দেশে নির্ভেজাল গণতন্ত্র জরুরী হয়ে পড়েছে

১১ মার্চ ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, স্বৈরতন্ত্র আর সুশাসনের অভাবের কারণে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলা যায়না। সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে যা চলছে তাতে গণতন্ত্র চর্চা সম্ভব নয়। নোয়াখালীর বসুরহাটের মত সারাদেশেই অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতাই দেশে দুর্নীতি ও দুঃশাসন জন্ম দিয়েছে। দেশে নির্ভেজাল গণতন্ত্র জরুরী হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান-এর বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে এক বক্তৃতায় জিএম কাদের এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে পল্লীবন্ধু রাষ্ট্র ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্র চলছে। বিএনপি ক্ষমতায় বসে দুর্নীতি ও দলীয় করণের মাধ্যমে দেশে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে, যা এখনও চলছে।

জিএম কাদের বলেন, পশ্চিম পাকিস্তানীদের বৈষম্যের প্রতিবাদে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিলো। এখন ক্ষমতাসীন দল না করলে চাকরি মেলেনা। ব্যবসা-বানিজ্য করা যায় না। ক্ষমতাসীনরা টেন্ডারবাজী, দলবাজী, চাঁদাবাজী করে দেশের মানুষের শান্তি হরণ করেছে। ১৯৯১ সালের পর থেকে শুধু লুটপাটের রাজনীতি শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মীদের হাতে সাধারণ মানুষ নির্যাতিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির টেন্ডারবাজী, দলবাজী, দুর্নীতি, দুঃশাসন, বৈষম্য আর নির্যাতনে স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা ভুলণ্ঠিত হয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে মূল্যায়ন করলে মনে হচ্ছে ১৯৯১ সালের পর থেকে দেশের মানুষ স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ পাচ্ছেনা। তাই স্বাধীনতার সুফল দেশের মানুষের মাঝে পৌঁছে দিতে নতুন করে সংগ্রাম শুরু করেছে জাতীয় পার্টি। সবাইকে জাতীয় পার্টির পতাকা তলে যোগ দিতে উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

এসময় জাতীয় পার্টি মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তুলনায় জাতীয় পার্টির শাসনামলে দেশের মানুষ বেশি সুশাসন ভোগ করেছে।

তিনি বলেন, জেলেরা বাজারে মাছ বেঁচতে গেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগকে চাঁদা দিতে হয়। রাস্তায় হকাররা দোকান করতে পুলিশের সাথে ছাত্রলীগকেও চাঁদা দিতে হয়।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ ভালো নেই। ১৯৯১ সালের পর বিএনপি হাওয়া ভবন সৃষ্টি করে যে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের চালু করেছিলো, তা গেলো ১২ বছরে আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মানুষের মানবাধিকার খর্ব করেছে। বর্তমান সরকার মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। মানুষের বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করেছে। কার্টুনিস্ট কিশোর আর লেখক মুশতাককে গ্রেফতার করে নির্যাতন করা হয়েছে। মুশতাক কারাগারেই মারা গেছেন। দেশে আইনের শাসন নেই তাই প্রতিদিন ধর্ষণ হচ্ছে কিন্তু নির্যাতিতরা বিচার পাচ্ছেনা। স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠান আন্দোলনে শরীক হতে সবাইকে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিতে আহ্বান জানান জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মাননীয় চেয়ারম্যানের বিশেষ সহকারী মীর আব্দুস সবুর আসুদ, অবসরপ্রাপ্ত লেফট্যানেন্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এমপি, নাজমা আকতার এমপি।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য মাহমুদুর রহমান মাহমুদ, ডক্টর নুরুল আজহার শামীম, মনিরুল ইসলাম মিলন, ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিক, মৌলভী ইলিয়াস, মোবারক হোসেন আজাদ, যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ বেলাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন তোতা, মাখন সরকার, মমতাজ উদ্দিন, দফতর সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, এমএ রাজ্জাক খান, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, কেন্দ্রীয় নেতা মোতাহার হোসেন রাশেদ, প্রিন্সিপাল গোলাম মোস্তফা, ইকবাল আলমগীর, ভিপি জহির উদ্দিন, রিনা আক্তার তুলি, মিথিলা রোয়াজা, জাফর আহমেদ রাজু।

জাপা/এসকেএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *