সমালোচনা নিয়ে চিন্তিত নন মাহফুজুর রহমান

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবারও ট্রলের শিকার হলেন বেসরকারি টিভি চ্যানেল এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান। তবে এ সব ট্রলকে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা এবং এটিএন নিউজের শীর্ষ কর্তা মুন্নী সাহা।

ঈদের পর দিন রাত সাড়ে ১০টায় নিজের মালিকানাধীন এটিএন বাংলায় প্রচারিত “হিমেল হাওয়া ছুঁয়ে যায় আমায়” শিরোনামের সঙ্গীতানুষ্ঠানের জন্য তিনি সমালোচনায় আবারও পরেছেন। তবে এবার গানের পাশাপাশি লোকেশন নিয়ে মিথ্যাচার করারও অভিযোগ উঠেছে।

গত কয়েক বছর ধরেই মাহফুজুর রহমানের গাওয়া গান নিয়ে অনুষ্ঠান প্রচার করছে এটিএন বাংলা। শুরু থেকেই এ নিয়ে ফেসবুকে ব্যাপক ঠাট্টা তামাশা চলছে।

এ বছর মাহফুজুর রহমানের গানের অনুষ্ঠান নিয়ে ফেসবুকে একজন লিখেছেন, “আমার এক বিজ্ঞ ফেইসবুক বন্ধু বললেন, ‘মাহফুজুর রহমান যদি সংগীতে একুশে পদক পেয়ে যান একদিন আমি অবাক হবো না মোটেও’।

প্রথমে হেসে দেই কথাটা শুনে। একটু পরেই বুঝতে পারি… নিজেকে নিয়েই হাসা উচিত ছিল আমার- ব্যাপারটা হেসে উড়িয়ে দেওয়ার কারণে!

হ্যাঁ, সত্যি বলছি এবং মন থেকেই বলছি আমিও অবাক হবো না।

আমার জন্ম, আমাদের জন্ম সব সম্ভবের দেশেই ।”

তার এই পোস্টে একজন কমেন্ট করেছেন, “একু‌শে পদক না পে‌লেও একুশটা পদক খ‌রিদ করবার পা‌রেন তি‌নি!”

আরেক জন লিখেছেন, “৩ নং সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। টিভি চ্যানেলের স্ক্রলের খবরে পড়েছিলাম। কিন্তু কবে কোথায় কখন তা জানিনে। ফেসবুকে অনেকের দেয়া তথ্য মতো এটিএনে দশটার সময় ঝড় উঠবে শুনে কৌতুহলে ১১টার দিকে সার্ফিং করে দেখলাম বিশাল বরফ রাজ্যে আরো বিশাল এক বিরহী কালো ভাল্লুক মনের সুখে ডাকছে।

মুন্নি বদনাম বললো, ভাল্লুকটি পরের ডাকে বিরল কিছুর জন্ম দিয়েছে।
দুজন বিখ্যাত সুরকার সেই ডাকে একসাথে সুর দিয়েছে। অবশ্য সুরটি গ্রাহ্য হয়েছে।
এখন স্টার গোল্ডে হিন্দি মুভি ‘ওয়্যার’ দেখুন। ঋত্ত্বিক আর টাইগার শ্রফ এর অ্যাকশ্যন মুভি ভালো লাগবে।

যারা ঘুমোতে যাচ্ছেন, শুভ রাত তাদের জন্যে।”

টিভিতে মাহফুজুর রহমানের গান ফলো করেছেন এমন একজন সঙ্গীতপ্রেমী লিখেছেন, “সুইটজারল্যান্ড, হল্যান্ড, কানাডা… কোনো দেশই মনে হয় বাদ পড়ে নাই ব্যাকগ্রাউন্ডে। নানান রঙের দৃষ্টিনন্দন ব্যাকড্রপ গায়কের পিছনে।

একরাশ বিরহ, দুঃখ, বিচ্ছেদ আর কষ্টের গান গেয়ে গেলেন ডক্টর মাহফুজুর রহমান তার নিজের চ্যানেলে। একই চ্যানেলের প্রখ্যাত সাংবাদিক মুন্নী সাহা উপস্থাপনার নামে ‘মাহফুজুর রহমান প্রশংসা’ রিপোর্ট করে গেলেন।

“হিমেল হাওয়া ছুঁয়ে যায় আমায়” নামের এই বিশেষ ঈদ সংগীতানুষ্ঠান দেশে-বিদেশে লাখ লাখ মানুষ দেখেছেন। উপভোগ করেছেন, হেসেছেন। অনেকেই হয়তো শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়েছেন।

প্রযুক্তি আর অটো টিউন ব্যবহার করে ‘পাম নাই’ টাইপ কন্ঠকে অনেকটাই লুকাতে পেরেছেন গায়ক। যারা এই বিষয়টা বোঝেন না তারা ভাবতে পারেন বেশ ইম্প্রুভ করেছে তার গলা।
প্রেজেন্টার মুন্নী সাহা বলছিলেন ‘সমালোচনা নিয়ে কিন্তু মোটেও চিন্তিত নন ডক্টর মাহফুজুর রহমান’।

এখানেই একজন কণ্ঠশিল্পী আর কষ্টশিল্পীর পার্থক্য।

যারা গান গাইতে পারেন তারা সমালোচনায় সতর্ক হন, নিজের কন্ঠের মানকে উন্নত করার জন্য আরো সচেতন হন। যারা ঠিক মতো গাইতে পারেন না তাদের আবার সমালোচনার ভয় কি !

যাই হোক, আমাদেরকে আপনার চিরবিরহী কন্ঠ শোনানো আর সুন্দর সুন্দর সিন-সিনারি দেখানোর জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ স্যার !”

এই পোস্টের কমেন্টে এক জন ছাড়েননি মুন্নী সাহাকেও। বরং তা চলে গেছে ব্যক্তি আক্রমণের পর্যায়ে। তিনি লিখেছেন, “মাহফুজের মত মালরে চুষে চুষে চাকরি করতে হচ্ছে, প্রশংসা না করলে চাকরি থাকবে? চাকরি গেলে এই শান শওকত দিবে কে? সবাইতো জানে দুর্নীতিবাজ মহিলা ওই চাকরি দিয়ে নিজে আর তার পরিবারের সদস্যরা কিভাবে কলা গাছ হয়েছে ঢাকা শহরে।”

আরেক জন কমেন্ট করলেন, “এখন থেকে কারও বিরুদ্ধে ক্ষেপে গেলে আপনি শাসাতে পারেন, লেলিয়ে দেব কিন্তু মাহফুজ রহমানকে।”

অন্য আরেক জনের মন্তব্য, “ATN বাংলার যেসব চামচা বাহিনী বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাকে বিখ্যাত শিল্পী বানানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাদেরকে ধিক্কার জানাই। পাশাপাশি তাদেরকে অনুরোধ করছি আপনাদের বসকে সত্যি কথাটা বলুন এবং তাকে থামান।”

শ্যুটিংয়ের লোকেশন বিষয়ে এক জন লিখেছেন, “রিপোর্টে বলা হয়েছে দেশি বিদেশি লোকেশনে শ্যুট করা হয়েছে। এটা তো ডাহা মিথ্যা কথা।”

অন্য এক জনের সরেস মন্তব্য, “নিশ্চয়ই এটিএন মিউজিক অ্যাওয়ার্ড পাবে একদিন, দেখবেন!!!”

এক জন প্রবাসী তার ফেসবুকে লিখেছেন, “সাগরের সাইডে ঢেউ আর বাতাসের শব্দের ভিত্রে বেহালা বাজিয়ে গান করতে পারেন উনি।

আমাদের মন ভরিয়ে দেন অসাধারণ কথায় লেখা গান গেয়ে “তোমার ঐ বুকের ভিতরে সবটুকু জায়গা আমার…” < Censure please.

এই পোস্টে এক জন কমেন্ট করেছেন, “সাগর আর বাতাসের গর্জনও থমকে যায় এমন (অ)সুরের কাছে… তাই গান গাইতে সমস্যা হয় না।”

একজন দুইটি ছবি পোস্ট করেছেন। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে একজন টিভিতে মাহফুজুর রহমানের গান দেখছেন। পরের ছবিতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন। আরেকজন তার মাথায় পানি ঢালছেন।

ফেসবুকেই আরেক জন লিখেছেন, “ডক্টর মাহফুজ চাইলে দেশের বিখ্যাত গীতিকার, সুরকার ও কন্ঠশিল্পীদের সাথে জোট বেঁধে গান করে জাতে উঠতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেই সহজ কাজটি না করে নিরলস অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে একক প্রচেষ্টাতেই রত রয়েছেন।

উনার এই সাধনা ও একাগ্রতায় আকৃষ্ট হয়ে আমি তাঁর সাথে ডুয়েট করবার ইচ্ছা পোষণ করছি। দোস্ত দুষমন, শোলে’র গানের রিমেক কিংবা এমন পিতা-পুত্র কিংবা বন্ধু সম্পর্কের গান পরিবেশন করলে তা আপামর সাধারণ মানুষ হৃদয় দিয়ে লুফে নিবে আমার বিশ্বাস। একজন আনকোরা মানুষের সাথে উনার মত প্রখ্যাত মানুষের গান শুনতে সকলেই কৌতুহলী হবে। আর শোনার পরে ওয়ান মোর বলে সামনে এগিয়ে যেতে প্রণোদিত করবে ইনশাল্লাহ।

কেউ উনাকে আমার ইচ্ছার কথা জানিয়ে দিবেন প্লিজ। অথবা এই লেখা কপি করে উনার টাইম্লাইনে পোস্ট দিতে পারেন। আইডি জানা থাকলে আমি নিজেই উনাকে জানাতে পারতাম।”

অন্য এক জন লিখেছেন, “মাহফুজুর রহমানকে নিয়ে সারাদেশে যেভাবো হইচই হয় আমার ভালোই লাগে! মানুষ খুব ক্রিয়েটিভ ভাবে তাঁকে নিয়ে হাস্যরস ও মজা করে!
মাহফুজুর রহমানের আশেপাশে যারা আছেন তাঁরা খুব বিজ্ঞলোক । তাদের উচিত মাহফুর রহমানকে গান গাওয়া থেকে বিরত রাখা! কিন্তু তাঁরা সহজ পথ না ধরে তাঁকে ‘আসকারা’ দিয়ে যাচ্ছেন!
কাজটা অনুচিত…..
এরশাদকে জোর করে কবি বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে! বারবার এই কারণে অসম্মানিত হয়েছেন! মাহফুর রহমানকেও জোর করে গান গাওয়ানোর চেষ্টা আর এরশাদকে কবি বানানোর চেষ্টা একই রকম অপরাধের পর্যায়ে পড়ে…।”

এমন হাজার হাজার পোস্টে মঙ্গলবার রাত থেকে ভরে উঠেছে ফেসবুকের নিউজ ফিড। কমেন্টে কমেন্টে সয়লাব হচ্ছে এসব পোস্ট। মাহফুজুর রহমানের ছবি আর গানের লিংক ভাইরাল হয়েছে।

এ সব ট্রল নিয়ে মাহফুজুর রহমানের সাথে কথা বলা হয়নি এ প্রতিবেদকের। কারণ, অনুষ্ঠানের উপস্থাপক অনস্ক্রিন জানিয়ে দিয়েছেন, মাহফুজুর রহমান এ সব সমালোচনা নিয়ে মোটেই চিন্তিত নন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *