ডাক টিকেটের। মুজিবনগর সরকার প্রকাশিত ডাকটিকিটগুলোও উল্টো ছাপা হয়েছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি দিয়ে মুদ্রিত ডাকটিকিটসহ অন্যান্য টিকিটগুলো উল্টো মুদ্রণের বিষয়টি ইচ্ছাকৃত, নাকি ভুল করে হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা উচিত।
যদি ইচ্ছাকৃত হয়, তবে এর জন্য সাজা হওয়া উচিত। আর যদি ভুল করে হয় তাহলে? তদন্তে যদি জানা যায় এটি ভুল করে হয়েছে তাহলে জানতে হবে কার দায়িত্বে অবহেলার কারণে এমনটা ঘটেছে। তার বা তাদের বিরুদ্ধে তখন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর দিবস একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ দিবসের যে কোন প্রকাশনাই যথেষ্ট স্পর্শকাতর বিষয়। তাই এ ধরনের ঘটনায় ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। সরকার নিশ্চয়ই এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিবে।
লেখক পরিচিতি: রহমান মুস্তাফিজ, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক ও নির্মাতা
আরও খবর পড়তে: http://www.artnewsbd.com














Leave a Reply