ছাদবাগান উচ্ছেদের নোটিশ!

ফুল ভালবাসে না, গাছ ভালবাসে না… এমন নির্দয়, পাষণ্ড মানুষও আছেন এই শহরে। রাজধানীর জাপান গার্ডেন সিটিতেই পাওয়া গেল এমন আজব মানুষের পাল। এরা ছাদবাগান উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছে। ধ্বংস করে দিতে চায় বাগান, প্রকৃতি আর মানুষের ভালবাসার স্থান।

বৃক্ষপ্রেমী বৃত্ত্বা রায় দীপা তার বাসার ছাদে গড়ে তুলেছিলেন বাগান। সেই বাগানের ফল-ফলাদি ছিল ভবনের সবার জন্য। ফুলের সৌরভ আর সৌন্দর্য্যও ছিল সবার। বাগানটি হয়ে উঠেছিল ছবি তোলার আদর্শ স্থান। ভেষজ গাছের ডাল পাতায় উপকৃত হয়েছেন প্রতিবেশীরা।

সেই বাগান নিয়ে প্রতিবেদন হলো চ্যানেল আইয়ের হৃদয়ে মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানে। অথচ সেই বাগান রক্ষা করা যাচ্ছে না। অর্বাচীনের দল বাগান উচ্ছেদে বাধ্য করছেন বৃত্ত্বা রায় দীপাকে।

কতো ইস্যু নিয়েইতো কতো জন আদালতে যান। অথচ আমাদের পরিবেশ ও জলবায়ুবিরোধী মানুষগুলোর বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার কেউ নেই। আদালতে একটি রিট করার মত কেউ নেই পুরো মোহাম্মদপুরে, বা এই শহরে। বাগান ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কেউ নেই।

মনোকষ্ট নিয়ে বৃত্ত্বা রায় দীপা তার ফেসবুক টাইম লাইনে পোস্ট দিয়েছেন: “আজ আমার ছাদবাগান নিয়ে চ্যানেল আই প্রতিবেদন প্রচার করেছে। বিষয়টি আমার কাছে স্বপ্নের মতো! এই দিনটি হতে পারতো আমার ও আমার পরিবারের জন্যে আনন্দ উদযাপনের দিন। কিন্তু প্রকৃত অর্থে তা হয়নি। কারণ হলো, আমার এই পরম শান্তির জায়গা আমার ছাদবাগানটি শেষ পর্যন্ত তুলে দিতে হচ্ছে! এপার্টমেন্ট কমিটির কয়েকজনের প্রবল আপত্তিতে আমি কিছুতেই বাগানটি ছাদে রাখতে পারছিনা। তাদের কথামতো বাগান সরিয়ে ছাদ ফাঁকা করে পরিষ্কার করে দেব। বাগান আপাতত সাভারে এক সুহৃদের বাড়িতে নিয়ে যাব। পরে যা করা যায় তা করবো।

বর্তমান সময়ে দুনিয়া জুড়ে মানুষ জৈবপ্রকৃতি রক্ষায়, মানুষের জীবন বাঁচাতে বৃক্ষায়ন, নগরকৃষি, ছাদবাগান করায় মনোযোগী হয়েছে। মানুষ এসব নিয়ে গণ আন্দোলন করছে, গণসচেতনতা গড়ে তুলছে। অপরপক্ষে কতিপয় গণ্ডমূর্খ, কূপমণ্ডূক, হিংসুক, পরশ্রীকাতর, গোঁয়ারের একগুঁয়েমির কারণে আমি বাগানটা ছাদে রাখতেই পারলাম না। শাইখ সিরাজ ভাই, জামাল উদ্দিন স্যার কেউই কিছু করতে পারলেন না। অথচ এপার্টমেন্ট কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষেই ছাদবাগানটি করা হয়েছিল। আমার অপরাধ, বাগানটি পরিসরে বড় হয়েছে দুবছরে। এই বাগান এই ভবনের সবার জন্যে উন্মুক্ত। এর ভেষজ কর্নার থেকে সবাই প্রয়োজন মতো পাতা সংগ্রহ করতে পারে। যাকিছু সামান্য ফলফসল আসে তা সবার মাঝে সাধ্যমতো বিতরণ করা হয়, সবাই খুশিমতো বাগানে ফটোসেশান করতে পারে। তবুও কিছু অতিভদ্রলোকের কারণে এত সুন্দর বাগানটি প্রকৃতপক্ষে উচ্ছেদ হয়ে গেল।

আমরা সবাই কি সভ্য তাইনা?????”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *