নিউজ ডেস্ক
আজ বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস। ১৯৯২ সাল থেকে প্রতি বছর ৩ ডিসেম্বর জাতিসংঘ ঘোষিত এ দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালন করা হচ্ছে। সেই হিসেবে এবছর ৩৪তম বিশ্ব ও ২৭তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ি, সামাজিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করি’। শারীরিকভাবে অসম্পূর্ণ মানুষদের প্রতি সহমর্মিতা ও সহযোগিতা প্রদর্শন ও তাদের কর্মকাণ্ডের প্রতি সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যেই দিবসটির সূচনা হয়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, প্রতিবন্ধিতার শিকার মানুষের সংখ্যা আগের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে। প্রতিবন্ধিতা রুখে দেয়া সম্ভব নয়, কিন্তু কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ ও সাবধানতা অবলম্বনের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের মধ্যে অন্যতম হলো প্যারেন্টিং এডুকেশন। এর মাধ্যমে মা-বাবাকে শিশুর যত্নে যথাযথভাবে সচেতন ও শিক্ষিত করে তোলা সম্ভব।
যে কোনো মানুষের পরিপূর্ণ বিকাশ নিশ্চিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় তার প্রাক-শৈশবকাল, অর্থাৎ শূন্য থেকে পাঁচ বছর। এ সময় একজন মানুষের মস্তিষ্কের ৯০ শতাংশ বিকাশ ঘটে। এ সময় সামান্যতম অবহেলা হতে পারে শিশুর জন্য বিরাট ক্ষতির কারণ।
প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষের মধ্যে প্রতিবন্ধিতা বেশি। প্রতিবন্ধীর ২ দশমিক ৯২ শতাংশ গ্রাম বসবাস করে, ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ থাকে শহরে। প্রতিবন্ধীদের মধ্যে শারীরিক প্রতিবন্ধীর হার সর্বোচ্চ বলে জরিপে দেখা গেছে। ২ দশমিক ৮০ শতাংশের মধ্যে শারীরিক প্রতিবন্ধীর হার ১ দশমিক ১৯ শতাংশ।
অন্য ধরনের প্রতিবন্ধীর মধ্যে মানসিক প্রতিবন্ধী শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ, বাকপ্রতিবন্ধী শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শূন্য দশমিক ১৪ এবং শ্রবণপ্রতিবন্ধী শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ।
প্রতিবেদনে প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, মাত্র ২৭ দশমিক ২১ শতাংশ কাজে নিযুক্ত আছেন।
এ ছাড়া সামাজিকভাবে বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হন প্রতিবন্ধীরা। সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকেও তারা বঞ্চিত। এমনকি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) বিভিন্ন কর্মসূচি থেকেও তারা সেবা পাননি। অনেকে বঞ্চনা ও হয়রানির অভিযোগ করেন না। যারা করেছেন, তারাও সুবিচার পাননি।
প্রতিবেদনে প্রতিবন্ধী শিশুদের লেখাপড়ার চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, এদের মধ্যে ৫৯ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্তও পড়ালেখা করে না। আর উচ্চমাধ্যমিক স্কুল পর্যন্ত যায় না ৭৫ শতাংশের বেশি।
দিবসটি পালনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। উন্নয়নের মূলধারায় প্রতিবন্ধীদের একীভূতকরণ এবং ক্ষমতায়নের লক্ষ্য নিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, সমাজসেবা অধিদপ্তর, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দেশব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দেশের প্রতিটি জেলায় সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে।
প্রতিবন্ধী দিবস/এএমটি/টিটি
আরও খবর পড়তে: NRB365.com
আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ART News BD
















Leave a Reply