বিদায় শ্যন কনোরি

০১ নভেম্বর ২০২০ (বিনোদন ডেস্ক): কালজয়ী অভিনেতা শ্যন কনোরি মারা গেছেন। জেমস বন্ড চরিত্রে অভিনয় করে এই অভিনেতা দুনিয়াজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। বিদায় বেলায় বরেণ্য এই শিল্পীর বয়েস হয়েছিল ৯০ বছর।

শনিবার অস্কার জয়ী এই অভিনেতা তার বাহামার বাড়িতে ঘুমের মধ্যে মারা যান। বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন শ্যন কনোরি। খবর: বিবিসি।

চলচ্চিত্রে অবদান রাখায় ২০০০ সালে তিনি নাইটহুড খেতাবে ভূষিত হন। ১৯৬০ এর দশকে জেমস বন্ড চরিত্রে ০০৭ ছবিগুলোতে অভিনয় করে তারকা খ্যাতি পেয়েছিলেন।

শ্যন কনোরি দ্য আনটাচেবল চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য লাভ করেন অস্কার পুরস্কার। এছাড়া তিনবার গোল্ডেন গ্লোব ও দুইবার বাফটা পুরস্কার লাভ করেন।

পরপর কয়েকটি চলচ্চিত্রে ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয়ের পর শ্যন কনোরি প্রথম ব্রেক পান ১৯৫৭ সালে। সে বছর ‘ব্লাড মানি’ নামের একটি চলচ্চিত্রে প্রথমবারের মত প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান।

‘ডক্টর নো’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে শ্যন কনোরি শুরু করেন জেমস বন্ড সিরিজের কাজ। পরপর পাঁচটি ছবিতে কাজ করার পর তিনি ক্লান্তি অনুভব করেন। ষষ্ঠ ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন তিনি। এই ছবিতে একজন অস্ট্রেলিয়ান অভিনেতা জেমস বন্ড চরিত্রে অভিনয় করেন। কিন্তু দর্শকরা তাকে গ্রহণ করেননি। ফলে সিরিজের সপ্তম চলচ্চিত্র “অন হার ম্যাজেস্টি’জ সিক্রেট সার্ভিস” ছবিতে বিশেষ অনুরোধ করে সম্পৃক্ত করা হয়। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে এ জন্য গুনতে হয় সাড়ে ১২ লাখ ডলার।

শ্যন কনোরি জেমস বন্ড চরিত্রে তার সপ্তম চলচ্চিত্র দিয়ে শেষ করেন আলোচিত অধ্যায়। ‘নেভার সে নেভার এগেইন’ ০০৭ সিরিজে তার শেষ চলচ্চিত্র।

স্কটিশ এই অভিনেতার জন্ম এডিনবরার ফাউন্টেনব্রিজে, ১৯৩০ সালের ২৫ আগস্ট। খুবই সাধারণ পরিবারে তার জন্ম। অর্থাভাবে শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে যায় মাত্র ১৩ বছর বয়সে। তার বাবা টম কনোরি ছিলেন কারখানার শ্রমিক। মা লোকের বাড়িতে ক্লিনারের কাজ করতেন।

প্রথম জীবনে শ্যন কনোরি বাড়ি বাড়ি দুধ পৌঁছে দেয়া, কফিন পালিশ করা ও নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করেছেন। এরপর যোগ দেন নৌবাহিনীতে। আলসার রোগে আক্রান্ত হয়ে তিন বছরের মধ্যেই তাকে নৌবাহিনী ছাড়তে হয়।

নৌবাহিনী ছাড়ার পর বেঁচে থাকার তাগিদে হয়ে ওঠেন ট্রাক চালক। তারপর মডেল হিসেবে কাজ করেন এডিনবরার আর্ট কলেজে। একই সাথে বিচিত্র সব কাজ করে অর্থ উপার্জন করেন।

অবসর সময়ে শ্যন কনোরি ফুটবল খেলতেন। আগ্রহ ছিল বডিব্লিডিংয়েও। আর এতেই তার মনে হয় চেষ্টা করা যেতে পারে চলচ্চিত্রে। চলচ্চিত্রের সাথে যুক্ত হওয়ার পর ঘুরে যায় ভাগ্যের চাকা। তবে সেখানেও শুরুটা ছিল দারুণ স্ট্রাগরের। ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয় করে বেশ খানিকটা সময়। ১৯৫৭ সালে ‘ব্লাড মানি’ চলচ্চিত্র দিয়ে শুরু উত্থান যুগের।

ব্লাড মানি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর আরও কয়েকটি ছবিতে মূখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেন। এরপর এলো কাঙ্খিত হাতছানি।

থ্রিলার লেখক ইয়েন ফ্লেমিং-এর জেমস বন্ড কাহিনী নিয়ে সিনেমা বানানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছে ততোদিনে। একজন ড্যাশিং হিরো খুঁজছিলেন তারা। ছবির দুই প্রযোজকের একজনের স্ত্রী জেমস বন্ড চরিত্রের জন্য পছন্দ করলেন শ্যন কনোরিকে। তার মনে হয়েছলি, জেমস বন্ড হওয়ার মত সম্মোহনী ব্যক্ত্বি আর যৌন আবেদন রয়েছে শ্যন কনোরির।

ইয়েন ফ্লেমিং কিন্তু শ্যন কনোরিকে পছন্দ করলেন না। তবে পর্দায় দেখার পর মত পাল্টান ইয়েন ফ্লেমিং। জেমস বন্ড হতে আর কোন বাধা রইলো না শ্যন কনোরির।

জেমস বন্ড চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে শুভাকাঙ্খীরা শ্যন কনোরিকে ভালো ভালো লেখকদের বই পড়তে দেন। তাকে দামি রেস্তোরাঁ আর ক্যাসিনোতে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে শেখান নানা কিছু। গড়ে তোলেন কেতাদুরস্ত করে। চলনে বলনে আমুল পাল্টে দেন তাকে।

শ্যন কনোরি মনপ্রাণ ঢেলে অভিনয় করলেন এবং উৎরে গেলেন। তার অভিনীত প্রথম জেমস বন্ড ছবি ‘ডক্টর নো’ দারুণভাবে ব্যবসা সফল হলো। এরপর এই সিরিজের আরও ছয়টি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি।

চলচ্চিত্রকে তিনি বিদায় জানালেও নির্মাতারা তার পিছু ছাড়েননি। সবশেষ অভিনয়ের প্রস্তাব পান ২০০৬ সালে, ৭৬ বছর বয়সে। তিনি সেই প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেন। ‘লর্ড অব দ্য রিং’ ছবির কাস্টিং ডিরেক্টরকে তিনি জানান, অভিনয়ের বিষয়ে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। এছাড়া হলিউডে যারা ছবি বানাচ্ছেন, সেই ‘নির্বোধদের’ ব্যাপারেও তিনি বিরক্ত।

শ্যন কনোরি বিয়ে করেন দুইবার। প্রথম স্ত্রী ডায়ান সিলেন্টো ছিলেন অভিনেত্রী। তাদের ছেলে জেসন কনোরিও অভিনেতা।

সিলেন্টোর সাথে বিয়ে বিচ্ছেদের পর সম্পর্ক হয় মিশেলিন রোকুব্রুনের সাথে। মিশেলিন পেশায় চিত্রশিল্পী। পরে তারা বিয়েও করেন।

শোক/কিউটি/রমু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *