ভার্জিনিটি বনাম রক্তপাত

২১ মার্চ ২০২১ (হেলথ ডেস্ক): তানজিলা নাফিস সারাহ পড়াশোনা করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে। মেডিকেলের শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি ফেসবুকে লিখেছেন ভার্জিনিটি নিয়ে। এটি মূলত একটি সচেতনতামূলক পোস্ট।

তানজিলার পোস্টটি তার অনুমতি নিয়ে দেয়া হলো পাঠকদের জন্য:

একটা রিসার্চ ফার্মে কাজ করতে গিয়ে পঞ্চাশ জন মহিলার সাথে প্রায়ই আমার দেখা হতো। সাভারের একটা গ্রামে তারা থাকেন। একটা ছোট সংগঠনে কাজ করেন। তাদের কেউ মানুষের বাসায় কাজ করেন। কেউবা গার্মেন্টসে কাজ করেন। কারও আবার চায়ের টং দোকান আছে, সেখানেই বসেন। কেউ কেউ কৃষি কাজ করেন।

একদিন দেখলাম একজন মহিলা খুব কান্নাকাটি করছেন। জানলাম, মহিলাকে তার স্বামী অনেক মারধর করেছে এবং ডিভোর্স দিয়ে দিয়েছে।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, কেনো ডিভোর্স দিয়েছে?

তখন ওই আন্টি বললেন, তার হাসবেন্ড এক বছর ধরে তাকে কথায় কথায় গালাগালি করে, মারধর করে এবং তার চরিত্র নিয়ে কথা বলে। কারণ, প্রথমবার শারীরিক সম্পর্ক করার সময় ওই মহিলার ব্লিডিং হয়নি এবং এর পরে কখনোই হয়নি!

এরপর বাকিরা একে একে মুখ খুললেন। আমি তাদের মেয়ের বয়েসী। তারা খুব লজ্জা পাচ্ছিলেন। আমি অনেক কষ্টে তাদের স্বাভাবিক করলাম!

তারপর যা শুনলাম সেটা প্রকাশ্যে বলার মতো না।

এটা আমাদের ভদ্র সমাজের খুব পরিচিত একটা কুসংস্কার… ব্লিডিং না হলে মনে করা হয় মেয়েটা ভার্জিন না, চরিত্র ভাল না। বিয়ের আগেই কারও সাথে যৌণ সম্পর্ক করে সতিপর্দা ফাটিয়ে ফেলেছে বা তার সতিচ্ছেদ ঘটেছে।

ধরে নিলাম এটা খুব ভালো কথা। কিন্তু একটু যদি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে দেখি, চিন্তা করি তাহলে কিন্তু সব পানির মত পরিস্কার। এটি খুব ভুল ধারণা।

১. ব্লিডিং হবে কি হবে না এটা নির্ভর করে HYMEN নামক একটা membrane-এর উপর।

২.এই membrane-টা vaginal opening কে ঢেকে রাখে।

৩. কিন্তু কতটুকু ঢেকে রাখবে এটা নির্ভর করে একজন নারীর বয়স, উচ্চতা, ওজন এবং শরীরের অনেক ফিচারের উপর।

৪. Hymen যদি পাতলা হয়, ব্লিডিং না হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি। আবার পুরু হলে ব্লিডিং হতে পারে।

৫. অনেক নারীর জন্মগত ভাবেই hymen থাকে না। তাই প্রথম শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের সময় রক্তপাত না হওয়াটাই স্বাভাবিক।

৬. যেসব মেয়েরা সাইক্লিং করে, ব্যায়াম করে, জিমে যায়, অথবা স্কিপিং করে, দৌড়-ঝাপ করে করে তাদের ওই Hymen নামক পর্দা ভেঙে বা ফেটে যায়। তাই তাদেরও প্রথম শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের সময় রক্তপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

৭. ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের একটা রিসার্চে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে ৬৩ শতাংশ মেয়েদের প্রথম শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের সময় রক্তপাত হয় না। এর একমাত্র কারণ HYMEN MEMBRANE.

৮. আরেক রিসার্চে বলা হয়েছে, বয়স যত বাড়বে, যাদের মেমব্রেন আছে, সেটা আরও পাতলা হতে থাকে এবং একটা সময় পর্দাটা ফেটে যাবে। এর ফলে প্রথম শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের সময় রক্ত বের হবে না। বের হবে কি করে, তারতো মেমব্রেনই নেই।

৯. তার মানে দাঁড়ায়, একজন কিশোরীকালেই নানান কারণে হারাতে পারে তার Hymen নামক পর্দা। যদি তা খেলাধুলা বা অন্য কোন কারণে নাও ফাটে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে তা পাতলা হতে থাকবে এবং এক সময় নিজেই ফেটে যাবে।

তাই ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ভার্জিনিটির সাথে প্রথম যৌন সম্পর্কের কোন সম্পর্ক নেই। এই বোধ তৈরি হলে বা এ সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জানলে পরিবারে অশান্তি কমবে। কমবে ডিভোর্সের সংখ্যাও।

ভার্জিনিটি/টিটি/কিউটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *