২৭ এপ্রিল ২০২১ (নিউজ ডেস্ক, রাঙামাটি): মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত (মরনোত্তর) এম আবদুল আলীর ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান শহীদ আবদুল আলীর স্মরণে নির্মিত স্মৃতিফলকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পরে বিভিন্ন সংগঠন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন ১৯৭১ সালে রাঙামাটির মহকুমা প্রশাসক শহীদ এম আবদুল আলীকে।
শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় একটি এতিমখানায় অনুষ্ঠিত হয় কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৭ এপ্রিল শহীদ হন এম আবদুল আলী। পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা পরার পর টানা ১২ দিন তার ওপর চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। এরপর মুমূর্ষ এম আবদুল আলীর দেহটি কেটে টুকরো টুকরো করে বস্তায় ভরে কাপ্তাই হ্রদে ফেলে দিয়েছিল পাকিস্তানি হায়েনারা। দেশপ্রেমিক অকুতোভয় বীরের ত্যাগের সেই ইতিহাস যাতে কেউ কখনো জানতে না পারে সেজন্যই পাকিস্তানিরা তার মরদেহ পানিতে তলিয়ে দিয়েছিল।
দীর্ঘ ৪৪ বছর চাপা পড়েছিল সেই ইতিহাস। দেশবাসীর সামনে একাত্তরের সেই ঘটনা উন্মোচিত হয়েছিল ২০১৫ সালের ২৭ এপ্রিল।
এরপর দেশপ্রেমিক এই বীরের বীরত্বগাথা নজরে আসে সরকারের। ২০১৬ সালে সরকার স্বাধীনতা সংগ্রামের এই বীর সেনানীকে মরণোত্তর “স্বাধীনতা পদক” এ ভূষিত করেন। আর এটিই তিন পার্বত্য জেলায় প্রথম রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা পদক অর্জন।
স্মর্তব্য, শহীদ এম আবদুল আলীর নাতনী কাজী তামান্না আর্ট নিউজের প্রকাশক ও সম্পাদক। এছাড়া তার দুই ছেলের বড়জন ডক্টর ইউসুফ হারুন ডেভিড যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসজীবনে ২০১৯ সালে মারা যান। ছোট ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম রঞ্জু অগ্রনী ব্যাংকে ডিজিএম পদে কর্মরত।
শহীদ আবদুল আলী/এএমএম/আরএম
















Leave a Reply