২৭ মার্চ ২০২২ (নিউজ ডেস্ক): ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় শোবার ঘরে ঢুকে মাহফুজুর রহমান ওরফে সাজিদ নামের এক স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সে উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের মধ্য রহিমপুর গ্রামের মৃত শাহাব উদ্দিনের ছেলে এবং শাহ নুরুন্নবী বিদ্যাপীঠের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
নিহত মাহফুজুর রহমানের পরিবারের ভাষ্য, গতকাল শনিবার দিবাগত রাতের কোনও একসময়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে।
রোববার সকাল ১০টার দিকে বাড়ির লোকজন ঘরে ঢুকে বিছানায় মাহফুজুরের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করতে থাকেন। পরে গ্রামের লোকজন থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যার হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত ১৪ বছর বয়সী মাহফুজুরের বাড়ি নান্দাইল উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৬-১৭ কিলোমিটার দূরে।
মাহফুজুর রহমানের চাচাতো বোন ও একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী মোছাম্মদ সাবিকুন্নাহার জানায়, সকাল ১০টার দিকে সে মরিচ আনতে মাহফুজুরের ঘরে যায়। ঘরে গিয়ে দেখে, ফুল স্পিডে ফ্যান চলছে এবং মশারির মধ্যে লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে মাহফুজুর। তখন সে মাহফুজুরকে ডাক দেয়। কিন্তু কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে লেপ সরিয়ে ছোট ভাইকে বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে সে চিৎকার দেয়।
মাহফুজুরের মা ইয়াসমীন আক্তার বলেন, এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বড় ছেলে রবিউল আউয়ালকে নিয়ে বাবার বাড়ি সিংরইল ইউনিয়নের নগরকচুরি গ্রামে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে থাকা অবস্থায় ছোট ছেলে খুন হওয়ার ঘটনা জানতে পেরে সকালে বাড়ি ফিরে আসেন।
ইয়াসমীন আক্তার আরও বলেন, তার স্বামী মাহাব উদ্দিন সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর স্বামীর রেখে যাওয়া জমিজমা আবাদ করে দুই সন্তানকে নিয়ে তার সংসার চলছিল। সম্প্রতি তার বড় ছেলে রবিউল আউয়ালকে মুঠোফোনে ‘মুরগির মতো গলা কেটে হত্যা’ করার হুমকি দিতেন এক প্রতিবেশী।
নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আকন্দ মুঠোফোনে গণমাধ্যমকে বলেন, বেশ কয়েকটি বিষয় সামনে রেখে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি।
কুপিয়ে হত্যা/এসকেএম
আরও খবর পড়তে: http://artnewsbd.com
আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD
















Leave a Reply