২৬ ডিসেম্বর ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): এমভি অভিযান-১০ এ অগ্নিকাণ্ডে ৪১ যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় লঞ্চমালিক মোহাম্মদ হাম জালাল শেখের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এছাড়াও আরও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
রোববার সকালে বরগুনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন বরগুনা বারের সদস্য আইনজীবী ও ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ মাহবুব আলম মামলাটি গ্রহণ করে বরগুনা থানার ওসিকে এজাহার গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার ঘটনার দিন লঞ্চটিতে আগুন লাগার পরে ভাসতে ভাসতে ঝালকাঠি জেলার কলাবাগান এলাকার কিনারায় পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিস ও ঝালকাঠি প্রশাসনের লোকজন আসিয়া কতিপয় যাত্রীদের দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করিয়া ঝালকাঠি জেনারেল হাসপাতালে এবং বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। প্রায় অর্ধশতাধিক মৃতদেহ উদ্ধারের পর শনাক্তকৃত কিছু লাশ স্বজনদের নিকট বুঝিয়ে দেন বাকি লাশ বরগুনা জেলা প্রশাসক বরাবরে হস্তান্তর করেন।
ঘটনার সময় হতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও আসামি স্বয়ং অথবা তার কোনও প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে স্বজন হারানো অভিভাবকদের সান্ত্বনা পর্যন্ত প্রদান করেননি। আসামিপক্ষ বেপরোয়াভাবে লঞ্চ চালায়, ভাড়ার জন্য নিরাপত্তাহীন, অতিরিক্ত বোঝাইকৃত লঞ্চ জলপথে লোক বহন করে, অগ্নি বা দাহ্য বস্তু সম্পর্কে ত্রুটি রেখে, বিস্ফোরক পদার্থ ও যন্ত্রপাতি সম্পর্কে ত্রুটি রেখে অবহেলা এবং বেপরোয়া যান চালানোর মাধ্যমে শত শত যাত্রীর মৃত্যু ঘটানোর অপরাধ করেছেন। এ মৃত্যুর জন্য লঞ্চমালিক নিজে দায়ী।
মামলার বাদী বলেন, মালিক যদি লঞ্চের ইঞ্জিন ত্রুটি সেরে এবং আগুন নেভানোর যন্ত্রপাতি রাখতেন; তা হলে এত মানুষের মৃত্যু আহত ও যানমালের ক্ষতি হতো না। লঞ্চের অধিকাংশ যাত্রী বরগুনার। এ কারণে আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসাবে জনস্বার্থে মামলা করেছি।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার সময় ঝালকাঠির সুগন্ধার সন্নিকটে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে আগুন লাগে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৪১ জন মৃত্যুবরণ করেন। অসংখ্য যাত্রী আগুনে পুরে বরিশাল ও ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
লঞ্চে আগুন/এসকেএম
আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে:
















Leave a Reply