১৯ জুন ২০২১ (কাজী তামান্না, আর্ট নিউজ স্পেশাল): রাজধানীতে নিয়মিতই চুরি হচ্ছে মেট্রোরেলের লোহা। এটি চলছে গত কয়েকমাস ধরে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা জড়িত এই চুরির সাথে। মেট্রোরেলের নিজস্ব সিকিউরিটি বাহিনী পারছে না এই চুরি ঠেকাতে।
রাজধানীর মিরপুরে বেশ কয়েক মাস ধরেই চলছে মেট্রোরেলের এই লোহা চুরির ঘটনা। মূলত মিরপুর ১০ ও ১১ নাম্বার সেকশনের মাঝে এই চুরির ঘটনা ঘটছে। তবে আরেকটি গ্রুপ ম্যাওড়াপাড়া ও তালতলায় চুরি করতো। সেখানে কাজের সুবিধার জন্য দেয়া বাউন্ডারি ও বাউন্ডারির ভিতরের সরঞ্জামাদি সরিয়ে নেয়ায় বন্ধ হয়েছে চুরি।
আর্ট নিউজের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ৬ জনের একটি কিশোর গ্যাং এই চুরির সাথে জড়িত। তাদের সাথে আছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি। সাদা পাঞ্জাবি ও লুঙ্গি পরা ব্যক্তিটি মিরপুর সাড়ে ১১ নাম্বারে ভূতের বাড়ি নামক রেস্টুরেন্টের সামনে পাহারায় থাকেন। পাশেই একটি গ্যারেজ। বাস মেরামতের জন্য সেখানে সবসময়ই দাঁড়ানো থাকে বাস। কিশোররা চুরি করে আনা লোহা লোহার রড, অ্যাঙ্গেল ও পাইপ সে সব বাসের নিচে লুকিয়ে রাখে। অন্তত ১০/১২ কেজি লোহা জমা হওয়ার পর তারা সেগুলো নিয়ে ভাঙ্গারির দোকানে বিক্রি করে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই গ্যাং প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ কেজি লোহার রড, অ্যাঙ্গেল ও পাইপ চুরি করছে। এগুলো বিক্রি হচ্ছে ১১ ও সাড়ে ১১ নাম্বার সেকশনের পুরনো লোহা কেনা বেঁচার দোকানে। এসব দোকানের মালিক ও কর্মচারিরা জানিয়েছেন, তারা এগুলো ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে কিনে থাকেন। মানসম্পন্ন এসব লোহা কোথা থেকে আনা হয় তা জানেন না বলে দাবি করেন তারা।
একজন ব্যবসায়ী জানান, গত একমাসেই তারা একই ধরনের অন্তত দেড়শ’ কেজি লোহা কিনেছেন। এতো লোহা কোথা থেকে এসেছে তা নিয়ে তার সন্দেহ হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে লোহা বিক্রি করতে আসা দুই কিশোর তার সাথে যে আচরণ করে তাতে তিনি আলাপ বাড়াতে সাহসী হননি। এরপর থেকে তার দোকানে আর ওই কিশোররা লোহা নিয়ে আসেনি।
ধোলাইখালের লোহারক্করের ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম জানিয়েছেন, এসব লোহা কেজি প্রতি ৪০ টাকা দরে ব্যবসায়ীরা কিনে থাকেন। তবে মিরপুর এলাকায় দোকান ভেদে ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে কেনা হয়। তবে যাতায়াত ভাড়া এবং পুলিশের হাতে ধরা পরার ভয়ে কিশোর গ্যাংয়ের এসব অপরাধীরা মিরপুর থেকে ধোলাইখাল পর্যন্ত চুরির মাল নিয়ে যাওয়ার সাহস পায় না।
মেট্রোরেলের নিজস্ব সিকিউরিটি গার্ডের সংখ্যা কম বলে চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। এ বিষয়ে পূরবী সিনেমা হল এবং সিটি ক্লাব এলাকায় মেট্রোরেলের নিরাপত্তা কর্মীরা জানান, প্রয়োজনের তুলনায় তাদের লোকবলের অভাব রয়েছে। এতো কমসংখ্যক নিরাপত্তা রক্ষী দিয়ে এতো বিশাল এলাকা পাহারা দেয়া সম্ভব না।
তারা বলেন, বাউন্ডারির পাশে যেভাবে লোহার রড, পাইপসহ অন্যান্য সামগ্রি রাখা হয় তা বাইরে থেকে কেউ নিয়ে গেলে টের পাওয়ার কোন উপায় নেই।
লোহা চুরি/কিউটি/রমু















Leave a Reply