নিউজ ডেস্ক: পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালায় তামাক সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানকে লাল শ্রেণির পরিবর্তে তুলনামূলভাবে কম ক্ষতিকর কমলা শ্রেণিভূক্ত করা হয়েছে। এর ফলে তামাকের ক্ষতি সম্বন্ধে একটি বিভ্রান্তির সৃষ্টি হবে এবং কোম্পানিগুলো আরো বেশি ব্যবসায়িক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের উপর তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ২০২৩ আবারও সংশোধন করে তামাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে পুণরায় লাল তালিকাভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
৩০ মে (বৃহস্পতিবার) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এই দাবি জানান। অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা পরিবেশ বাচাঁও আন্দোলন (পবা), বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা), তামাক বিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ) এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্ট। পবা’র নির্বাহী সভাপতি ডাক্তার লেনিন চৌধুরী অনুষ্ঠানে সভাপ্রধান ছিলেন।
মূল প্রবন্ধে ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট’র হেড অব প্রোগ্রাম সৈয়দা অনন্যা রহমান বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ২০২৩-এ তামাক কোম্পানিকে লাল শ্রেণি থেকে সরিয়ে কমলা শ্রেণীভূক্তকরণ তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের দৃঢ় প্রত্যয় এবং নানাবিধ ইতিবাচক পদক্ষেপকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে পরিবেশ দুষণকারী একটি তামাক কোম্পানী দীর্ঘদিন ধরে বায়ূ দূষণ করছে। ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনার জন্য সরকারের যখন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন সে মূহুর্তে তামাক কোম্পানীকে এ ধরনের ছাড় দেয়ার পিছনে যৌক্তিক কোন কারণ নেই।
লেনিন চৌধুরী বলেন, তামাক কারখানাগুলো লাল থেকে কমলা শ্রেণিতে নিয়ে আসার জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার পাশাপাশি ফসলী জমিতে তামাক চাষ নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন।
ফরিদা আখতার বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো দীর্ঘ মেয়াদে ভোক্তা তৈরি করার জন্য শিশু এবং তরুণদেরকে টার্গেট করছে। জর্দা গুলসহ সকল ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য তৈরির কারখানা স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই সহজ শর্তে উদ্যেক্তাদের সুযোগ করে দিচ্ছে।
হেলাল আহমেদ বলেন, তামাক চাষ খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তামাক চাষের জমিগুলোতে পরিবেশ কর আরোপ করা প্রয়োজন।
হামিদুল ইসলাম হিল্লোল বলেন, প্রতি বছর প্রায় এক লাখ ৬১ হাজার মানুষ তামাকজনিত রোগে মৃত্যুবরণ করে, যা কোভিডে আক্রান্ত মৃত্যু সংখ্যার প্রায় ১৩ গুণ। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক প্রত্যয় বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকারের এ মন্ত্রণালয়টি কেন লাল থেকে কমলা শ্রেণিতে নিয়ে এলো সেটি ভাবনার বিষয়।
তামাক কারখানায় পরিবেশ আইন প্রয়োগের সীমাবদ্ধতা ও করণীয় শীর্ষক আলোচনায় পবা’র সহ-সাধারণ সম্পাদক এম এ ওয়াহেদ রাসেল সঞ্চালনা করেন।
তামাক/এমএএম/কিউটি
আরও খবর পড়তে: artnewsbd.com
আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD















Leave a Reply