বিজিবি’তে আধুনিক প্রযুক্তি

৫ ডিসেম্বর ২০২০ (নিউজ ডেস্ক): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় বিজিবিকে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন করে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি সীমান্তে চোরাচালান ও নারী-শিশু পাচার বন্ধে বিজিবিকে আরও দক্ষ করে গড়া হবে।

শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ৯৫তম ব্যাচ রিক্রুট মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপন কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক যুগে আমরা প্রবেশ করেছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলেছি। কাজেই, আমাদের বর্ডার গার্ড সেভাবে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন হবে।

তিনি বলেন, তারা আমাদের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের সুরক্ষার পাশাপাশি চোরাচালানি, নারী ও শিশু পাচারসহ সীমান্তে যেসব অপকর্ম হয় সেগুলো বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে আমরা বিশেষভাবে নজর দিয়েছি।

শেখ হাসিনা বিজিবি’র ৯৫তম রিক্রুট ব্যাচের সকল সদস্যকে সফলভাবে তাদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করায় অভিনন্দন জানান। আহ্বান জানান, শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার জন্য।

তিনি বলেন, সব সময় মনে রাখতে হবে, যে কোন সুশৃঙ্খল বাহিনীর জন্য সব থেকে বেশি শৃঙ্খলার প্রয়োজন। কাজেই, সেদিকে লক্ষ্য রেখে সবাইকে চলতে হবে। বাংলাদেশ যে আদর্শ নিয়ে স্বাধীন হয়েছে। সে আদর্শ নিয়েই চলতে হবে এবং উর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষের আদেশ মেনে কর্তব্য পালনে নির্ভীক থাকতে হবে। আর অধঃস্তনদের প্রতিও সহমর্মিতা নিয়ে কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে ভবিষ্যতে যেন আমরা আরও উন্নত করতে পারি সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সকলে কাজ করবেন।

তিনি বিজিবি’র মনোবল, ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা… এই মূলনীতিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে সততা এবং নিষ্ঠার সাথে সবাইকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, এ দেশ আমাদের, আপনাদের, আমাদের সবার। দেশ উন্নত হলে আপনার বাবা-মা-ভাই-বোন এবং ভবিষ্যত বংশধরেরা সুন্দরভাবে বাঁচতে পারবে। সেই কথা সবসময় আপনাদের মনে রাখতে হবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭৪ সালের ৫ ডিসেম্বর এই বাহিনীর (সে সময়ের আংলাদেশ রাইফেলস, বিডিআর) তৃতীয় রিক্রুট ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বঙ্গবন্ধুর দেয়া ভাষণের উল্লেখযোগ্য অংশ উদ্ধৃত করেন।

সেই ভাষণে জাতির পিতা বলেছিলেন, আজ আপনাদের কাছে আমি অনেক বড় কর্তব্য দিয়েছি, অনেক বড় কাজ দিয়েছি। এ কাজ হলো চোরাচালানী বন্ধ করা। তোমাদের কাছে আমার হুকুম, স্মাগলিং বন্ধ করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, তোমরা পারবা। এ বিশ্বাস তোমাদের উপর আমার আছে। আশা করি, তোমরা স্মরণ রাখবা। মনে রাখতে হবে, স্মাগলারের কোন জাত নাই, ধর্ম নাই, তারা মানুষ নামের নরপশু। তারা এদেশের সম্পদকে বিদেশে চালান দেয় সামান্য অর্থের লোভে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বক্তব্যে জাতির পিতার যে নির্দেশনা রয়েছে, আমি আশা করি, আপনারা তা মেনে চলবেন। আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পাশাপাশি এই অপকর্মগুলো রোধ করতে আপনারা আন্তরিক ভাবে কাজ করবেন। কারণ, এই কথাগুলো এখনও প্রাসঙ্গিক।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশ ও জাতির প্রতি সেবার মনোভাব নিয়ে নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হবে। দেশকে ভালবাসতে হবে, মানুষকে ভালবাসতে হবে, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে এবং মনে রাখতে হবে এই দেশ অর্থনৈতিকভাবে যত উন্নত হবে আপনাদের পরিবারগুলোও উন্নত হবে।

শেখ হাসিনা করোনার সেকেন্ড ওয়েভ সম্পর্কে দেশবাসীকে পুণরায় সতর্ক করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং মাস্ক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তৃতা করেন। বিজিবি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম বিজিবি ট্রেনিং সেন্টার থেকে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রীকে অনুষ্ঠান থেকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয়। তিনি নবীন সদস্যদের মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন।

বিজিবি/এএমএম/আরএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *