উচ্চ জিংকসমৃদ্ধ ধানের জাত অনুমোদন

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) কর্তৃক উদ্ভাবিত হাইজিংকসমৃদ্ধ ‘ব্রিধান ১০০’ জাত অবমুক্তির লক্ষ্যে জাতীয় বীজ বোর্ড অনুমোদন দিয়েছে। মুজিববর্ষে এ জাতটি যথাশীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত করা হবে।

মঙ্গলবার বিকালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের ১০৪তম সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) উদ্ভাবিত লবণাক্ততাসহিষ্ণু দেশী পাটের (বিজেআরআই দেশী পাট-১০) জাত অবমুক্ত করা হয়েছে।

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ব্রি উদ্ভাবিত শততম জাতের (ব্রি ধান১০০) অবমুক্তকরণ এটি।

ব্রি’র তথ্যে জানা যায়, ‘ব্রিধান ১০০’ হাইজিংকসমৃদ্ধ। জিংকের পরিমাণ প্রতি কেজিতে ২৫.৭০ মিলিগ্রাম। দেশের ১০টি স্থানে ট্রায়াল করে গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৭.৬৯ মেট্রিক টন পাওয়া গেছে। জাতটির জীবনকাল ১৪৮ দিন। বোরো মৌসুমে চাষের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় বীজ বোর্ডের সভাপতি মোহাম্মদ মেসবাহুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন। এসময় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) কমলারঞ্জন দাশ, অতিরিক্ত সচিব ও মহাপরিচালক (বীজ) বলাই কৃষ্ণ হাজরা, বিএডিসির চেয়ারম্যন মোহাম্মদ সায়েদুল ইসলাম, ব্রির মহাপরিচালক ডক্টর মোহাম্মদ শাহজাহান কবীর, বিজেআরআইর মহাপরিচালক ডক্টর আশম আনোয়ারুল হকসহ অন্যান্য সংস্থাপ্রধান ও বীজ বোর্ডের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় বীজ বোর্ডের সভাপতি মোহাম্মদ মেসবাহুল ইসলাম বলেন, মুজিব শতবর্ষে উচ্চজিংকসমৃদ্ধ ‘ব্রিধান ১০০’ অবমুক্ত করতে পারা খুবই আনন্দের। আশা করা যায়, এটি একটি মেগা ভ্যারাইটি হবে। দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুষ্টির অধিকাংশ ক্যালরি, প্রোটিন ও মিনারেল আসে ভাত থেকে।

তিনি বলেন, ভাত তাদের কাছে সহজলভ্য। জিংকসমৃদ্ধ এ জাতটি উদ্ভাবনের ফলে মানুষের জিংকের চাহিদা অনেকটাই পূরণ হবে।

সভায় বীজ ডিলার নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে ‘সেবা সহজীকরণ’ এর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এখন থেকে বীজ ডিলারদের নিবন্ধণ এক বছরের পরিবর্তে একসাথে পাঁচ বছরের জন্য দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, বিজেআরআই দেশী পাট-১০ জাতটি স্বল্পমেয়াদি ও মধ্যম মাত্রার লবণাক্ততাসহিষ্ণু। এটি দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত এলাকায় বপন উপযোগী। আরেকটি বৈশিষ্ট হলো গাছের বয়স ১০৫-১১৫ দিন হলেই কেটে রোপা আমন ধান লাগানো যায়। এবং আমন কেটে রবি ফসল চাষ করা যায়।

খুলনা ও বরিশালে ০৫ টি ট্রায়ালে হেক্টর প্রতি আঁশের ফলন ২.৫৭ টন ও পাট কাঠির ফলন ৭.২১ মেট্রিক টন পাওয়া গেছে। এছাড়া, আগামী মৌসুমের জন্য পাটবীজ আমদানির পরিমাণ নির্ধারণ করেছে বোর্ড। ২০২১-২২ উৎপাদন বর্ষে পাটবীজের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন।

ধান বীজ/এসকেএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *