১৫ এপ্রিল ২০২২ (নিউজ ডেস্ক, মৌলভীবাজার): ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) নিত্যপণ্য বিক্রির জন্য করা তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে। উপকারভোগী কার্ডধারী তালিকায় রয়েছেন এক উপ-সচিবের বাবাসহ বিত্তশালী ব্যক্তিদের নাম। এছাড়াও তালিকায় নাম রয়েছে ইউপি সদস্যের বাবা, ছেলে, বোনসহ সচ্ছল আত্মীয়দের নাম।
অধিকার বঞ্চিতদের অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা নিজেদের ইচ্ছামতো আত্মীয়স্বজন ও নিজস্ব লোকদের মাধ্যমে টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের বাদ দিয়ে সরকারের এক উপ-সচিবের বাবা, এলাকার বিত্তশালী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও ব্যবসায়ীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আদমপুর ইউনিয়নের তালিকায় রয়েছেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ভানুবিল গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা কৃষ্ণ কুমার সিংহ। ইতোমধ্যে প্রথম কিস্তির পণ্য নিয়েছেন তিনি। তার ছেলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব প্রদীপ কুমার সিংহ।
একই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল গফুরের ছেলে, বাবা ও ভাইয়ের নাম রয়েছে তালিকায়। গফুর মিয়ার দুই ছেলে ফ্রান্স ও দুবাই প্রবাসী। তিনি বিষয়টি স্বীকার করেছেন। বলেছেন, আসলে আমি এতসব বুঝিনি। আমার ভুল হয়েছে।
৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল আজিমের ছেলে ফাহাদ আলী, মেয়ের জামাই জুবের মিয়া ও বোন সাহেদা আক্তারের নামও রয়েছে তালিকায়। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলমগীর ফারুক নিজের ছেলে শামসুল আলম শুভর নাম দিয়েছেন তালিকায়। সংরক্ষিত নারী সদস্য গুলনাহার বেগমের ভাই ও স্বজনদের নামও রয়েছে। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আদমপুর বাজারের ব্যবসায়ী যুবনেতা মইনুল ইসলামের নামও তালিকায় স্থান পেয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন মেম্বারদের স্বজনপ্রীতির কথা স্বীকার করেছেন। জানিয়েছেন, তালিকা থেকে সচ্ছলদের নাম কেটে দেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, জনপ্রতিনিধিদের দেয়া তালিকা অনুযায়ী কার্ডে স্বাক্ষর করেছি। এমনটা ঘটলে চেয়ারম্যানকে বলে দেব নাম কেটে দিতে।
টিসিবি/এসকেএম
আরও খবর পড়তে: http://artnewsbd.com
আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD
















Leave a Reply