নিউজ ডেস্ক: ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় শ্রমিক অস্থিরতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে অন্তত ২২টি শিল্পকারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। আরও ৮টি পোশাক কারখানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের অন্যান্য কারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারির পাশাপাশি অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম।
সকাল থেকে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের চক্রবর্তী, নবী টেক্সটাইল, জিরানী বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বেক্সিমকোর শ্রমিকরা লাঠিসোটা হাতে নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এছাড়া বিভিন্ন কারখানার সামনে গিয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা চালান তারা। ফলে জিরানী বাজার এলাকার অধিকাংশ পোশাক কারখানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।
শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে আতঙ্কে জিরানী বাজার ও আশপাশের দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে অনেক কারখানার সামনে ‘কারখানা বন্ধ’ সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়া হয়।
জানা গেছে, শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় শ্রমিকদের দাবির মুখে অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কারখানাগুলোতে বেড়েছে শ্রমিক অস্থিরতা। এরই ধারাবাহিকতায় শিল্প সুরক্ষায় আশুলিয়ার অন্তত ২৬টি পোশাক কারখানা শ্রম আইন ২০০৬ সালের ১৩ (ক) ধারায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ধারায় কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হলে শ্রমিকরা বন্ধকালীন কোনও বেতন পাবেন না।
সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বাইপাল-আবদুল্লাহর সড়কের বাইপাইল থেকে জিরাবো, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক ও বিশমাইল জিরাবো সড়কসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনন্ত, মেডলার, শারমিন গ্রুপ, ডেকো, এস টুয়েন টি ওয়ান, মন্ডল নিটওয়্যার লিমিটেড, ম্যাংঙ্গো টেক্স, এআর জিন্স, এনভয়, স্টাইলিং গ্রুপ, ভিনটেক্স, ইয়াগী বাংলাদেশ, ক্রস ওয়ার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, অরোনিমা, ডেবনিয়ার, দি রোজ, জেনারেশন নেক্সট, সিনসিন, ডিসান সোয়েটার ও সিগমা ফ্যাশনসহ বেশকিছু পোশাক কারখানা শ্রম আইন ২০২৬ সালের ১৩ (ক) ধারা অনুযায়ী বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে আরও ৮টি কারখানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সকাল ১০টা পর্যন্ত নিউএইজ, আল মুসলিম, নাসা সুপার কমপ্লান্স, নাসা এ জে সুপার, নাসা বেসিক কমপ্লেক্স ও জন রণ সোয়েটারের উৎপাদন চলছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া হা-মীম গ্রুপের একটি কারখানা বন্ধের নোটিশে লেখা রয়েছে- দ্যাটস ইট স্পোর্টস ওয়ার লি., এ্যাপারেল্স গ্যালারি লি., রিফাত গার্মেন্টস লি., এক্সপ্রেস ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং লি., আর্টিস্টিক ডিজাইন লি., নেক্সট কালেকশন লিমিটেডের সব কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আশুলিয়া শিল্প অঞ্চলে বর্তমান সহিংসতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ১৩ (১) অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ হতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করল।
পরবর্তীতে আঞ্চলিক পরিবেশ নিরাপদ হলে শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মপরিবেশ ও নিরপত্তা নিশ্চিত করে নোটিশের মাধ্যমে কারখানা খোলার তারিখ জানিয়ে দেয়া হবে। কারখানায় নিরাপত্তা বিভাগ এ নোটিশের আওতামুক্ত থাকবে।
এদিকে বুধবার সকাল থেকে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের চক্রবর্তী, নবী টেক্সটাইল, জিরানী বাজার এলাকায় বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করতে থাকেন।
এছাড়া বেশ কিছু শ্রমিককে জিরানী-আমতলা আঞ্চলিক সড়কের উভয়পাশের কারখানাগুলোতে ভাংচুরের চেষ্টা করলে কারখানাগুলো ছুটি দিয়ে দেয় এবং কারখানার মূল ফটকে ‘কারখানা বন্ধ’ সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়। এ সময় আতঙ্কে এসব এলাকার দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
শিল্পপুলিশ জানায়, শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবির মুখে মালিকপক্ষ আলোচনা করলেও কোনও ধরনের সিদ্ধান্তে যেতে পারেনি। ফলে আজ সেসব কারখানা ১৩(ক) ধারায় অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
জামগড়া এলাকার ফ্যাশনিট কোম্পানি লিমিটেড কারখানার মালিকপক্ষ জানায়, সকালে যথারীতি শ্রমিকরা কারখানায় যোগদান করে। পরে কারখানার কতিপয় শ্রমিকরা তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে কারখানা থেকে বেরিয়ে যায়। এ সময় কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের সাথে আলোচনা করতে গেলে তারা কর্তৃপক্ষের সাথে মারমুখী আচরণ করে।
একপর্যায়ে কারখানার বিদেশি মালিক নিজে এসে তাদের সাথে কথা বলতে এবং তাদের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আহ্বান জানান। এ সময় কতিপয় উত্তেজিত শ্রমিক তার কথা উপেক্ষা করে তাকে মারধর করার জন্য তেড়ে যায়। এ সময় কারখানা কর্তৃপক্ষ ওই মালিককে তাদের মারধরের হাত থেকে রক্ষা করতে পারলেও শ্রমিকরা তাদের সবাইকে জিম্মি করে রাখে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আছে।
শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম বলেন, সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় ২২টি কারখানা ১৩ (ক) ধারায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আরও ৮টি কারখানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। কয়েকটি জায়গায় আমরা কর্মবিরতির কথা শুনেছি। সেখানে আলোচনা করে কাজে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথবাহিনী কাজ করছে।
আশুলিয়া/এএমএম
আরও খবর পড়তে: artnewsbd.com
আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD
















Leave a Reply