শ্রীঘরে রিয়া চ্যাটার্জী

শেষ রক্ষা হলো না। সুশান্ত সিং রাজপুত ইস্যুতে শ্রীঘরের চৌকাঠ মাড়াতেই হচ্ছে রিয়া চ্যাটার্জীকে। মাদক সংশ্লিষ্টতায় ফাঁসলেন সুশান্তের গার্লফ্রেন্ড। জামিন আবেদন বাতিল হওয়ায় ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে থাকতে হবে মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো (এনসিবি)-এর জেলে।

তবে আজ বুধবার দায়রা আদালতে তার জামিনের জন্য হাজির হবেন আইনজীবী।

এর আগে, রোববার ও সোমবার ব্যাপক জেরার মুখে ছিলেন রিয়া। এরপর মঙ্গলবার তাকে এনসিবি দফতরে ডেকে এনে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পরপরই হয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা।

ভারতের গণমাধ্যমগুলো জানালো, দেশটির মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো (এনসিবি) রিয়াকে জর্জরিত করেছে প্রশ্নবাণে। রিয়ার ভাই সৌভিক চ্যাটার্জী আগেই ধরা পড়েছে এনসিবি’র জালে। দুই ভাই-বোনই মাদক ইস্যুতে তথ্য ভাণ্ডার বলে মনে করছে সংস্থাটি।

জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ভেঙে পড়তে শুরু করেছেন রিয়া। বলিউড পাড়ার মাদকসেবীদের নাম বলতে শুরু করেছেন এই হট গার্ল। সংখ্যাটা ইতোমধ্যে দুই ডজন ছাড়িয়েছে।

রিয়া জানিয়েছেন ২৫ জনের নাম। থলিতে আছে আরও কিছু। মাদকচক্রে জড়িত যাদের নাম বলেছেন সবাই তারা বলিউডের শিল্পী, পরিচালক ও প্রযোজক। এদের অনেকেরই রয়েছে তারকা ইমেজ।

রিয়ার ভাষ্য, বাড়িতেই থাকতো গাঁজার মজুদ। সুশান্ত সিং রাজপুতের কাছে সেখান থেকে গাঁজা পৌঁছে দিতেন দীপেশ সাওয়ান্ত।

তবে এমন তথ্যে উজ্জীবিত না হওয়ার আহ্বান রিয়ার আইনজীবীর। রিয়ার রোমান্সের কেমিস্ট্রিটা জমে ওঠার আগে থেকেই সুশান্ত মাদকাসক্ত হয়েছিলেন, এমনটাই দাবি রিয়ার আইনজীবী সতীশ মানসিন্দে।

সতীশ হাজির করেছেন পুরনো তথ্য। বলছেন, সুশান্ত ধোয়া তুলশী পাতা নন। ২০১৬-১৭ সালে কেদারনাথ চলচ্চিত্রের শ্যুটিং চলাকালে সুশান্ত নিয়মিত নিজেকে গাঁজায় সমর্পণ করতেন। এ সব খবর রিয়ারও অজানা ছিল না।

আইনজীবী তার বক্তব্য শেষ করেন এই বলে, চিকিৎসকের নিষেধ শোনেননি সুশান্ত। তাদের বারণ সত্ত্বেও তিনি মাদক থেকে দূরে থাকেননি। তার জীবনে রিয়া আসার অনেক আগে থেকেই মাদককে আপন করে নিয়েছিলেন সুশান্ত।

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু তদন্ত যেদিকেই গড়াক, সহসাই ছাড়া পাচ্ছেন না রিয়া। বরং জল ঘোলা হবে আরও।

রিয়া যে তালিকা দিচ্ছেন এনসিবি-কে, তাতে শুধু বলিউডের সেলিব্রেটিই নন, জড়িয়ে যাচ্ছেন বেশ কয়েকজন রাজনীতিকও। কয়েক দিনের মধ্যে এদের সবাইকে ডাকা হবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য, এমনটাই বলছেন এনসিবি কর্মকর্তারা।

এনসিবি খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছে বলিউডি পার্টিতে মাদক চালানে রিয়ার ভূমিকা। তাদের ধারণা, মাদক চেইনে রিয়ার অবস্থান জানা গেলে পুরো সিন্ডিকেটটাই চিহ্নিত হবে। ফলে নজরদারিতে পড়েছেন মুম্বাইয়া রঙিন দুনিয়ায় রিয়ার ঘনিষ্ঠ অভিনেতা আর অভিনেত্রীরাও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *