১২ এপ্রিল ২০২২ (নিউজ ডেস্ক): সিলেট ক্যাডেট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র সাবিতের মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য দানা বেঁধে উঠেছে। এ নিয়ে শিবলী নোমানী মুহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি তার পোস্টে সাবিতের বন্ধুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন। আর্ট নিউজের পাঠকদের জন্য শিবলী নোমানী মুহাম্মদের পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
“আমার ছেলের ক্লাসমেট, নাম সাবিত। সিলেট ক্যাডেট কলেজের একাদশ শ্রেণীতে পড়তো। রমজানের ছুটিতে গ্রামের বাড়ী টাঙ্গাইলে গিয়েছিলো। তারপরই গত ৯ এপ্রিল ২০২২ তারিখে ঘটলো অপমৃত্যু।
কেউ কেউ বলছে আত্মহত্যা। তার মাও বলছে তাই। তার বাবা সৌদিআরবে থাকেন। বাবার পক্ষের আত্মীয়স্বজন বলছে খুন।
আমরাও তো একজন আরেকজনের ক্লাসমেট বা কলেজমেট। আমাদের কি মনোভাব হতে পারে নিচের লেখাটি পড়ে আঁচ করা যাবে।
সাবিতের কোন একজন কলেজমেট কি বলছে, শুনুন- ‘কালকে দুপুর থেকে ইতোমধ্যে সকল দিকেই হয়তো ছড়িয়ে গেছে সিলেট ক্যাডেট কলেজের একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ক্যাডেট সাবিত আত্মহত্যা করেছে। ওর মৃত্যুর খবরটা আমাদের কাছেও নিছক তাই ছিল যতক্ষণ না আমরা সশরীরে ওর বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে দেউপাড়া গিয়ে হাজির না হই। আমরা আসার আগে যখন প্রতিবেশিরা ওর মায়ের কাছে মৃত্যুর কারণ শুনতে চায় তখন কখনো তিনি বলেন মেয়েজনিত কারণে সুইসাইড করেছে আবার কখনো বলেন ওর তিনজন সিভিল ফ্রেন্ড ওকে খুন করেছে। আর ওর মায়ের ফোন চেক করতে চাইলে নাকি বলে কেউ একজন তার ফোন নিয়ে সব কল ডিলিট করে দিয়েছে। এদিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাবিতের জানাযায় শরিক হতে আমরা ২৪ জন সেখানে পৌঁছানোর সংবাদ শুনেই সেখান থেকে ওর মা তাড়াতাড়ি করে চলে যান।
ওর ক্লাস থ্রীতে পড়ুয়া ছোট ভাইটি হয়তো অনেক কিছুই জানে তাই তাকে দাফন পর্যন্ত আটকে রাখা হয় অন্য এক রুমে তালাবদ্ধ করে। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল পরিবারের ক্যাডেটটির খরচ যোগাতে সাবিতের বাবা যখন সৌদি আরবে প্রবাসী তখন সাবিতের কাছের বলতে ওইখানে কেবল আমরা ২৪ জনই ছিলাম। তাই গ্রামের সব মানুষ এসে আমাদেরকে ঘিরে ধরে। প্রত্যন্ত এক অঞ্চল থেকে উঠে আসা যে ছেলে ক্যাডেট কলেজেও কখনো সেকেন্ড হতো না তাকে নিয়ে গ্রামবাসীদের স্বপ্নের শেষ ছিল না। আর সাবিতের স্বপ্ন ছিল একদিন পরিবারের হাল ধরা। কিন্তু কারোর স্বপ্নই আজ আর পূরণ হলো না। খারাপ লাগছিল যখন খাটিয়া ধরার জন্যও এক জোড়া হাত পাওয়া যাচ্ছিল না। এমনকি কবর দেয়া নিয়েও সাবিতের মামার আপত্তি। অবশেষে যে চেয়ারম্যানকে তারা জুতা নিয়ে মারতে চেয়েছিলেন আগেরদিন তিনি আমাদেরকে আদেশ দেন মাটি দেয়ার জন্য। আর আমরাও মাটির নিচে ওকে শুইয়ে আসলাম ওর অপরাধ না জেনেই। ওর দরিদ্র পরিবার হয়তো কখনো বিচার চাওয়ার মতো দুঃস্বপ্ন দেখবে না। প্রতি বছর মিলাদ মাহফিল হলেও হয়তো ওদের ব্যাচ পাস আউট করার পরপরই সবাই ভুলে যাবে নিষ্পাপ এই ক্যাডেটটির নাম। কিন্তু আজীবন সাবিতের নিষ্পাপ চেহারাটা আমাদের সমুন্নত মাথাকে বারবার নত করে দিবে এইজন্য যে ক্যাডেট ট্যাগ নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েও আমরা কিছুই করতে পারিনি। সুবিচার কোথায় পাব জানা নেই কিন্তু শুধু এটুকুই জানাতে চাই জীবনসংগ্রামে দৃঢ় আমার ছোট ভাইটি নিষ্পাপ, সাবিত আত্মহত্যা করেনি।’
পরিশেষে আমি এটুকুই বলবো । আমরা ন্যায়বিচার চাই। আর কিশোর এই ছেলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আমীন।
বি.দ্র: কেউ যদি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সাবিতের বাবার পারিবারের সাথে যোগাযোগ করতে চান, তো তার চাচাতো ভাই আব্দুস সাত্তার এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আব্দুস সাত্তার এর মোবাইল নাম্বার 01781-546948″
পোস্টের লিংক: https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=10224998333718090&id=1009345636
সাবিত/এএমএম/আরএম
আরও খবর পড়তে: http://artnewsbd.com
আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD
















Leave a Reply