শিশুবক্তার ফোনে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও

৮ এপ্রিল ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): কথিত শিশুবক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানির মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে। এমন তথ্য জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)।

বুধবার রাতে রফিকুল ইসলাম মাদানিকে তার নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার লেটিরকান্দা এলাকার বাড়ি থেকে আটক করে র‌্যাব-১ এর একটি টিম। আটকের সময় রফিকুল ইসলাম মাদানি ও তার পরিবারের সদস্যদের চারটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

র‌্যাব-১ এর সহকারি পুলিশ সুপার মুশফিকুর রহমান তুষার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আটক রফিকুল ইসলাম মাদানির কাছ থেকে ৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। তার মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ছবি, ভিডিও ও ভিডিও লিংক পাওয়া গেছে… যা তার ভণ্ড চরিত্রের পরিচয় বহন করে।

এদিকে, রফিকুল ইসলামকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে র‌্যাবের দায়ের করা মামলায় গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার তাকে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শরিফুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

গাজীপুর জেলা কারাগারের সুপার বজলুর রশিদ আকন্দ জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১০টা ৫ মিনিটে তাকে কারাগারে নেয়া হয়।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-পরিদর্শক ইলতুৎমিশ জানান, বুধবার রাতে আটকের পর রফিকুল ইসলাম মাদানিকে গাজীপুরের গাছা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে র‌্যাব। তার বিরুদ্ধে গাছা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। র‌্যাব-১ এর জেসিও-৮৭২৭ নায়েব সুবেদার (ডিএডি) আব্দুল খালেক বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গাছা থানাধীন বোর্ডবাজার কলমেশ্বর এলাকার শীতক ফ্যাক্টরির ভিতর এক ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দেন রফিকুল ইসলাম মাদানি। মাহাফিলে তিনি রাষ্ট্র তথা সরকারবিরোধী ও আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী উস্কানি ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ডিজিটাল মাধ্যমে প্রদান করেন, যা তার নির্দেশে ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

উস্কানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার অনুসারীরা গত ২৬ মার্চ ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতা করে। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটে।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি বিভিন্ন সময়ে দেশ ও সমাজের জন্য ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলাসহ জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন। তিনি বাংলাদেশের স্বার্থ পরিপন্থী বিভিন্ন অপতৎপরতায় লিপ্ত থেকে ধর্মীয় অর্থাৎ কোরআন ও হাদিসের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উস্কানি দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন।

মাদানি কারাগারে/রমু/আরএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *