স্মৃতিতে কাজী আনোয়ার হোসেন

রহমান মুস্তাফিজের মন্তব্য প্রতিবেদন: বইয়ের পাঠক তৈরিতে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে জনপ্রিয় থ্রিলার সিরিজ মাসুদ রানা। মাসুদ রানার স্রষ্টা এবং সেবা প্রকাশনীর প্রকাশক কাজী আনোয়ার হোসেন। গেল বুধবার তিনি মারা গেছেন। ইতোমধ্যে দাফনও সম্পন্ন হয়েছে।

কাজী আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুতে মনটা খারাপ হলো। মনে পড়লো পুরনো কিছু স্মৃতি। সবটাই অবশ্য পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ঘটা ঘটনা।

প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ, দাবাড়ু ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেনের ছেলে কাজী আনোয়ার হোসেন। জন্ম ঢাকায় ১৯৩৬ সালের ১৯ জুলাই। পুরো নাম কাজী শামসুদ্দীন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম নবাব। তিনি ১৯৫২ সালে ঢাকার সেন্ট গ্রেগরী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। আইএ এবং বিএ পাশ করেন জগন্নাথ কলেজ থেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬১ সালে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নিয়ে অসাধারণ একটা ঘটনা আছে। যার প্রতিফলন তিনি ঘটিয়েছিলেন মাসুদ রানা সিরিজে।

১৯৬২ সালে কণ্ঠশিল্পী ফরিদা ইয়াসমিনকে বিয়ে করেন। পরের বছর (১৯৬৩ সালে) বাবাকাজী মোতাহার হোসেন ১০ হাজার টাকা ছেলেকে দেন ব্যবসার পুঁজি হিসেবে। সেই টাকায় সেগুনবাগিচায় শুরু করেন প্রেসের ব্যবসা। এরপরে যুক্ত হন প্রকাশনার কাজে। প্রতিষ্ঠানের নাম দেন সেবা প্রকাশনী।

১৯৬৪ সালের জুন মাসে সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয় প্রথম বই। কাজী আনোয়ার হোসেনের লেখা থ্রিলার ‘কুয়াশা-১’ ছিল সেবা প্রকাশনীর প্রথম বই। যা পরে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। অল্পদিনেই কুয়াশা সিরিজ জনপ্রিয়তা পায়। এর জনপ্রিয়তা থাকা অবস্থাতেই নতুন আঙ্গিকে শুরু করেন আরেকটি সিরিজ- মাসুদ রানা। ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হয় মাসুদ রানা সিরিজের প্রথম বই ধ্বংস পাহাড়। তবে বইটি তিনি বিদ্যুৎ মিত্র ছদ্মনামে লেখেন।

শুরু থেকেই মাসুদ রানা সিরিজ দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। মাসুদ রানা চরিত্রটিকে অনেকে বাস্তব বলেও মনে করতে শুরু করেন। আগ্রহ আর কৌতুহল তৈরি হয় মাসুদ রানা আর তার স্রষ্টা কাজী আনোয়ার হোসেনকে ঘিরে। কিন্তু সেই আগ্রহ বা কৌতুহল মেটানোর কোন সুযোগ নেই। কারণ, কাজী আনোয়ার হোসেন পত্রিকায় সাক্ষাতকার দেন না কোন এক অজানা কারণে।

১৯৯৮ সালে আমি দ্বিতীয় বারের মত ভোরের কাগজে যুক্ত হয়েছি। ডেইলি ফিচার ছাড়াও সাপ্তাহিক পাতা ‘ক্যারিয়ার গাইড’এর বিভাগীয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। প্রতি শনিবার তখন বের হতো সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘অবসর’। এটি ছিল দেশের দৈনিক পত্রিকা জগতের প্রথম সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন। বিভাগীয় সম্পাদক ছিলেন হুমায়ূন রেজা। ফিচার এডিটর সঞ্জীব চৌধুরী (ব্যান্ডদল দলছুট-এর অন্যতম ভোকাল ছিলেন) আর হুমায়ূন রেজা সিদ্ধান্ত নিলেন অবসর-এর কাভার স্টোরি করবেন মাসুদ রানা নিয়ে। স্বভাবতই ওই সংখ্যায় কাজী আনোয়ার হোসেনের একটা ইন্টারভিউ লাগবে। অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হলো একজনকে। তিনি ব্যর্থ হলেন সাক্ষাতকার নিতে। পরপর আরও দুইজন চেষ্টা করলেন। কেউই সফল হলেন না। শেষ পর্যন্ত সঞ্জীব দা একদিন আমাকে বললেন, ‘মাসুদ, সাক্ষাতকারটা নিয়ে দেন। আপনি ছাড়া আর কেউ পারবে না।’

দাদাকে বললাম, দেখি চেষ্টা করে। সেদিন কাজী আনোয়ার হোসেন সম্পর্কে কিছু তথ্য সংগ্রহ করি। তাঁর ছেলে কাজী শাহনূরের বন্ধু আমাদের সহকর্মী আবিদা নাসরীন কলি। কলি শাহনূরের সাথে কথা বললেন, লাভ হলো না। তবে কাজী আনোয়ার হোসেন অফিসে সরাসরি যে টিঅ্যান্ডটি ফোনটি ব্যবহার করেন তার নাম্বারটি পাওয়া গেল। কলির সহায়তায় নাম্বারতো পেলাম, পরের পদক্ষেপ কি হবে? প্রথম দফায় ব্যর্থ হলে যোগাযোগের দরজা পুরোপুরি বন্ধ হবে।

পরদিন সকালে বাসা থেকে ফোন দিলাম। তিনিই ফোন রিসিভ করলেন। পরিচয় দিলাম এভাবে, ‘মাসুদ বলছি। তবে নামের সাথে রানা নেই।’

পরিচয় দেয়ার ভঙ্গীটা তিনি পছন্দ করলেন। জানতে চাইলেন কি প্রয়োজনে ফোন করেছি। বললাম, কথা বলতে চাই। কাচাপাকা ভুরুর সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলবো। দেখতে চাই আমার আত্মবিশ্বাস কতোটা।

তিনি হাসলেন। জানতে চাইলেন, ‘সাংবাদিক?’

– জ্বী।

: আমিতো সাক্ষাতকার দেই না।

– সাক্ষাতকার না। আপনার সাথে দেখা করতে চাই। কিছু কৌতুহল মেটাতে চাই।

: ঠিক আছে। মনে থাকে যেন, কোন সাক্ষাতকার না।

– জ্বী, কোন সাক্ষাতকার না। কখন আসবো?

: আগামীকাল বিকেল শার্প চারটায়।

– অফিসে, নাকি বাসায়?

: কোথায় আসতে চান?

– অবশ্যই অফিসে। রাহাত খান সাধারণত মাসুদ রানাকে বাসায় ডাকেন না।

তিনি আবার হাসলেন। বললেন, ‘আপনাকে দেখার জন্য আমারও কৌতুহল হচ্ছে। আগামীকাল দেখা হবে।’

এরপর তিনি ফোন রেখে দিলেন।

পরদিন বিকেল চারটা বাজার ৫/৭ মিনিট আগেই পৌঁছে গেলাম সেবা প্রকাশনীতে। দোতলায় উঠে খানিকটা অপেক্ষা করলাম। ঠিক চারটার সময় রুমের ভিতরের গ্র্যান্ডফাদার ক্লকে ঘন্টা বাজলো। প্রথম ঘন্টা বাজার সাথে সাথে আমিও কাঁঠের দরজায় নক করি। ভিতর থেকে গম্ভীর কণ্ঠে যেন মেজর জেনারেল (অব.) রাহাত খান ডাকলেন, ‘কাম ইন’।

ভিতরে ঢুকলাম। দরজা বরাবর একটা হাতলওয়ালা কাঠের চেয়ারে বসে আছেন কোমলে কঠোরে মেশানো অমর স্রষ্টা কাজী আনোয়ার হোসেন। পিছনের দেয়ালে গ্র্যান্ড ফাদার ক্লক। টেবিলের ওপর ফাইল আর কাগজের স্তুপ। দেখে মনে হচ্ছে রানা, সোহেল, সোনিয়াদের অ্যাসাইনমেন্টের ফাইল নিয়ে বসেছেন। মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে গোপন মিশনে কে কোথায় যাবে সে ছক আঁকছেন তিনি। আমাকে বসতে বললেন। তাকিয়ে আছেন। দেখছেন। মাপছেন। বললাম, আমি মাসুদ।

তিনি হাসলেন। হেসে যোগ করলেন, সাথে রানাটুকু নেই।

– জ্বী। রানার ভালো নামও মাসুদ। রানাতো ডাক নাম।

: মাসুদ রানা পড়েন?

– নিয়মিত। সিরিজের শেষ বইটাও পড়েছি। নতুন বই না আসা পর্যন্ত পুরনোগুলো বারবার পড়ি।

: কেমন লাগে?

– অসাধারণ। একসময় কোন কোন পর্ব প্রকাশের আগেই পড়ে ফেলতাম।

তিনি অবাক হয়ে তাকালেন। তারপর এমন হাসি দিলেন, যার অর্থ, একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি। তাকে খুশি করতে গিয়ে মিথ্যে বলে ফেলেছি।

তার হাসি দেখে বললাম, আমাদের প্রেসের নাম সুরুচি প্রেস। কারকুন বাড়ি লেনে ছিল। আপনার প্রেসে কাজের চাপ থাকলে কিছু বই আমাদের ফ্ল্যাট মেশিনে ছাপা হতো।

এবার তিনি বিশ্বাসের হাসি হাসলেন। বললেন, আপনিতো আসলে আমার সাক্ষাতকার চান। কিন্তু আমি যে দেই না।

– জ্বী আপনি বলেছেন। আমি সাক্ষাতকার নিতে আসিনি। তবে আপনার সাক্ষাতকার নিতে না পারলে আমার চাকরিটা নড়বড়ে হবে। তাই ভাবছি আপনার সাথে দেখা করার ঘটনা নিয়েই একটা লেখা জমা দিব। তাতেও চাকরি না থাকলে সেবা প্রকাশনীতেই একটা চাকরি খুঁজে নিব। আজকের পরিচয়টা নিশ্চয়ই তখন কাজে লাগবে।

বইটি প্রথমে প্রকাশিত হয় লেখকের ছদ্মনামে। ব্যবহার করা হয় বিদ্যুৎ মিত্র নাম। স্বাধীনতার পর নতুন সংস্করণে কাজী আনোয়ার হোসেন স্বনামে এটি প্রকাশ করেন।

কাচাপাকা ভুরুর ফাঁক দিয়ে তিনি আমাকে আবার দেখলেন। এরপর কি যেন ভাবলেন। এ সুযোগে বললাম, মাসুদ রানার বয়সতো তিরিশে আটকে আছে। আমারও কি তাই থাকবে?

তিনি বললেন, সাক্ষাতকার শুরু হলো? বললাম, না। কৌতুহল। নিজেকে মাসুদ রানা ভাবতে ভালো লাগে। তাই জানতে চাইলাম।

তিনি এর কোন উত্তর দিলেন না। জানালেন, স্বাধীনতার পর মাসুদ রানার কাহিনী নিয়ে মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা) প্রযোজনা করলেন চলচ্চিত্র। সেই সিনেমায় সোহেল রানা নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করলেন। সে সময় সাপ্তাহিক পূর্বানীতে (চিত্রালীও হতে পারে, এতো বছর পর নাম বিভ্রাট হতে পারে) তাঁর (কাজী আনোয়ার হোসেন) একটি সাক্ষাতকার ছাপা হয়। রিপোর্টার যে সাক্ষাতকারটি নিয়েছিলেন প্রকাশিত সাক্ষাতকারের সাথে তা খুব বেশি মিল ছিল না। তিনি প্রতিবাদ পাঠিয়েছিলেন। পত্রিকা কর্তৃপক্ষ সেটি আমলে নেয়নি। এরপর থেকে তিনি সাক্ষাতকার দেয়া বন্ধ করেছেন।

বললাম, তাহলে আমার কি হবে?

তিনি ভাবলেন। তারপর বললেন, অনেক বছর পর আমি সাক্ষাতকার দিব। আপনাকে পছন্দ হয়েছে বলেই আমি আমার এতোবছরের সিদ্ধান্ত পাল্টাবো। কিন্তু শর্ত আছে।

শর্তের কথা জানতে চাইলাম। তিনি বললেন, আমাকে লিখিত প্রশ্ন দিতে হবে। আমিও লিখিতভাবে উত্তর দিব। ফাইনাল প্রুফ আমাকে দেখিয়ে নিতে হবে। আমারতো ততক্ষণে মনে লাড্ডু ফুটছে। সাথে সাথে রাজী হয়ে গেলাম। পরদিন লিখিত প্রশ্ন দিয়ে আসতে বললেন। আমার অতো সময় নেই। পকেট থেকে প্রশ্ন বের করে ওনার হাতে দিলাম। উনি অবাক হলেন।

: প্রশ্ন রেডি করে কম্পোজ করে নিয়ে এলেন? আমি যদি রাজী না হতাম?

– আমার বিশ্বাস ছিল আপনি আমাকে ফেরাবেন না।

: রানার মতই আত্মবিশ্বাসী।

এরপর তিনি জানতে চাইলেন, কবে লাগবে। বললাম, পরশু হলেই চলবে। বৃহস্পতিবার মেশিনে উঠবে।

বিদায় নিয়ে প্রায় উড়তে উড়তে সেগুনবাগিচা থেকে বাংলামটর চলে এলাম। পথেই ফোন করে সঞ্জীব দা আর হুমায়ূন রেজাকে জানালাম সাক্ষাতকারের কথা।

বুধবার সকালে ফোন করে দুপুরে গেলাম সেবা প্রকাশনীর অফিসে। তিনি তখন বাসায় গেছেন খেতে। অফিস থেকে আমাকে সাক্ষাতকারের হাতে লেখা কপিটি দিলেন। ফিরতি রিকশায় উঠে গোগ্রাসে গিলতে গিলতে অফিসে ফিরি। সরাসরি কম্পিউটার সেকশনে গিয়ে কম্পোজ করতে দিলাম। রাতেই প্রথম দুইটা প্রুপ আর কারেকশন করিয়ে ফেললাম। দ্বিতীয় প্রুফটা নিজেই দেখলাম। পরদিন আবার ফোন করি। প্রুফ নিয়ে কখন যাবো জানতে চাই। তিনি বললেন, আমার প্রতি তাঁর আস্থা আছে। তিনি প্রুফ দেখার প্রয়োজন মনে করছেন না।

শনিবার অবসর-এর সেই সংখ্যা বের হলো। তার আগে দুইদিন বিজ্ঞাপন ছাপা হলো ভোরের কাগজের শেষ পৃষ্ঠায়। হু-হু করে বিক্রি হয়ে গেল ভোরের কাগজের সেদিনের সব সংখ্যা। বিকেলে দুইটি কপি নিয়ে গেলাম সেগুনবাগিচায়। সাথে লেখক সম্মানির দুই হাজার টাকা। তিনি নিজে যেহেতু লিখিতভাবে সাক্ষাতকারটি দিয়েছেন তাই এই সম্মানীর ব্যবস্থা ছিল।

তিনি কপি দুইটি হাতে নিয়ে টেবিলে রাখলেন। জানালেন, সকালেই দেখেছেন। এরপর সম্মানীর খামটা ওনাকে দেই। উনি জানতে চাইলেন, এর ভিতরে কি আছে। বললাম, আপনার সাক্ষাতকারের জন্য সম্মানী।

কাজী আনোয়ার হোসেন খুব অবাক হলেন। বললেন, আমরা এতোটা সভ্য হয়ে গেছি?

