নিউজ ডেস্ক: ১৯১২ সালের ১৫ জানুয়ারি আসামের রণেশ দাসগুপ্তের জন্ম হয়। শিক্ষা জীবন বাঁকুড়ায়, কলকাতা সিটি কলেজ পরে বাংলাদেশের বজ্রমোহন কলেজে। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে পরায় তিনি জীবনের শুরুতে সোনার বাংলা পত্রিকায় কাজ শুরু করেন। এরপর তার লিখনিতে বাংলা সাহিত্যে নতুন এক ধারা সৃষ্টি হয়। শুধু লিখার মধ্যে তিনি তার কাজ সীমাবদ্ধ করে রাখেননি। তিনি লেখক সোমেন চন্দের সাথে গড়ে তুলেন প্রগতি লেখক সংঘ। কালজয়ি সাহিত্যিক সত্যেন সেনের সাথে গড়ে তুলেন উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী। তিনি মানুষের সাথে থেকে তাদের জীবনের পরিবর্তনের জন্য কাজ করতেন তাই ১৯৫৬ সালে ঢাকা পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তাতীবাজার অঞ্চলে। তার লিখায় মার্কসবাদী দর্শন ফুটে উঠতো এবং তার লিখালিখির সময়টা বাংলা সাহিত্য সাধু ভাষা থেকে চলিত ভাষায় প্রতিষ্ঠা হচ্ছিল তিনি এই ভাষার প্রকাশটি আরও প্রাঞ্জল করেন।
আজ রণেশদার স্মৃতি বিজরিত বিউটি বোর্ডিং বাংলাবাজারে রণেশ দাশগুপ্ত স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যেগে তার ১১৩তম জন্মজয়ন্তি উদযাপন করা হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পাঠাগারের সভাপতি ইফতেখার পাভেল, সঞ্চালনা করেন বিকাশ সাহা। আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কলামিস্ট মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু, লেখক মোনায়েম সরকার, সিনিয়র সাংবাদিক নাসিমুন আরা হক মিনু, সংস্কৃতিজন সোহরাব উদ্দীন, দৈনিক সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার করিম, সংগঠক গোলাম রাব্বী খান।
বিশিষ্ট কলামিস্ট মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু বলেন, আলো দিয়ে আলো জ্বালানোর কাজটি করেছেন রণেশদা। তিনি আলো দিয়ে আলোকিত করেছেন সেই আলো ছড়িয়ে দেবার কাজটি আমাদের করতে হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সাহিত্যের আলো পৌঁছে দিতে হবে।
সিনিয়র সাংবাদিক নাসিমুন আরা হক মিনু বলেন, রণেশদার সংস্পর্শে আসা যেকোন মানুষের জন্য অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা। আমি ধন্য তার সান্নিধ্যে এসে। তিনি ঋষি ছিলেন। তার সৃষ্টি এবং চিন্তা অনন্য অসাধারণ। তিনি সময় ও কালকে ছুঁতে পারতেন।
সংস্কৃতিজন সোহরাব উদ্দীন বলেন, আমাদের সংস্কৃতির দিকপাল রণেশদা। তার প্রতিটি লিখা মৌলিক। আজকে আকাশ সংস্কৃতির এই সময়ে রণেশ দাশগুপ্ত চর্চা জরুরি। তাহলে মুক্তি মিলবে।
সম্পাদক শাহরিয়ার করিম বলেন, আমাদের সংস্কৃতি চর্চা রণেশদাকে বাদ দিয়ে করলে তা হবে অসম্পূর্ণ। বাংলা সাহিত্যের রেনেসাঁর যুগে তার সৃষ্টি এখনও আলোড়িত করে আমাদের।
অন্যান্যরা বলেন, পাঠাগার আন্দোলন আজ জরুরি হয়ে গেছে। দেশের বর্তমান অবস্থায় শোষণ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে রণেশদা চর্চা করা এবং তা ছড়িয়ে দিতে হবে। পাঠাগার আন্দোলন হবে সেই উদ্যোম। আসুন আমরা আজকের এই দিনে রণেশদাকে স্মরণ করি এবং তার আলোতে আলোকিত হই
রণেশ দাশগুপ্ত/এএমএম
আরও খবর পড়তে: artnewsbd.com
আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD
















Leave a Reply