শিক্ষার্থী-ব্যবসায়ী সংঘর্ষ : প্রয়োজন স্থায়ী সমাধানের

রহমান মুস্তাফিজের মন্তব্য প্রতিবেদন: ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারিদের সংঘর্ষে মারা গেছেন দুই জন। আহতের সংখ্যা পঞ্চাশেরও বেশি। এ ঘটনায় বন্ধ ঘোষণা করা হয় ঢাকা কলেজ। আবাসিক শিক্ষার্থীদের ছাড়তে হয় হোস্টেল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত ৭ কলেজের বৃহস্পতিবারের পরীক্ষা হয়নি। দুই দিন পর খুলেছে নিউ মার্কেট। নীলক্ষেত থেকে সায়েন্স ল্যাবরেটরী পর্যন্ত রণক্ষেত্র হয়ে ওঠায় জনজীবনে আতঙ্ক ছড়ায়। আশপাশের সড়কে সৃষ্ট তীব্র যানজটে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে।… এর প্রতিটি ঘটনাই ইতোমধ্যে জানা হয়ে গেছে সবার। এই জানা ঘটনাগুলোর দিকে যদি ভিন্নভাবে নজর দেয়া যায় তাহলে কয়েকটি বিষয় পরিস্কার হয়ে উঠবে।

ফাইল ছবি

সেদিন আসলে কি ঘটেছিল নিউ মার্কেটে? এটি ছাত্রদের কোন বিষয় ছিল কী? না। সেদিনের ঘটনার সূত্রপাতের সাথে শিক্ষার্থীদের কোন যোগ ছিল না। তাহলে? মূলত মার্কেটের ‘ক্যাপিটাল হোস্টেল’ ও ‘ওয়েলকাম’ নামের দুই খাবার দোকানের কর্মচারিদের সমস্যা ছিল সেটি। একপক্ষ ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের ডেকে আনলো। এর মাধ্যমে দোকান কর্মচারিদের সমস্যায় জড়ানো হলো শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীরা মার খেলো। তারুণ্যের অহমে ঘা লাগলো। তারা ডেকে আনলো বন্ধুদের। দুই দোকানের কর্মচারিদের গণ্ডগোল রূপ নিল শিক্ষার্থী আর ব্যবসায়ী-কর্মচারিদের সংঘর্ষে।

অন্যের সমস্যায় জড়িয়ে শিক্ষার্থীরা আহত হলো। তিন মামলায় ১ হাজার ৩০০ জন আসামি হলো। ক্ষতিগ্রস্ত হলো শিক্ষার্থীরা। ঘটনার শুরুটা যারা করলো তারা রয়ে গেল ধরাছোঁয়ার বাইরে।

নিউ মার্কেট, গাউসিয়া, চাঁদনীচক মার্কেটের ব্যবসায়ী-কর্মচারিদের সাথে শিক্ষার্থীদের মারামারির ঘটনা নতুন নয়। দশকের পর দশক ধরে এ অবস্থা চলছে। ফুটপাথ দখল করে দোকান বসানো, মানুষকে জিম্মি করে পণ্য বিক্রি এবং ক্রেতাকে প্রতারিত করার ঘটনায় অসংখ্যবার শিক্ষার্থীদের সাথে ব্যবসায়ী-কর্মচারিদের সংঘর্ষ হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অজ্ঞাত কারণে পুলিশ ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিয়েছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কোন পথই কী নেই? আছে নিশ্চয়ই। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে প্রস্তাবনাটি সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে সেই প্রস্তাবটি কিন্তু মন্দ নয়। খুব অল্প দূরত্বে ওই এলাকায় রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ, সিটি কলেজ, নিউ মডেল ডিগ্রী কলেজ, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরী স্কুল, গভঃ ল্যাবরেটরী স্কুল, বুয়েট ল্যাবরেটরী স্কুল, উদয়ন স্কুল, অগ্রণী বালিকা বিদ্যালয় ইত্যাদি। অর্থাৎ দুইটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ছয়টি কলেজ এবং অন্তত পাঁচটি বিদ্যালয় রয়েছে খুব কাছাকাছি। এছাড়াও রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন। এর অর্থ দাঁড়ায়, এটি একটি ‘শিক্ষা জোন’।

আরও পড়ুন: ঢাকা কলেজের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

এই শিক্ষা জোন থেকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, বিশেষত শপিংমলগুলো সরিয়ে নেয়াটাই সমীচীন। ঢাকা শহরের প্রতিটি এলাকাতেই এখন বহুতল একাধিক শপিংমল রয়েছে। তাই এই এলাকা থেকে বিপনীবিতানগুলো সরিয়ে নিলে নগরবাসী খুব বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবেন না। বিশেষত নিউ মার্কেট, গাউসিয়া ও হকার্স মার্কেট তিনটি সরিয়ে নেয়া যায়। নিউ মার্কেটের জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ভবন অথবা পরিবেশ রক্ষায় পার্ক গড়া যায়। গড়া যেতে পারে শিশু-কিশোরদের জন্য খেলার মাঠও। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখতে পারে।

লেখক পরিচিতি: রহমান মুস্তাফিজ; সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক ও নির্মাতা

আরও খবর পড়তে: http://artnewsbd.com

আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD

https://www.youtube.com/channel/UCC2oLwZJYHIEygcbPX3OsWQ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *