মিয়ানমারে লাশের পাহাড়

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ (আন্তর্জাতি ডেস্ক): মিয়ানমারে সেনাশাসনবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে মৃতের সংখ্যা বেড়েছে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে। গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রোববার দেশটির ইয়াঙ্গুন, দাওয়েই ও মান্দালয় শহরে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। খবর: রয়টার্স।

এদিন সকাল থেকে মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে যোগ দেয়। আগের দিন অনলাইনে বড় ধরণের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। এতে সাড়া দেন সব শ্রেণিপেশার মানুষ।

বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে প্রথমে স্টান গ্রেনেড ও কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। পরে গুলি ছোড়ে পুলিশ।

জানা যায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় দাওয়েই শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া গুলিতে তিনজন নিহত হন। এসময় রাবার বুলেটে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইয়াঙ্গুনেও বড় বিক্ষোভ হয়েছে। শহরটিতে শিক্ষকদের একটি বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে স্টান গ্রেনেড ব্যবহার ও গুলি ছোড়ে পুলিশ। এ সময় এক নারী মারা যান।

এছাড়া বুকে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করে চিকিৎসক।

একজন শিক্ষক জানান, আমরা বিক্ষোভে নামামাত্র পুলিশ গুলি চালানো শুরু করে। তারা সতর্ক করতে টু শব্দটিও উচ্চারণ করেনি। গুলিতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ অবস্থায় কিছু বিক্ষোভকারী আশপাশে বাড়িঘরে আশ্রয় নেন।

এছাড়া মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়েও দুজন মার গেছেন। সেখানেও সকাল থেকেই বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় শহর লাশিও এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মায়িকেও বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারে গত নভেম্বরের নির্বাচনে অং সান সু চি’র ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিপুল জয় পায়। কিন্তু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলে সেনাবাহিনী। পয়লা ফেব্রুয়ারি পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ভোরে সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থান করে। এদিন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং নির্বাচিত সরকার উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। 

এরপর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। সেনাবাহিনী সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করে। জরুরি অবস্থার মধ্যেই সেনাশাসন বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন দেশটির জনগণ।

মিয়ানমার/এসকেএম/আরএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *