রহমান মুস্তাফিজের মন্তব্য প্রতিবেদন: দেখতে দেখতে দিন কাটে, মাস যায়, বছর ফুরায়। আমার ফ্রেন্ড, ফিলোসফার এণ্ড গাইড… এম আবদুস সামাদের মৃত্যুর একযুগ হয়ে গেল।
সামাদ ভাই গিয়েছিলেন বিলেতে ব্যারিস্টারি পড়তে। শেষ পর্যন্ত পড়লেন সিনেমাটোগ্রাফি নিয়ে। শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় কাজ করলেন বিবিসি ওয়ার্ল্ডে ক্যামেরাম্যান হিসেবে। সেও ১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সালের কথা। ক্যামেরা ইউনিটে কাজ করলেন রেক্যুইম; ইয়েস্টার টুডে এন্ড টুমরো; গানস অব নাভারন; ব্রিজ অন দ্যা রিভার কাওয়াই-এর মতো অসাধারণ সব চলচ্চিত্রে।
দেশে ফিরে বাংলা চলচ্চিত্রের আলো-ছায়ার খেলায় আনলেন নতুন মাত্রা। আবির্ভাব, ওরা ১১ জন-সহ অর্ধশতাধিক ছবির চিত্রগ্রাহক ছিলেন তিনি। নিজে নির্মাণ করলেন ৪টি ছবি। সূর্যগ্রহন, সূর্য সংগ্রাম, শিরি ফরহাদ ও ধাক্কা ছবির নির্মাতা তিনি। তবে শেষ ছবিটির নেগেটিভ এফডিসি থেকে চুরি করে নেয় কতিপয় দুষ্কৃতিকারীরা।
সূর্যসংগ্রাম চলচ্চিত্রের জন্য ১৯৭৯ সালে পুরস্কার পান মস্কো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। আর শিরি ফরহাদ-এর কাহিনী যেহেতু রাশিয়ান, তাই ছবির প্রযোজক ও সামাদ ভাইকে হয়রানির শিকার হতে হয় জিয়াউর রহমান সরকারের হাতে। তাদের সন্দেহ করা হয় কমিউনিস্ট হিসেবে।
চলচ্চিত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে তিনি প্রথম বলেন, শিল্পের এ ঘরানায় যারা কাজ করেন তাদেরও প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার। ফিল্ম আর্কাইভের সহায়তায় কোর্স চালু হলো। সেখানে শিক্ষার্থী ছিলেন মোর্শেদুল ইসলাম, তানভীর মোকাম্মেলের মতো চলচ্চিত্রসেবীরা। প্রতিষ্ঠানটি টিকললো না সমালোচকদের দৌরাত্মে। এরপর রুশ কালচারাল সেন্টারে গড়ে তুললেন ফিল্ম ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ। সাতটি ব্যাচ বেরিয়েছে সেখান থেকে। যাদের অধিকাংশই এখন মিডিয়ায় প্রতিষ্ঠিত।
এরপর স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া ডিপার্টরমেন্ট খোলার জন্য কতো চেষ্টা। খোলাও হলো। মাত্র ১৫ হাজার টাকা বেতনে সামাদ ভাই হলেন বিভাগের প্রথম চেয়ারম্যান। আমৃত্যু সেখানেই ছিলেন। বিকাশে গড়ে তুললেন সের্গেই বন্দারচুক ফিল্ম ক্লাব। ক্লাবের সভাপতি ছিলেন তিনি। তার সাথে প্রথমে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মীর শামসুল আলম বাবু। তারপর বিবেশ রয়। শেষ সাত বছর এক সাথে পথ হাঁটার সুযোগ পাই আমি। কতো স্মৃতি। সব কথা ফেসবুকের পাতায় আটবে না।
চিকিৎসার জন্য যেদিন দিল্লী গেলেন, সেদিন সকালে হাসপাতালে শেষ দেখা। এয়ারপোর্টে রওনা হওয়ার আগে বললেন, অনেক কাজ বাকি আছে। আমি ঘুরে আসি, তারপর তোমারে নিয়া বসমুনি। আর আগে, প্রতিবারই বিদায় নেয়ার সময় বলতেন, আইসো… সামাদ ভাই চলে গেলেন। অজানার পথে পাড়ি দেয়ার দিনটা ছিল ২০০৪ সালের ২৮ অক্টোবর। সেদিনের কাহিনী কোন এক সময় বলা যাবে।
সামাদ ভাইয়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে অনুষ্ঠান হবে শিল্পকলা একাডেমিতে। ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে উপস্থিত থাকার অনুরোধ থাকলো চলচ্চিত্রপ্রেমীদের প্রতি।
আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে:
















Leave a Reply