সাংবাদিক মিজানের দাফন সম্পন্ন

১২ জানুয়ারি ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সাংবাদিক মিজানুর রহমান খানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে মিজানুর রহমান খানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, আইনজীবী ও সাংবাদিকরা জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষে মিজানুর রহমান খানের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

পরে বেলা ১১টার দিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) প্রাঙ্গণে মিজানুর রহমান খানের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ডিআরইউ’র সদস্যরা অংশ নেন। জানাজা শেষে মিজানুর রহমান খানের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

ডিআরইউ থেকে মিজানুর রহমানের মরদেহ নেয়া হয় জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় জানাজা।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ডক্টর হাছান মাহমুদ, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম, বর্তমান সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ডিআরইউ সভাপতি মোরসালিন নোমানী, সাধারণ সম্পাদক ও মিজানুর রহমান খানের ছোট ভাই মসিউর রহমান খান, অপর ছোট ভাই সিদ্দিকুর রহমান খান, দৈনিক প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হকসহ বরেণ্য সাংবাদিকরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে মরদেহ নেয়া হয় কাওরান বাজারে তার সবশেষ কর্মস্থল প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে। সেখানে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানসহ সহকর্মীরা তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

উল্লেখ্য, প্রায় দেড় মাস করোনা ভাইরাসের সাথে লড়াই করে সোমবার রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর।

প্রয়াত মিজানের মা জীবিত আছেন। তার পরিবারে স্ত্রী, তিন সন্তান রয়েছেন। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে মিজানুর রহমানরা তিন ভাই সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত ছিলেন। মিজানুর রহমান খানের ভাই সিদ্দিকুর রহমান খান দৈনিক শিক্ষার সম্পাদক এবং মশিউর রহমান খান দৈনিক সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার এবং ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মিজানুর রহমান খানের করোনার নমুনা পরীক্ষায় ২ ডিসেম্বর পজিটিভ রিপোর্ট আসে। ৫ ডিসেম্বর তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।

সেখানে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত শনিবার বিকেলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন দায়িত্বরত চিকিৎসক।

সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান তার প্রায় ৩ দশকের সাংবাদিকতা জীবনে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কাজ করেছেন। আইন ও সংবিধান বিষয়ক সাংবাদিকতায় তার ছিল অসামান্য দক্ষতা।

বরিশালের বিএম কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী মিজানুর রহমান খান সংবিধান ও আইন নিয়ে লেখালেখি করেছেন।

দাফন/এসকেএম/আরএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *