শান্তর সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে বাংলাদেশ

২১ এপ্রিল ২০২১ (স্পোর্টস ডেস্ক): নাজমুল হোসেন শান্তর প্রথম সেঞ্চুরি ও ওপেনার তামিম ইকবালের ব্যাটিং দৃঢ়তায় শ্রীলংকার বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনটি নিজেদের করে রাখল সফরকারী বাংলাদেশ।

প্রথম দিন শেষে ৯০ ওভারে ২ উইকেটে ৩০২ রান করেছে বাংলাদেশ। ৯০ রানে তামিম থামলেও ১২৬ রানে অপরাজিত রয়েছেন শান্ত। শান্তর সাথে ৬৪ রানে অপরাজিত আছেন অধিনায়ক মোমিনুল হক।

ক্যান্ডির পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টেস্টে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেয় বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবালের সাথে ইনিংস শুরু করেন ৩ টেস্ট খেলা সাইফ হাসান।

পেস বান্ধব উইকেটে দলকে ভালো সূচনা এনে দিতে পারেননি সাইফ। দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে বিদায় নেন তিনি। শ্রীলংকার বাঁ-হাতি পেসার বিশ্ব ফার্নান্দোর বলে লেগ বিফোর আউট হওয়ার আগে ৬ বল খেলে রানের খাতা খুলতে পারেননি সাইফ।

শুরুতেই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। তবে দলকে সেই চাপ অনুভব করতে দেননি তামিম। শ্রীলংকার বোলারদের উপর আক্রমনাত্মক খেলতে থাকেন তিনি। এতে প্রথম সেশনেই ৫৩ বল খেলে টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৯তম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তামিম। তামিমের হাফ-সেঞ্চুরিতে প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের স্কোর ছিলো ১ উইকেটে ১০৬ রান।

বিরতির পর নিজের ইনিংসটি বড় করছিলেন তামিম। সাথে ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। টেস্ট মেজাজে খেলে অন্যপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন তিনি। তাই রান তোলার কাজটা সাবলীলভাবেই করছিলেন তামিম। এমন অবস্থায় ১০ম সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন তিনি।

কিন্তু‘ দুভার্গ্য ব্যক্তিগত ৯০ রানে আউট হন তামিম। বিশ্ব ফার্নান্ডোর বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন তিনি। ১৫টি চারে ১০১ বল খেলে ৯০ রান করেন তামিম। দ্বিতীয় উইকেটে তামিম-সাইফ ২২৫ বলে ১৪৪ রান যোগ করেন।

তামিমের বিদায়ের পর অধিনায়ক মোমিনুল হককে নিয়ে দলের রানের চাকা ঘুড়িয়েছেন শান্ত। চা-বিরতির আগ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন থাকেন তারা। শান্ত ৭৮ ও অধিনায়ক মোমিনুল ২১ রানে অপরাজিত ছিলেন।

শেষ সেশনে ধরে খেলায় মনোযোগি হন শান্ত ও মোমিনুল। দুই জনেই ছিলেন টেস্ট মেজাজে। তাই এই জুটি ভাঙ্গতে বার-বার বোলিং আক্রমনে পরিবর্তন আনেন শ্রীলংকার অধিনায়ক দিমুথ করুনারতে। কিন্তু দলকে সাফল্য এনে দিতে পারছিলেন না কোন বোলারই।

সপ্তম ম্যাচে এসে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান শান্ত। বাংলাদেশের ইনিংসের ৭৪তম ওভারের পঞ্চম বলে শ্রীলংকার স্পিনার ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে এক্সট্রা-কভার দিয়ে বাউন্ডারি মেরে সেঞ্চুরির স্বাদ নেন তিনি। ২৩৫তম বলে তিন অংকে পা দেন শান্ত।

শান্তর সেঞ্চুরির পর ৭৮তম ওভারে টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান মোমিনুল। বল খেলেন ১১৭টি।

শান্তর সেঞ্চুরি ও মোমিনুলের হাফ-সেঞ্চুরির উপর ভর করেই দিন শেষ করার স্বপ্ন ছিলো বাংলাদেশের। দলের সেই আশা পূরণ করেন শান্ত ও মোমিনুল। দলের স্কোর ৩শ পার করে অবিচ্ছিন্ন থেকেই দিন শেষ করেছেন তারা। তৃতীয় উইকেটে ৩১১ বলে ১৫০ রান যোগ করেন তারা।
২৮৮ বল খেলে ১৪টি চার ও ১টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজিয়েছেন শান্ত। আর ১৫০ বল মোকাবেলা করে ৬টি বাউন্ডারি মারেন মোমিনুল।

বাংলাদেশের পতন হওয়া দুইটি উইকেটই নিয়েছেন শ্রীলংকার ফার্নান্দো।

ক্রিকেট/এসকেএম