করোনাকালে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ফি কমাতে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন অভিভাবকরা। এছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানকে নিয়মের মধ্যে আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা। ফি কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাত দিন সময় দিয়েছেন অভিভাবকরা।

ছবি: সালমা আলম নূপুরের সৌজন্যে
বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিঞা হলে আয়োজিত মিদ দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তারা এ সব প্রসঙ্গে নিজেদের মত তুলে ধরেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্যারেন্টস’ ফোরাম (বিইএমএসপিএফ)-এর আহ্বায়ক একেএম আশরাফুল হক। অভিভাবকদের পক্ষ থেকে সংগঠনের সদস্য সচিব আজম সালাহউদ্দিন ৬ দফা দাবিসহ লিখিত বক্তব্য উত্থাপন করেন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার মাসুদ রানা, অভিভাবক মনজুর সাকলাইন, সালমা আলম নূপুর, জনাব দিলশান, রহমান মুস্তাফিজ-সহ অন্যরা।
লিখিত বক্তব্যে আজম সালাহউদ্দিন বলেন, করোনাকালে স্কুল বন্ধ থাকা পর্যন্ত স্কুলের পুরো টিউশন ফি চাওয়া অন্যায় ও অযৌক্তিক। মার্চ মাস থেকে শুরু করে করোনার জন্য যতোদিন অনলাইনে ক্লাস চলবে ততোদিন টিউশন ফি ৫০ শতাংশ কমানো প্রয়োজন। একই সাথে, অন্যান্য ফি না নেয়াই যুক্তিযুক্ত।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের কার্যক্রম দেখভালের ইউজিসি’র আদলে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি সায়ত্ত্বশাসিত নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করা জরুরী। এছাড়া প্রত্যেক স্কুলে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটিতে কমপক্ষে দুই জন নির্বাচিত অভিভাবক প্রতিনিধি রাখতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুনগতমান নিশ্চিত করতে হবে।
আজম সালাহউদ্দিন বলেন, দেশের সব ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ভর্তি ফি, টিউশন ফিসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক ফি যৌক্তিক অংকে নির্ধারণ করতে হবে।
লিখিত বক্তব্যে দাবি জানানো হয়, করোনাকালে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেক অভিভাবক। ফলে তারা সন্তানের টিউশন নির্ধারিত সময়ে ফি জমা দিতে পারেননি। যাদের টিউশন ফি-সহ অন্যান্য ফি পরিশোধ হয়নি তাদের স্কুল থেকে বহিষ্কার করা যাবে না। এই শিক্ষার্থীদের অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহনও নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, অনেক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ফি-এর পরিমাণও অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ফি পরিশোধে দীর্ঘ মেয়াদী কিস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে এ কে এম আশরাফুল হক বলেন, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠান পরস্পরের পরিপূরক। অভিভাবকরা টিকে থাকলেই স্কুলও টিকে থাকবে।
বাণিজ্যিক মনোভাব দূর করে এই মহামারীকালে অভিভাবকদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে টিউশন ফি কমাতে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
আশরাফুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী যেহেতু শিক্ষানুরাগী, তাই আমরা আশা করছি টিউশন ফি ৫০ শতাংশ হ্রাস করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী কার্যকর পদক্ষেপ নিবেন।
অন্যান্য অভিভাবকরা বলেন, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ ছিল। এ সময় প্রত্যেকটি স্কুলেরই লাখ লাখ টাকা ইউটিলিটি বিল খরচ হয়নি। বেঁচে গেছে অন্যান্য খাতে নেয়া টাকাও। অনলাইনে ক্লাস শুরু হওয়ায় শিক্ষকদের পাঠদানের সময় কমে গেছে নূন্যতম ৬০ শতাংশ। এ সময় বরং খরচ বেড়েছে অভিভাবকদের। সন্তানের অনলাইন ক্লাস নিশ্চিত করতে অভিভাবককে কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা বাড়তি অ্যানড্রয়েড সেলফোন সেট কিনতে হয়েছে। বাসায় সংযোগ নিতে হয়েছে ইন্টারনেটের ব্রডব্যান্ড। বাসায় বেড়েছে বিদ্যুৎ বিল। অভিভাবককে ক্লাস চলার সময় সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকতে হয়।
সভায় জানানো হয়, ৭ দিন (১৫জুলাই)-এর মধ্যে এ বিষয়ে অভিভাবকদের জন্য ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না এলে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
















Leave a Reply