সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রতিহত করার আহ্বান

৯ ডিসেম্বর ২০২০ (নিউজ ডেস্ক): জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যের ওপর হামলাকারীরা মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর হামলা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক নেতারা। তারা বলেন, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী দেশকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দিতেই নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে মৌলবাদবিরোধী সাংবাদিক সমাজ আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নেতারা এসব কথা বলেন।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক এ আর্ট নিউজের প্রধান সম্পাদক রহমান মুস্তাফিজের সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, সাবেক মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়া, ডিইউজে’র সাবেক সভাপতি কাজী রফিক ও আবু জাফর সূর্য, ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, বিএফইউজে’র যুগ্ম-মহাসচিব আবদুল মজিদ, এফইসি সদস্য মফিদা আকবর, ডিইউজে’র সহ-সভাপতি এমএ কুদ্দুস, প্রচার সম্পাদক আছাদুজ্জামান আসাদ, যুগবার্তা সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সুজন, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু অধ্যয়ন কেন্দ্রের উপদেষ্টা ওবায়দুল হক খান ও সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর বাবু-সহ অন্যরা।

মনজুরুল আহসান বুলবুল তার বক্তব্যে বলেন, ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলাম সারাদেশ থেকে ভাস্কর্য অপসারণকে তাদের দাবির সাত নম্বরে রেখেছিল। ২০২০ সালে তা কেন এক নম্বর দাবিতে পরিণত হলো তা খতিয়ে দেখতে হবে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে জাতির পিতার ভাস্কর্যের ওপর হামলা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাম্প্রদায়িক অপশক্তি সুগভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ দিকে যাবে।

মনজুরুল আহসান বুলবুল তার বক্তব্যে বলেন, পাকিস্তান, সিরিয়া, সুদান, তুরস্ক, মালয়েশিয়া-সহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশেও ভাস্কর্য রয়েছে। ইসলাম ধর্মে ভাস্কর্য নির্মাণে বিধিনিষেধ থাকলে এসব ভাস্কর্য নির্মিত হতো না।

আবদুল জলিল ভূঁইয়া বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের উপর হামলা মুলত মুক্তিযুদ্ধের উপর হামলা। স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্রে উপর হামলা।

কাজী রফিক অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। তিনি বলেন, জাতির জনকের ভাস্কর্য ভাঙা রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল।

আবু জাফর সূর্য বলেন, হামলাকারীরা মুক্তিযুদ্ধ তথা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ওপর আঘাত হেনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। এদের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে রহমান মুস্তাফিজ অভিযোগ করেন, বিএনপি-জামাতের পৃষ্ঠপোষকতায় এ হামলা হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশে ১৬টি স্থানে বিএনপি জিয়াউর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণ করেছে। এর কোনটি সম্পর্কেই কোন কথা ওঠেনি। কোথাও এসব ভাস্কর্য ভাংচুর হয়নি। এ থেকেই প্রমাণ হয়, হামলাকারীদের সাথে বিএনপি’র আঁতাত রয়েছে।

মানববন্ধন/এএমএম/কিউটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *