০৪ এপ্রিল ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের সাথে রিসোর্টে থাকা নারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। সেই নারীর নাম জান্নাত আরা ঝর্ণা। বয়স ২৭ বছর। ঝর্ণার বাবা আওয়ামী লীগ নেতা।
ঝর্ণা বাবার বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কামারগ্রামে। তার বাবার নাম মোহাম্মদ ওলিয়ার রহমান মিয়া। তিনি কামারগ্রাম ৪ নম্বর ওয়ার্ড আ্য়ামী লীগের সভাপতি। ঝর্ণা তার মেজমেয়ে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এলাকাবাসীর হাতে ধরা পরার পর মামুনুল হক ওই নারীর নাম আমেনা তৈয়াবা বলে জানান। তবে ওই নারী নিজের নাম বলেন জান্নাত আরা।
শনিবার রয়েল রিসোর্টে ওই নারীসহ মামুনুল হক ধরা পড়েন। যা এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। এখনও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এ নিয়ে সরব রয়েছে।
ঝর্ণা সম্পর্কে তার পরিবার ও পরিচিতজনরা বলছেন তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জননী। তবে তার দ্বিতীয় বিয়ের খবর কেউই জানেন না।
ঝর্ণার বাবা ওলিয়ার রহমান ও মা শিরীনা বেগম গণমাধ্যকে জানিয়েছেন, জান্নাত আরা ঝর্ণা তাদের মেজ মেয়ে। ৯ বছর বয়সে ঝর্ণার বিয়ে হয় হাফেজ শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদুল্লাহ নামের এক মাওলানার সাথে।
ঝর্ণার বাবা-মা জানান, ঝর্ণার স্বামী শহীদুল্লাহর বাড়ি বাগেরহাটের কচুড়িয়া এলাকায়। আব্দুর রহমান ও তামীম নামে তাদের দুই ছেলে রয়েছে। আব্দুর রহমানের বয়স ১৭ বছর। আর তামীমের বয়স ১২ বছর।
ওলিয়ার রহমান জানান, আড়াই বছর আগে শহীদুল্লাহর সাথে ঝর্ণার বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। গত দুই বছর ধরে তারা আবারও বিয়ের কথা বললে ঝর্ণা রাজি হননি। সে সময় তিনি (ঝর্ণা) বাবা-মাকে জানান তার বিয়ে হয়ে গেছে। তার জন্য আর পাত্র দেখতে হবে না। তবে নতুন স্বামী সম্পর্কে তিনি পরিবারের কাউকে কোন তথ্য দেননি। শুধু একবার ভিডিও কলে ঝর্ণা তার দ্বিতীয় স্বামীকে দেখিয়েছিলেন। তখন তারা বুঝতে পারেননি এটি মাওলানা মামুনুল হক।
এদিকে, গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ মোনায়েম খান জানিয়েছেন, ঝর্ণার বাবা ওলিয়ার রহমান একজন সাধাসিধে মানুষ। তিনি কামারগ্রাম ৪ নম্বর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।
মোনায়েম খান বলেন, ঝর্ণার বিয়ের খবর জানতেন। তার দুই ছেলের কথাও জানতেন। তবে ঝর্ণা পরে আবার অন্য কাউকে বিয়ে করেছেন বলে জানতেন না।
উল্লেখ্য, শনিবার বিকেলে হেফাজতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা মাওলানা মামুনুল হককে একটি রিসোর্টে আটক করে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। সন্ধ্যায় হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা তাকে পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
মামুনুল/টিটি/আরএম















