পাহাড়ে বন্যা, সাজেকে আটকা পড়েছেন শতাধিক পর্যটক

নিউজ ডেস্ক: কয়েকদিনের টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পাহাড়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া যায়। সড়কের ওপর পানি উঠে তলিয়ে গেছে বাঘাইছড়ি-বাঘাইহাট-সাজেক সড়ক ও বেইলি ব্রিজ।

বাঘাইছড়ি ও সাজেকের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অন্তত শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে জানা গেছে। প্রশাসন ও স্থানীয়রা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে পাহাড়ি ঢল নামায় বাঘাইছড়ির বাঘাইহাটবাজারে সড়ক এবং বেইলি ব্রিজ তলিয়ে সাজেকের সাথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার সকালে বাঘাইহাট থেকে কোনও যানবাহন সাজেকের উদ্দেশে ছেড়ে যেতে পারেনি এবং সাজেক থেকেও কোনও প্রকার যানবাহন ছেড়ে আসতে পারেনি। ফলে সাজেকে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকরা আটকা পড়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সাজেকভ্যালির কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি অনিত্য ত্রিপুরা জানান, গত কয়েক দিনের টানা ভারি বর্ষণে সাজেক বাঘাইহাট সড়কে পাহাড়ি ঢলের পানি উঠে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। যার কারণে সাজেক পর্যটনভ্যালিতে শতাধিক পর্যটক আটকে পড়েছেন।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান খান জানান, গত কয়েক দিনের টানা ভারি বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সাজেক ইউনিয়নের মাচালং বাজার ও বাঘাইহাট এলাকার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ায় সাজেকভ্যালিতে প্রায় শতাধিক পর্যটক আটকে পড়েছেন।

এদিকে কয়েক দিনের টানা ভারি বৃষ্টিপাতে বাঘাইছড়ি উপজেলা সদর, মারিশ্যা, বারেবিন্দুঘাট, লাল্যাঘোনা, মুসলিমপাড়া, এফ ব্লক, উলছড়িসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে ওইসব এলাকার মানুষ। দুর্গতদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। দুর্গত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আক্তার বলেন, টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা সড়ক ও বাঘাইছড়ির বাঘাইহাট বাজার পানিতে ডুবে যাওয়ায় সাজেকে বেড়াতে যাওয়া শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। পানি নামতে শুরু করলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হবে। তখন তারা ফিরতে পারবেন।

তিনি জানান, টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় বাঘাইছড়ি উপজেলা সদরসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। দুর্গত লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলায় ৫৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান বলেন, ৩টি চাঁদের গাড়ি নিয়ে প্রায় শতাধিক পর্যটক বেড়াতে গিয়ে মঙ্গলবার সকালে সাজেকে আটকে পড়েছেন। সাজেক-ভায়া দীঘিনালা সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে পাহাড়ি ঢলের পানি উঠেছে। যেসব মিডিয়া ৫-৭শ পর্যটক সাজেকে আটকে পড়ার খবর প্রচার করছে তারা আমার সাথে কথা না বলে ভুল তথ্য পরিবেশ করছেন। এটা দুঃখজনক। আমি একটু আগেও সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতি ও বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি।

সাজেক/এএমএম

আরও খবর পড়তে: artnewsbd.com

আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD

https://www.youtube.com/channel/UCC2oLwZJYHIEygcbPX3OsWQ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *