২৩ নভেম্বর ২০২০ (নিউজ ডেস্ক): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ডিসেম্বরের বৈঠকে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর একে আবদুল মোমেনকে উদ্ধৃত করে বাসস এ তথ্য জানিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভার্চুয়াল বৈঠকের সময় চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে সমঝোতা চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী ইন্ডিয়ান লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি)’র আওতায় ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধন করতে পারেন।
দুই প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ভার্চুয়াল শীর্ষ বৈঠকটি ডিসেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে হতে পারে। সম্ভাব্য তারিখ ১৬ অথবা ১৭ ডিসেম্বর।
ডক্টর মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনার আগে বৈঠকের এজেন্ডা চূড়ান্ত করতে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন নয়াদিল্লি সফর করবেন।
গেল সেপ্টেম্বরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে ষষ্ঠ যৌথ পরামর্শ কমিশনের (জেসিসি) বৈঠকের আগে ডক্টর মোমেন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী বৈঠকে কিছু দ্বি-পক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত বছরের ৫ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে সব শেষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এই বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের কথা থাকলেও কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে সফরটি বাতিল হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকা নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপনে যোগ দিতে ২৬ মার্চ সশরীরে এখানে সফরে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা তাকে (নরেন্দ্র মোদি) আমন্ত্রণ জানিয়েছি এবং তারা আমন্ত্রণটি নীতিগতভাবে গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ ও ভারত আগামী বছর একসাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করবে।
এর আগে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী জানিয়েছেন, ডিসেম্বরে হাসিনা-মোদি শীর্ষ ভার্চুয়াল বৈঠককে এখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সশরীরে সফরের বিকল্প হিসাবে দেখা হচ্ছে না।
বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের নেতারা একে ‘সোনালী অধ্যায়’ ও ‘রক সলিড’ হিসাবে অভিহিত করছেন।
নয়াদিল্লি ও ঢাকা অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন সংক্রান্ত অনিষ্পন্ন ইস্যুতে আলোচনার জন্য চলতি বছরে মন্ত্রী-পর্যায়ে যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) বৈঠক করবে বলে আশা করছে।
গত ৫ নভেম্বর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাংলাদেশকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের ৩০ মিলিয়ন ডোজ সরবরাহের জন্য সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশের বেক্সিমকো ফার্মার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
দুই দেশ কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যেও এয়ার বাবল অ্যারেঞ্জমেন্টের আওতায় বিমান যোগাযোগও স্থাপন করেছে।
মোমেন/টিটি/কিউটি
















Leave a Reply