হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব নারী নিয়ে জনতার হাতে ধরা পরেছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার রয়েল রিসোর্টে। রিসোর্টের ৫০১ নাম্বার রুমে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। শনিবার সন্ধ্যার পর হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা মামুনুলকে পুলিশের কাছ থেকে উদ্ধার করে। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে সারাদেশ। এমনকি প্রবাসীরাও এ নিয়ে লিখছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
সাংবাদিক পুলক ঘটক তার ফেসবুক টাইমলাইনে মাওলানা মামুনুল হকের এ বিষয় নিয়ে একটি পোস্ট লিখেছেন। পাঠকদের জন্য তার পোস্টটি হুবুহু তুলে ধরা হলো:

পুলক ঘটক: “মাদ্রাসার ছেলে শিশুরা মাওলানা মামুনুল হকদের হাতে কত অসহায় তা মিডিয়ায় বারবার আসছে। এবার প্রমাণ পাওয়া গেল, এই মামুনুল হকরা নারীদের প্রকাশ্যে বোরকায় মোড়ানোর পরামর্শ দিলেও তাঁরা গোপনে পরের স্ত্রীর বোরকা খোলার কাজ করেন। এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হল, নারীরা এদের হাতে কত অসহায়! ঘরে স্ত্রী রেখে তিনি পরস্ত্রী নিয়ে হোটেলে ফুর্তি করতে যান, অথচ ঘরের অসহায় স্ত্রীর সামর্থ্য নেই এর প্রতিবাদ করার। এই অসহায় নারীদের মুখে বাণী দিতে হবে, তাদের প্রতিবাদ করার শক্তি যোগাতে হবে। রাষ্ট্র ও সমাজের এটা দায়িত্ব। মামুনুল হক যখন ফেসবুকে এবং ইউটিউবে লাইভ করেছিলেন তখন তিনি তাঁর ভাইদের সঙ্গে নিয়ে বসেছিলেন। কিন্তু যার বিরুদ্ধে তিনি প্রধান অপরাধটি করেছেন তাঁকে (স্ত্রীকে) লাইভ করার সময় পাশে বসাননি। তাকে অন্তঃপুরে বন্দী করে রেখেছেন।
ফেসবুক লাইভে আসার আগে তিনি স্ত্রীকে টেলিফোনে বলেছিলেন, ঐ মহিলাকে তিনি বিবাহ করেননি। মহিলা তাঁর বন্ধু শহীদুলের স্ত্রী। ধরা পরার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি জনগণকে মিথ্যা বলেছিলেন। অথচ, লাইভে তিনি বললেন তাঁর বন্ধু তালাক দেওয়ার পর ঐ মহিলাকে তিনি বিয়ে করেছেন, যে বিয়ের কোনো প্রমাণ নেই; তালাকেরও প্রমাণ নেই। তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে (যদি আদৌ হয়ে থাকে) তিনি স্ত্রীর কাছে এবং সমাজের কাছে গোপন রেখেছিলেন। মামুনুলের সঙ্গে ধরাপরা ঐ মেয়েটির বাবা একজন আওয়ামী লীগের নেতা (ওয়ার্ড সভাপতি) ও মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বলেছেন, এমন বিয়ের কথা তিনি শুনেন নি। এলাকাবাসী এবং ঐ নারীর অন্য আত্মীয়রাও বলেছেন, মেয়েটির বিয়ে হয়েছে খুলনায়; সেই ঘরে তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। কিন্তু ওই স্বামীর সঙ্গে তাঁর ডিভোর্স ও মামুনুলের সঙ্গে বিয়ের কথা তারা কেউ শোনেননি। হেফাজতের নেতারাও আগে কেউ শোনেননি।
বোঝা যাচ্ছে আলেম সাহেব ঐ নারীকে নিয়ে গোপনে মাঝে মাঝে ফুর্তি করেন আরকি! অর্থাৎ ঐ নারীকেও তিনি রাষ্ট্র ও সমাজের সামনে স্ত্রীর মর্যাদা দেননি। তাঁকে সকল ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন, দেনমোহর, কাবিননামা, স্বাক্ষী ইত্যাদি কিছুই নেই। তাদের যৌনমিলনের ফলে কোনো মানবশিশু পৃথিবীতে আসলে সেই শিশুটিও হবে অধিকার বঞ্চিত। এই নারী ও শিশুদের এইসব পিশাচ হুজুরদের খপ্পর থেকে বের করে এনে তাদের ন্যায্য অধিকার দিতে হবে। রাষ্ট্র ও সমাজকে এ দায়িত্ব নিতে হবে।
মিডিয়ার উচিত অন্তঃপুরে বন্দিনী মামুনুল হকের স্ত্রীর স্বাক্ষাৎকার নেওয়া। এব্যাপারে মিডিয়াকে সহযোগিতা করা প্রশাসনের দায়িত্ব। দুবৃত্তরা যেন কোনোভাবেই মিডিয়ার কাজে বাধা দিতে না পারে। মামুনুল হকের স্ত্রীকে সসম্মানে হেফাজতে নিয়ে পুলিশ প্রোটেকশনের ব্যবস্থা করা উচিত, যাতে তিনি পাষণ্ড মামুনুল হক গংয়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। মামুনুল হকের অসহায় স্ত্রীকে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে ব্রেইনওয়াশ করা হচ্ছে। তাই ঐ নারীর জন্য প্রোপার কাউন্সেলিং প্রয়োজন। ফাঁস হওয়া অপর একটি টেলিফোন সংলাপে দেখা যায়, মামুনুল হকের বোন তাঁর স্ত্রীকে পরামর্শ দিচ্ছেন, মামুনুল হককে সমর্থন করার জন্য। অর্থাৎ মামুনুল হকের গোটা পরিবার এই অপরাধ কর্মের সঙ্গে জড়িত। তাই সংশ্লিষ্ট সকলকেই আইনের আওতায় আনা উচিত। এদের সকলের বক্তব্য একে একে ক্রসচেক করা উচিত।
হেফাজতে ইসলাম মানুষকে হত্যার ফতোয়াদানকারী একটি অনৈতিক ক্রিমিনাল সংগঠন। তারা দৃশ্যত মামুনুল হকের অপরাধ গোপন করার দায়িত্ব নিয়েছে। এরা যিনার দায়ে প্রকাশ্যে পাথর মেরে হত্যার বয়ান দিলেও মামুনুল হকের বিরুদ্ধে কোনও কথা নেই। মামুনুল হক পরস্ত্রীসহ হোটেলে ধরা পরার পর হেফাজতের কর্মী-সমর্থকরা যা করেছে তাতে আবারও প্রমাণিত হল, হেফাজত একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। তারা আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর আস্থা না রেখে নিজেরাই আইন হাতে তুলে নিয়েছে, হোটেলে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য চালিয়েছে। ঐ হোটেলটি কিন্তু তাদের জেহাদের জায়গা ছিলনা। এই সংগঠনকে অবশ্যই দেশে-বিদেশে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভূক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।”
***
পুলক ঘটকের এই পোস্টে এএসএম মুসা নামের একজন কমেন্ট করে জানিয়েছেন মাওলানা মামুনুল হকের আরও কীর্তি। সেখানে তিনি লিখেছেন:
এএসএম মুসা: “শুধু পরনারী নিয়ে ধরা খাওয়াই নয়, অতীতে শিশু বলৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কারও হয়েছিলেন মামুনুল হক
১৯৯৪ সালে মামুনুল হকের বিরদ্ধে ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসায় মিশকাত/ফজিলত জামাতে শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় একজন শিশু শিক্ষার্থীর সাথে সমকামিতার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে উক্ত মাদ্রাসার এই ছাত্রের সাথে সমকামিতার অভিযোগটি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রমাণিত হওয়ায় অত্র মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামীম (ভাইস প্রিলিপাল) মুফতি মানসুরুল হক মাদ্রাসা থেকে তাকে বহিষ্কার করেন।
মামুনুল হক সমকামি হিসেবে কওমি মাদ্রাসায়ও একজন সমাদৃত ব্যক্তি। ১৯৯৯ সালে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক হবার পরেও তিনি এই বিকৃত যৌনাচার থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন নি। মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলাস্থ জামিয়া নিজামিয়া বেতুয়া মাদ্রাসায় শিক্ষক থাকা অবস্থায় নুরুল আলম নামক এক শিক্ষার্থীর সাথে সমকামিতার অভিযোগ ওঠে। পরে এই অভিযোগের সত্যতাও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দ্বারা প্রমাণিত হয়। আর এই কারণে অত্র মাদ্রাসার মুহতামীম (অধ্যক্ষ) মাওলানা মাহমুদুল আলম তার নিজ স্বাক্ষরেই আলোচিত মামুনুল হককে শিক্ষকতা পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন।”















