স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান

১৯ মে ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): সরকার ভবিষ্যতে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে একটি কাঠামো করে দিয়ে যাচ্ছে। যাকে ধরে আগামী প্রজন্ম দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। এমনটাই বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, ২০৪১ সাল পর্যন্ত কি করণীয়, স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপনকালে ২০৭১ সালে বাংলাদেশ কোথায় যাবে বা ২১০০ সালে এই ব-দ্বীপ অঞ্চলের বাসিন্দারা যেন এক সুন্দর জীবন পেতে পারে তারও একটা পরিকল্পনা করে দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২১ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২১ এ ভূষিত করেন। জাতীয় পর্যায়ে গৌরবজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গণভবনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মাঝে এ পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, লক্ষ্য যদি স্থির থাকে তাহলে এগিয়ে চলা সম্ভব। সেজন্য যতটুকু আমরা করে দিয়ে যাচ্ছি এতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যারাই আসবে তারা যেন উন্নয়নের গতিধারাকে অব্যাহত রাখতে পারে। এই কাঠামোটা সময়ের বিবর্তনে পরিবর্তনশীল। কারণ যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়েই সবাইকে চলতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি, বিজ্ঞানের বিকাশ, নব নব উদ্ভাবন আমাদেরকে নতুন করে পথ দেখাবে। যার সঙ্গে তাল মিলিয়েই চলতে হবে।

যারা পুরস্কার পেয়েছেন তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রজন্মের পর প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে, স্ব-স্ব কর্মস্থানে মেধা এবং মননের মাধ্যমে তারা যোগ্য একটা অবস্থান করে নেবে। দেশ ও জাতির জন্য তারা কিছু অবদান রেখে যাবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই আমাদের দেশটা যেন এগিয়ে যায়। দেশের মানুষ যাতে সব সময় মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে। দেশের ৫০ বছর পুর্তিতে উন্নয়নশীল দেশের যে মর্যাদাটা পেয়েছি সেটাকে ধরে রেখেই আমরা আরো সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সবসময় একটা প্রচেষ্টা ছিল, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি হিসেবে সারাবিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবো। কারো কাছে হাত পেতে, করুণা ভিক্ষা করে আমরা চলবো না। বাংলাদেশকে আত্ম মর্যাদাশীল হিসেবে গড়ে তুলবো।

তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশকে সে অবস্থানে নিয়ে আসতে অনেক ঘাত প্রতিঘাত অতিক্রম করতে হয়েছে। গত ৪০ বছরের সংগ্রামের মধ্যদিয়ে অন্তত এটুকু করতে পেরেছি, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার ৫০ বছর যখন আমরা উদযাপন করছি তখনই এই স্বীকৃতিটা আমরা পেলাম।

তিনি বলেন, ইতিহাস থেকে জাতির পিতার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। জাতির পিতাকে হত্যার পর এমন একটা সময় এসেছিল কেউ মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দেয়ার সাহস পেত না। মনে হত সেটা যেন বেশ অপরাধের ব্যাপার ছিল। অথচ জাতির পিতার ডাকে মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশ নিয়েছিলেন তারা সবকিছু ফেলে চলে গিয়েছিলেন। তাদের পরিবার পরিজনও নানাভাবে কষ্ট পেয়েছে। তাই তারা বংশ পরম্পরায় যেন সম্মানটা পায় সেজন্য আমার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা অনেকেই আজ বেঁচে নেই। কিন্তু তাদের পরিবার রয়েছে। তাদের ঘর করে দেয়া থেকে মাসোহারার ব্যবস্থা করাসহ নানাভাবে আমরা সহযোগিতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ক্ষেত্রে এবার চারজন স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন। তারা হলেন: মরহুম এ কে এম বজলুর রহমান, শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খুরশিদ উদ্দিন আহমেদ ও মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন ডক্টর মৃন্ময় গুহ নিয়োগী। সাহিত্যে কবি মহাদেব সাহা, সংস্কৃতিতে নাট্যজন আতাউর রহমান ও সুরকার-গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন। ‘সমাজসেবা/জনসেবা’ ক্ষেত্রে অধ্যাপক ডাক্তার এম আমজাদ হোসেন এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণে স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল।

স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রাম স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেয়া হয়।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী/আরএম/রমু