নিউজ ডেস্ক: সুন্দরবনের খুলনা অংশে বেঙ্গল টাইগারের আনাগোনা বেশ কমে গিয়েছিল। গতবার ওই এলাকার প্রায় দুই হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় জরিপ করে পাওয়া গিয়েছিল মাত্র দুটি বাঘ। তবে আশার কথা, সেই এলাকায় আবার বাঘ বাড়তে শুরু করেছে। চলতি বছর শুরু হওয়া বাঘ জরিপে খুলনা অংশে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫টি বাঘ দেখা গেছে। দুই বাচ্চাসহ বাঘের একাধিক পরিবার দেখা গেছে। ওই এলাকায় বাঘের প্রধান খাবার হরিণের সংখ্যাও আগের তুলনায় বেড়েছে।
সুন্দরবনের প্রায় চার হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় চলমান জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পেয়েছে বন বিভাগ।
বন বিভাগের জরিপকারী দলটি বলছে, সাধারণত সুন্দরবনের সাতক্ষীরা অংশে সব সময়ই বাঘ বেশি দেখা যায়। এবার সেখানেও গতবারের চেয়ে বেশি বাঘ দেখা গেছে। শিশু বাঘের সংখ্যাও গতবারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সামগ্রিকভাবে গতবারের চেয়ে এবার সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়তে পারে।
বন বিভাগ সূত্র বলছে, এবার জরিপের অন্যতম উদ্দেশ্য-সুন্দরবনে বাঘ কম আছে এমন এলাকা, যেমন খুলনায় বাঘের সংখ্যা বাড়ানো। এ জন্য যেখানে বাঘ বেশি আছে, সেখান থেকে এনে খুলনা অঞ্চলে ছাড়া হবে। তবে জরিপে এবার খুলনা অংশে ধারণার চেয়ে বেশি বাঘ পাওয়া গেছে। এখন প্রকল্পের উদ্দেশ্য পরিবর্তন করে খুলনায় থাকা বাঘের সুরক্ষা দেয়ার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে।
সুন্দরবনের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলাকে মোট চারটি এলাকায় ভাগ করে জরিপটি করা হচ্ছে। এই কাজে বনের বিভিন্ন স্থানে ১ হাজার ২০০টির বেশি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ওই ক্যামেরার সামনে আসামাত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাঘের ছবি ওঠে। ওই ছবি বিশ্লেষণ করে বাঘের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। শারীরিক গঠন অনুযায়ী বাঘের গায়ের ডোরাকাটা দাগ ভিন্ন ভিন্ন হয়। ওই ধরন দেখে বাঘের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। আর সুন্দরবনের খালে সাধারণত সব বাঘ পানি খেতে আসে। এতে খালের পাড়ে বাঘের পায়ের ছাপ পড়ে। বাঘের ধরন অনুযায়ী ওই ছাপ ভিন্ন হয়। এভাবে পায়ের ছাপ দেখেও বাঘের সংখ্যা গোনা হয়।
জরিপের অংশ হিসেবে সুন্দরবনের ১ হাজার ২০০টি খাল সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। আগের জরিপগুলোতে খালের দুই পাশের প্রতি দুই কিলোমিটার এলাকায় একটি বাঘের পায়ের ছাপ দেখা গিয়েছিল। এবার প্রতি কিলোমিটারে একটি ছাপ দেখেছে গবেষক দলটি। এই ছাপ সুন্দরবনের বাঘের বিচরণ বৃদ্ধি ইঙ্গিত করে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনে দস্যুরা নিয়মিত বাঘ শিকার করত। যৌথ অভিযান ও টহল বাড়ানোর ফলে বাঘ সুরক্ষা পাচ্ছে। বাঘের প্রজননহারও বেড়েছে। ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর বাঘের আক্রমণে দুই থেকে চারজন মানুষ মারা যেতেন। গত পাঁচ বছরে বাঘের আক্রমণে মানুষের মৃত্যু কমেছে। দুই বছরে গড়ে দুজন বাঘের আক্রমণে মারা যাচ্ছেন, তাও বনের ভেতরে কোনও কাজে এবং মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। বাঘের আক্রমণে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই বনে অনুপ্রবেশকারী দলের সদস্য ছিলেন।
বন বিভাগ বলছে, সুন্দরবন বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় বাঘ গণনা করা হচ্ছে। গত বছরের ২৩ মার্চ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় প্রকল্পটির প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে। এর আওতায় সুন্দরবনের বাঘ স্থানান্তর, অন্তত দুটি বাঘের শরীরে স্যাটেলাইট কলার স্থাপন ও পর্যবেক্ষণ, বাঘের পরজীবী সংক্রমণ ও অন্যান্য ব্যাধি এবং মাত্রা নির্ণয়, উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হবে।
এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক আবু নাসের মোহসিন হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের পুরো জরিপ চলতি বছরের আন্তর্জাতিক বাঘ দিবসের (২৯ জুলাই) আগে শেষ হবে। ওই সময়ের মধ্যে আমরা জরিপের ফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করব।
বাঘশুমারি/এমএএম
আরও খবর পড়তে: artnewsbd.com
আর্ট নিউজ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে: ARTNews BD
















Leave a Reply