বাংলায় ভরাডুবি, কেরালায় মান রক্ষা

৩ মে ২০২১ (আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ভারত): সময় খারাপ যেতেই পারে। তাই বলে এতোটা? এক সময়ের দূর্গ পশ্চিম বাংলা সিপিএম থেকে এভাবে মুখ ফিরিয়ে নেবে তা কারও কল্পনাতেও ছিল না। আনন্দবাজরের ভাষায় ‘উড়ে এস জুড়ে বসা’ বিজেপি বাংলার বিধান সভায় ৭০ এর বেশি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায়। বিধান সভা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় আইনসভাতেও অস্তিত্বহীন হয়ে পড়লো সিপিএম। তবে কেরালার ভোটাররা মুখ রক্ষা করেছে সিপিএম তথা বামফ্রন্টের।

আনন্দবাজার বলছে, লাল পতাকায় ছেয়ে যাওয়া ব্রিগেড, বুদ্ধ-সঞ্জীবনী… কোন কিছুই কাজে এলো না। নীলবাড়ির লড়াইয়ে শূণ্য হাতেই ফিরতে হলো সিপিএম-কে।

ভোটের ফল প্রকাশের পর বিমান বসু মুখ খুলেছেন। জানিয়েছেন, আত্মসমীক্ষা হবে। এমন ভরাডুবির পর আত্মজিজ্ঞাসা বা পর্যালোচনা যা-ই করুক, মসনদ ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে তা কতোটা কাজে আসবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েই গেছে দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে।

ফেব্রুয়ারির ব্রিগেডে জনসমুদ্র দেখে জেগে ওঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন সিপিএম নেতারা।ছবি: সংগৃহীত

 

সিপিএম-এর নেতৃত্বধীন বামফ্রন্ট ১০ বছর আগে জৌলুস হারায়। সেবার তবু বিরোধী দলের আসনটা ছিল তাদের। ২০১৬ সালের নির্বাচনে পেল মাত্র ২৬টি আসন। তাতে সিপিএম-এর হাতছাড়া হয় প্রধান বিরোধী দলের তকমাটাও। ৪৪ আসন নিয়ে কংগ্রেস দখল করে নেয় রাজ্যের দ্বিতীয় স্থানটি। ২০১৮-তে এসে পরিস্থিতি আরও পাল্টালো। সিপিএম আর কংগ্রেসকে টপকে প্রধান বিরোধী দল বনে যায় বিজেপি।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও সিপিএম-এর ঝুলিতে এলা না এক আসনও। ধারণা করা হলো, তৃণমূলবিরোধী ভোটগুলো রাজ্যের উঠতি শক্তি বিজেপি’র দিকেই গেছে। অসাম্প্রদায়িক সিপিএম-এর রিজার্ভ ভোটের দখল নিয়ে বিজেপি ১৮টি আসনের দখল নেয়।

সেই নির্বাচনে বিজেপি-কে ঠেকাতে মমতা সিপিএম-কে পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন ঘর সামলাতে। সে আহ্বানে সাড়া দেননি সিপিএম নেতারা। বরং কংগ্রেস ও আব্বাস সিদ্দিকীর ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) সাথে গাঁটছড়া বাধে লালকেল্লা। তারপর গেল ফেব্রুয়ারিতে ব্রিগেডের জোয়ার। সেই জোয়ারে নতুন স্বপ্ন বুনেছিলেন নেতারা। গুরুত্ব দেননি শুভাকাঙ্খীদের পরামর্শও।

আইএসএফ-এর সাথে সখ্যতা মনে ধরেনি দলের অনেকের। নেতারা সেদিকেও ছিলেন উদাসীন। সময়টা কাজে লাগিয়েছেন কংগ্রেস আর আইএসএফ-এর মাঝে সেতু রচনায়।

সবমিলিয়ে ঘর গোছানোটা জমলো না। শরিক বাম দলগুলো থেকে মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, ঐশী ঘোষাল আর শতরূপ স্যানালের মত তরুণদের এনেও রক্ষা হলো না। নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর শুভেন্দু অধিকারীর মত হেভিোয়েট প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়াই করে মিনাক্ষীর ভোট মাত্র ৬ হাজার। মিনাক্ষীর মত ঐশী আর শতরূপও দেখেননি জয়ের মুখ।

নির্বাচনে সিপিএম-এর ভোটের হার ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ। শরীক সিপিআই পেয়েছে শূন্য দশমিক দুই শতাংশ ভোট।

এমন ভরাডুবির জন্য নেতাদের নির্বাচনী কৌশলকে দুষছেন মধ্যম সারির নেতারা। বলছেন, তৃণমূলকে আটকাতে মানুষ মুখ ফিরিয়েছে বামদের থেকে।

বাংলায় ভরাডুবি হলেও কেরালায় পতাকা এখনও ধরে রেখেছে সিপিএম। তাদের প্রাপ্তি ৬২টি আসন। শরীক সিপিআই পেয়েছে ১৭টি। ফলে দ্বিতীয়বারের মত মুখ্যমন্ত্রীর হলেন পিনরাই বিজয়ন।

সিপিএম/আরএম/রমু