সুপেয় পানি; বিশ্বজুড়েই চ্যালেঞ্জ

মুহাম্মদ আমিরুল ইসলাম (নয়ন মুরাদ): ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের শতভাগ নাগরিকের জন্য সুপেয় পানি নিশ্চিত করার জন্য বলা হয়েছে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়নের ১৭ টি লক্ষ্যের মধ্যে ৬ নম্বরে স্থান পেয়েছে সুপেয় পানির বিষয়টি।

পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় ৭০ ভাগ জুড়েই রয়েছে পানি। কিন্তু সব পানি ব্যবহার উপযোগী নয়। পৃথিবীর মোট জলভাগের প্রায় ৯৭.৩ ভাগ হচ্ছে লোনাপানি আর বাকি ২.৭ ভাগ হচ্ছে স্বাদু পানি। বিশ্বে স্বাদু পানির প্রায় ৬৯ ভাগ রয়েছে ভূগর্ভে আর প্রায় ৩০ ভাগ মেরু অঞ্চলে বরফের স্তুপ হিসেবে জমা আছে এবং মাত্র ১ ভাগ আছে নদী ও অন্যান্য উৎসে।

বিশ্বব্যাংক, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৯৮ ভাগ মানুষের জন্য পানির কোনো-না-কোনো উৎস রয়েছে৷ কিন্তু এর সবটাই পানযোগ্য নয়৷ নিরাপদ বা সুপেয় পানি পাচ্ছে শতকরা ৫৬ ভাগ মানুষ৷ ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং বাংলাদেশ সরকারের জয়েন্ট মনিটরিং প্রোগামের সর্বশেষ হিসেবে অনুযায়ী তা ৮৭ ভাগ বলা হয়েছে। তবে পানির দূষন হিসাব করলে ৪৪ ভাগ মানুষ নিরাপদ ও সুপেয় পানির আওতার বাইরে আছেন৷

বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত এক গবেষণা মতে, পাইপলাইনের পানির ৮০ ভাগেই ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া রয়েছে৷ পুকুরের পানিতেও একই মাত্রায় এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে৷ ৩৮ শতাংশ টিউবওয়লের পানিতেও এই ক্ষতকির অনুজীবের অস্তিত্ব মিলেছে৷ পাকস্থলী ও অন্ত্রের প্রদাহের জন্য ই-কোলাই ব্যাকটরিয়াকে দায়ী করা হয়৷ এজন্য যথাযথ স্যানিটেশন সুবিধা না থাকাও পানি দূষনের একটি বড় কারণ৷ ঢাকায় মাত্র ২০ ভাগ স্যুয়েরেজ পাইপ লাইন রয়েছে আর বাকিটা খোলা৷ আবার সারাদেশে পয়ঃবর্জ্যের মাত্র ২ ভাগ ট্রিটমেন্ট করা হয়৷ বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বলছে বাকি বর্জ্য মূলত পানিতেই মিশে যাচ্ছে। যার প্রত্যক্ষ উদাহরণ বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর ধ্বংসাবশেষ। বুড়িগঙ্গা ও তুরাগের মত দেশের শহরাঞ্চল দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রায় সব নদী দূষণের প্রভাবে ধ্বংসের প্রায় শেষ প্রান্তে।

বাংলাদেশে মিঠা পানির উৎস সমূহের মধ্য রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভূগর্ভস্থ পানি ও ৭৫৪ টি ছোট-বড় নদী। এদের মধ্যে ৫৭ টি আন্তর্জাতিক নদী যার মধ্যে তিনটি নদী পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা প্রধান। দেশের প্রায় বেশিরভাগ নদী কোন না কোন ভাবে এই তিনটি নদীর সাথে যুক্ত রয়েছে। পানি প্রবাহে সমেশ্বরী, করতোয়া, ধলেশ্বরী, তিস্তা, কর্ণফুলী, নাফ, সুরমা, কুশিয়ারা, ভৈরব নদী ও ব্রম্মপুত্র নদ উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও রয়েছে অসংখ্য পুকুর, খাল, বিল, নালা, ঝিল, ডোবা, হাওর, বাওর ইত্যাদি এবং দেশের একমাত্র কৃত্রিম লেক “কাপ্তাই লেক”।

বিস্তারিত আসছে…