আল কায়েদা স্টাইলে জনগণের ওপর হামলা পরিচালনার ঘোষণা দিচ্ছে বিএনপি

নিউজ ডেস্ক: আল কায়েদা স্টাইলে জনগণের ওপর হামলা পরিচালনার ঘোষণা দিচ্ছে বিএনপি। এমন মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডক্টর হাছান মাহমুদ।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীরসহ অন্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, আল কায়েদা বা আইএস নেতারা যেভাবে গোপন আস্তানা থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করতো এখন রিজভী সাহেবও সে রকম গোপন আস্তানা থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করছেন। আর অবরোধের নামে গাড়ি-ঘোড়াতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করাই হচ্ছে তাদের কর্মসূচি।

হাছান মাহমুদ বলেন, অনেকেই প্রশ্ন রেখেছে যে, রিজভী সাহেব গোপন আস্তানা থেকে কর্মসূচি অর্থাৎ পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘোষণা দিচ্ছে, প্রতিদিন অনেক গাড়ি-ঘোড়াতে আগুন দেয়া হচ্ছে তারপরও তাকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, যারা মানুষ ও গাড়ি-ঘোড়ার ওপর পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করছে, হামলা পরিচালনা করছে, অনেকে দাবি তুলেছে পুলিশ কেন দেখামাত্র তাদের গুলি করে না। আজকে দাবি উঠছে প্রত্যেকটি সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। যতোদিন এ ধরণের চোরাগোপ্তা হামলা চলবে, ততোদিন গ্রেফতার অভিযানও চলবে।

হাছান মাহমুদ বলেন, কেউ মুরুব্বিয়ানা করবেন না। যারা মানবাধিকারের ধূয়া তোলে, আমাদের দেশে মানবাধিকার সংগঠন, বুদ্ধিজীবী যারা মাঝে মধ্যে বিবৃতি দেয়, দেখলাম যে, তারা মির্জা ফখরুল সাহেবের মুক্তির জন্য বিবৃতি দিয়েছে। তারা কেমন বুদ্ধিজীবী যে, এই আগুন সন্ত্রাস, এই পুলিশ হত্যা, আমাদের নারী কর্মীদের হেনস্থা, প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা, জাজেস কমপ্লেক্সে হামলা, হাসপাতালে হামলা এগুলোর বিরুদ্ধে বিবৃতি দিলেন না! বুদ্ধিজীবীরা বুদ্ধি করে নিশ্চুপ আছেন, না কি সব বুদ্ধি লোপ পেয়েছে, সেটিই প্রশ্ন।

আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ২৮ অক্টোবর কিছু করতে না পেরে এখন গার্মেন্টসে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা হচ্ছে। আমি শ্রমিক ভাইদের প্রতি অনুরোধ জানাবো, আপনারা নিজের প্রতিষ্ঠান যেটিতে কাজ করেন সেটিতে হামলা বা ভাংচুর করা মানে, নিজের গায়ে আঘাত দেয়া। কারণ সেই প্রতিষ্ঠান আপনাকে এবং দেশকে বাঁচিয়ে রেখেছে। তাই কারও প্ররোচনায় আপনারা প্ররোচিত হবেন না।

মন্ত্রী বলেন, যারা হামলার প্ররোচনা দেয় তারা নিজেদের শ্রমিক সংগঠনের নেতা হিসেবে পরিচয় দেয়, কিন্তু ওরা কেউ শ্রমিক না। ওদের ঢাকা শহরে দামি ফ্ল্যাট আছে, গাড়ি আছে। ওরা মিটিংয়ে যখন যায় তখন রিক্সায় যায়, গাড়ি দূরে রেখে যায়, খবর আছে আমাদের কাছে। আর তারা বাড়িতে কাউকে ডাকে না, অফিসে ডাকে। কারণ নেতার এতো সুন্দর বাড়ি দেখলে তো শ্রমিকরা বিগড়ে যাবে। এই শ্রমিক নামধারী বড়লোক নেতারাই উস্কে দিচ্ছে, বিএনপি-জামাত বাতাস দিচ্ছে।

হাছান মাহমুদ বলেন, পোষাক শ্রমিকদের বেতন খালেদা জিয়ার আমলে ছিলো মাসে ৮০০ টাকা, সেখান থেকে শেখ হাসিনা ডাবল করে ১৬০০ টাকা করেছিলেন। অন্য কোনো সরকার আর তা বাড়ান নাই। আবার শেখ হাসিনা সেখান থেকে ৮০০০ টাকায় নিয়ে গেছেন, এখন ১২,৫০০ টাকায় এনেছেন। এর ওপর প্রতি বছর আবার ৫ শতাংশ বৃদ্ধি। পাশাপাশি তাদের ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে তারা স্বল্পমূল্যে পণ্য কিনতে পারবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের শ্রমিকরা আমাদের ভাই, আমাদের বোন। আপনারা কষ্ট করেন দেশের অর্থনীতির চাকা চলে। যারা প্ররোচনা দিয়ে আপনাদের প্রতিষ্ঠানে বাইরে থেকে গিয়ে হামলা করছে তাদেরকে চিহ্নিত করুন এবং আইনের হাতে তুলে দেন। আমাদের সরকার আপনাদের পাশে আছে, শেখ হাসিনা আপনাদের পাশে আছে এবং থাকবে।

তথ্যমন্ত্রী/এমএএম

আরও খবর পড়তে: artnewsbd.com

আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD

https://www.youtube.com/channel/UCC2oLwZJYHIEygcbPX3OsWQ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *