১৪ এপ্রিল ২০২১ (নিউজ ডেস্ক): বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক এবং পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান মারা গেছেন। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আজ দুপুর ২টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। গত ৮ এপ্রিল অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান করোনা আক্রান্ত হন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শামসুজ্জামান খানকে মানিকগঞ্জে মায়ের কবরে দাফন করা হবে।
এই ফোকলোরবিদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ডক্টর হাছান মাহুমদ এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ কজরেছেন।
অধ্যাপক শামসুজ্জামান খানের বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তিনি মানিকগঞ্জের সিংগাইরে চারিগ্রামে ১৯৪০ সালের ২৯ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
শামসুজ্জামান খান লোক সংস্কৃতি ও পল্লীসাহিত্যের গবেষক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা শিরোনামে ৬৪ খন্ডে ৬৪ জেলার লোকজ সংস্কৃতির সংগ্রহমালা সম্পাদনা এবং ১১৪ খন্ডে বাংলাদেশের ফোকলোর সংগ্রহমালা সম্পাদনা করেন।
শামসুজ্জামান খানের বাবা এমআর খান ছিলেন বিখ্যাত অনুবাদক। তার দাদার দাদা এলহাদাদ খান এবং তার ভাই আদালাত খান ঔপনিবেশিক ভারতে আলোচিত বুদ্ধিজীবী ছিলেন।
শামসুজ্জামান খান মাত্র দু’বছর বয়সে বাবাকে হারান। তার মা এবং দাদি তাকে লালন-পালন করেন।
তিনি ১৯৬৩ ও ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে অনার্সসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৬৪ সালে মুন্সীগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসাবে যোগদান করেন। একই বছর তিনি জগন্নাথ কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেন।
২০০৯ সালের ২৪ মে শামসুজ্জামান খান বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হন। তার পদের মেয়াদ তিনবার বাড়ানো হয়, যা ২০১৮ সালের ২৩ মে শেষ হয়। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর তিনি কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’-এর অধ্যাপক পদে নিয়োগ পান।
অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান ২০০৯ সালে একুশে পদক ও ২০১৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়া তিনি ১৯৮৭ সালে অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার ও কালুশাহ পুরস্কার, ১৯৯৪ সালে দীনেশচন্দ্র সেন ফোকলোর পুরস্কার, ১৯৯৮ সালে আব্দুর রব চৌধুরি স্মৃতি গবেষণা পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে দেওয়ান গোলাম মোর্তজা পুরস্কার, ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী জাতীয় গবেষণা পুরস্কার, ২০০৪ সালে মীর মশাররফ হোসেন স্বর্ণপদক লাভ করেন।
শামসুজ্জামান খান/টিটি/আরএম















Leave a Reply