নিউজ ডেস্ক
ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে পাইলট সংকটে রয়েছে বিশ্বের প্রায় সব বিমানসংস্থা। এই সংকট উত্তরণে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স পরিকল্পনামাফিক মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে পাইলট তৈরীর উদ্যোগ নিয়েছে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এক যুগ ধরে দেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরীতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। অতিরিক্ত পাইলটের চাহিদা পূরণে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ২০২২ সালের শুরুতে স্টুডেন্ট পাইলট ও এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগের পরিকল্পনা করে। তারই ধারাবাহিকতায় হিউম্যান রিসোর্সের বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিয়ে নানাবিধ পরীক্ষার পর চূড়ান্তভাবে পাইলট বাছাই করে থাকে।
যেকোনো বিমানসংস্থার বিমানবহরে এয়ারক্রাফট সংযুক্তির সাথে সাথে অতিরিক্ত পাইলটের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কিন্তু স্বল্পতম সময়ে এই চাহিদা পূরণ করা যায় না। বহরে নতুন এয়ারক্রাফট সংযোজন ও নতুন রুটের ব্যপ্তি ঘটানোর আগেই পাইলট নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করা এয়ারলাইন্সের পরিকল্পনারই অংশ। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করতে এগিয়ে এসেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
ইতোমধ্যে ২২ জন প্রশিক্ষণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লোরিডায় এপিক ফ্লাইট একাডেমীতে ফ্লাইট ট্রেনিং কোর্স শেষ করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে পাইলট হিসেবে যোগ দিয়েছেন। আরও ৫ জন প্রশিক্ষণার্থী শিগগিরই কোর্স শেষ করে ইউএস-বাংলায় যোগদানের অপেক্ষায় রয়েছেন। ধারাবাহিকভাবে পাইলট ট্রেনিং কোর্স করার জন্য ৭ জন অপেক্ষমান। ফ্লাইট ট্রেনিং কোর্স শেষ করার পর ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স (এফএএ সিপিএল) প্রাপ্ত হন প্রশিক্ষণার্থীরা।
একই প্রক্রিয়ায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের অর্থায়নে মেধাবীদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করার পর পরবর্তী ক্যাডেট পাইলট তৈরীর জন্যে আবেদনপত্র সংগ্রহ করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা আবেদন করার যোগ্যতা অর্জন করবে। পদার্থ বিজ্ঞান, সাধারণ ও উচ্চতর গণিত বিষয়ের মধ্যে নূন্যতম দু’টি বিষয়ে জিপিএ ৫.০০ এবং একটি বিষয়ে জিপিএ ৪.০০ এবং ইংরেজীতে জিপিএ ৪.০০সহ এসএসসি এবং এইচএসসি-তে গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞানে জিপিএ ৫.০০ ও ইংরেজীতে জিপিএ ৪.০০ প্রাপ্ত হলে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া ‘ও’ লেভেলে পদার্থ বিজ্ঞান ও গণিতসহ ৫ (পাঁচ) বিষয়ে গ্রেড-এ এবং এবং ‘এ’ লেভেলে গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞানে গ্রেড-বি পেয়েছেন শুধুমাত্র সেসকল শিক্ষার্থীরাই আবেদনের জন্য যোগ্য হবেন। জিইডি-কে একাডেমিক যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। আবেদনকারীকে ইংরেজিতে কথা বলায় দক্ষ হতে হবে।
ক্যাডেট পাইলটদের নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে আইকিউ টেস্ট, লিখিত পরীক্ষা (ইংরেজী, গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞান), পাইলট যোগ্যতা পরীক্ষা, সাইকোমেট্রিক, মেডিকেল ও মৌখিক পরীক্ষা। সকল টেস্টে উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে নির্বাচিতদের ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনায় পৃথিবীর যে কোনো দেশে ফ্লাইট ট্রেনিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। নির্দিষ্ট মেয়াদী প্রশিক্ষণ সাফল্যের সাথে সম্পন্নের পর উত্তীর্ণ ক্যাডেট পাইলটরা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে ফার্স্ট অফিসার হিসেবে যোগদান করতে পারবেন।
আবেদনকারীকে অবশ্যই শুধুমাত্র বাংলাদেশি হতে হবে। আবেদনের সময় বয়স হতে হবে ১৭ থেকে ২২ বছর। পুরুষ আবেদণকারীর উচ্চতা হতে হবে ১৬৮ সেন্টিমিটার (৫ ফুট ৬ ইঞ্চি) । অর্যদিকে, মেয়েদের ক্ষেত্রে উচ্চতা হতে হবে ১৬৪ সেন্টিমিটার (৫ ফুট ৪ ইঞ্চি)। প্রার্থীর ওজন হতে হবে বিএমআই-এর উচ্চতার আনুপাতিক হারে। দৃষ্টিশক্তি হতে হবে ৬/৬। প্রার্থীকে অবশ্যই অবিবাহিত, অধুমপায়ী ও নন-অ্যালকোহলিক হতে হবে। যেকোনো ধরনের অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততা অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে।
সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ থেকে ক্লাস-১ মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রাপ্ত হতে হবে।
ক্যাডেট পাইলটের যোগ্যতা নির্ধারণে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স উপরিউক্ত শর্তাবলীর পরিবর্তন কিংবা পরিমার্জন করার অধিকার সংরক্ষণ করে। ক্যাডেট পাইলটের মতো অ্যাভিয়েশনে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।
আবেদন করার জন্য ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইট: https://usbair.com/career/student-pilot
আবেদনের শেষ তারিখ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই দুইটি ড্যাশ-৮-কিউ৪০০ নিয়ে যাত্রা শুরু করে ইউএস-বাংলা। বর্তমানে সংস্থাটির বিমান বহরে তিনটি এয়ারবাস ৩৩০-৩০০, ৯টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০সহ মোট ২৫টি এয়ারক্রাফট রয়েছে। খুব শিগগিরই বহরে আরও কয়েকটি এয়াক্রাফট যুক্ত হবে।
ইউএস-বাংলা/এএমএম/কিউটি
আরও খবর পড়তে: NRB365.com
আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ART News BD















Leave a Reply