– আপনার কথা বুঝিনি।

: সভ্য দেশে সাক্ষাতকারদাতাকে সম্মানী দেয়া হয়। কারণ তিনি তার মূল্যবান সময় ব্যয় করেছেন। আমাদের দেশে এই বোধটা নেই। উল্টো কেউ কেউ টাকার বিনিময়ে সাক্ষাতকার নেন বা দেন। বাহ, খুব ভালো, আমাদের দেশেও এটা চালু হয়েছে।

– আমরা ভোরের কাগজ এই চর্চ্চাটা করি। হয়তো খুব বেশি দেয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু অল্প হলেও দেয়ার চেষ্টা আছে।

: দুই হাজার টাকা অনেক টাকা। মোটেও অল্প না। তারচেয়ে বড়ো কথা ‘সদিচ্ছা’। এটা সবার থাকে না।

সেদিনই প্রথম জানলাম, সাক্ষাতকার দিয়েও টাকা উপার্জন করা যায়। এটি জেনে খুব অবাক হয়েছিলাম।

পিয়ন ডেকে তিনি মিষ্টি আনালেন। না, তাঁর সাক্ষাতকার ছাপা হয়েছে বলে মিষ্টি খাওয়াবেন… ব্যাপারটা এমন নয়। আমার মাধ্যমে দেশের সংবাদপত্র শিল্পে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন (সম্মানী) এসেছে তা জেনেছেন। তাই মিষ্টি খাওয়াবেন। অগত্যা মিষ্টি খেয়ে বিদায় নেই।

অবসর-এর সেই সংখ্যায় তাঁর সাক্ষাতকারটা আলাদাভাবে প্রকাশিত হয়। সাক্ষাতকারের শেষে বক্স করে ছাপা হয়েছিল আমার ছোট্ট একটা লেখা। যেখানে কিভাবে সাক্ষাতকারটি নিয়েছিলাম তা লেখা হয়েছিল।

ওই সাক্ষাতকারে অনেক না জানা কথা জেনেছি। তবে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছিল একটি তথ্য। জানতে চেয়েছিলাম, রাহাত খান আর কবীর চৌধুরী সম্পর্কে।

জানালেন, তিনি যখন স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাইলেন তখন কিছু জটিলতা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর (প্রয়াত। বরেণ্য সাহিত্যিক ও অনুবাদক) শরণাপন্ন হন। কিন্তু তিনি কোন সহায়তা করলেন না। বরং তাঁর (কবীর চৌধুরীর) ব্যবহারে কষ্ট পেয়েছিলেন। পরে ইত্তেফাকের সাংবাদিক, সাহিত্যিক রাহাত খানের সহায়তায় তিনি (কাজী আনোয়ার হোসেন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন।

মাসুদ রানা সিরিজের প্রথম বই লিখতে গিয়ে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের নামকরণে তিনি তার বাস্তব অনুভূতির আশ্রয় নেন। রাহাত খান যেহেতু সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, তাই মাসুদ রানার বসের নাম হলো ‘মেজর জেনারেল (অব.) রাহাত খান’। অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর বিরূপ আচরণের জন্য মাসুদ রানা সিরিজের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিলেন হিসেবে চিহ্নিত হলেন অধ্যাপক কবীর চৌধুরী। যার নামের সাথে আবার বিশেষণ দিলেন, এফ কবীর চৌধুরী বা ফালতু কবীর চৌধুরী।

আরও পড়তে: বিদায় কাজী আনোয়ার হোসেন

এমন অনেক তথ্য সেসময় জেনেছিলাম। এই সাক্ষাতকারের পরও বেশ কিছুদিন যোগাযোগ ছিল এই মহান স্রষ্টার সাথে। তিনি আমাদের ছেড়ে গেছেন চিরদিনের জন্য।

যেখানেই থাকুক এই প্রিয় মানুষটি, ভালো থাকুক।

লেখক পরিচিতি: রহমান মুস্তাফিজ; লেখক, সাংবাদিক ও নির্মাতা

আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন:

http://artnewsbd.com

আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD

https://www.youtube.com/channel/UCC2oLwZJYHIEygcbPX3OsWQ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *