লুটপাটের অভিযোগে পুলিশ আটক

দেরিতে পাওয়া খবরে জানা গেছে, শশীভূষণ থানার কতিপয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। জনতা অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে থানার ওসির হাতে সোপর্দ করে।

অভিযুক্ত তিনজনই ভোলার চরফ্যাশনের শশীভূষণ থানায় কর্মরত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে চরকলমী ইউনিয়নের আঞ্জুরহাট বাজার এলাকার আমিনুল ইসলাম তুহীন হাওলাদারের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর করার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় তারা তুহীনের বাসায় গিয়ে হামলা ও লুটপাট শুরু করলে তুহীনের স্ত্রী সাহারা বেগম চিৎকার করে লোকজন জড়ো করেন। প্রায় শতাধিক মানুষ জড়ো হয়ে হামলাকারীদের আটক করে।

তাদের আটক করে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। সন্ধ্যায় শশীভূষণ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। তিনি জনতার হাতে আটত তিন পুলিশ সদস্যকে থানায় নিয়ে আসেন।

সাহারা বেগম অভিযুক্ত তিন পুলিশের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনার পর চরফ্যাশন সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার শেখ সাব্বির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

অভিযোগে সাহারা বেগম জানান, শুক্রবার তিনি রোজা ছিলেন। সন্ধ্যায় তিনি ইফতারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বাসায় তিনি ও তার ছোট মেয়ে ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। এ সময় শব্দ পেয়ে দরজা খুললে ৭/৮ জন লোক ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র, আলমারি, শো-কেস ভাংচুর করে লুটপাট শুরু করেন। তিনি হামলাকারীদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

লিখিত বক্তব্যে সাহারা বেগম জানান, হামলাকারীদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করে তিনি পিছনের দরজা দিয়ে বাসা থেকে বের হন এবং চিৎকার করে লোক ডাকেন। চিৎকার শুনে বাজার থেকে শতাধিক মানুষ এসে বাসাটি ঘিরে ফেলেন। হামলাকারীরা বিপদ টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কয়েকজন নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যেতে পারলেও জনতা তিন জনকে আটক করে।

জানা গেছে, আটক তিনজনের মধ্যে একজন শশীভূষণ থানায় কর্মরত এএসআই ফেরদৌস, আরেকজন একই থানার কনস্টেবল সোহেল। আটক অপর ব্যক্তি রসুলপুর ইউনিয়নের বখাটে লিমন।

এ বিষয়ে শশীভূষণ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম  ভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানান, আটক দুই পুলিশ সদস্য মাদকবিরোধী অভিযানে আঞ্জুরহাট এলাকায় যান। সেখানে পূর্ব পরিচিত লিমনের সাথে তাদের দেখা হয়।  লিমনের আমন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা চা খেতে তুহীন হাওলাদারের বাসায় যান।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ওই বাসার কলেজ পড়ুয়া মেয়ের সাথে লিমনের প্রেমঘটিত বিষয় ছিল। যাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে।

তিনি আরও জানান, পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং সাহেরা বেগমের দায়ের করা অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *